Taslima: ‘আর কতদিন বামেরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলবে…’, কলকাতায় আসা নিয়ে বিতর্কে জবাব তসলিমার

১ অগস্ট কলকাতায় আসছেন তসলিমা নাসরিন। যদিও তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আর এই নিয়েই একটি দীর্ঘ পোস্টে তসলিমা লিখলেন, ‘এই বামরা কি কোনও দিন মানুষ হবেন না? আর কত দিন তাঁরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলে যাবেন?’

Published on: Jul 20, 2026, 11:00:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আগামী ১ অগস্ট কলকাতায় আসছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যদিও বহু আগেই তিনি নিজ দেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। আপাতত থাকছেন দিল্লিতে। বহুদিন ধরেই আক্ষেপ ছিল বাঙালি হয়েও কলকাতায় প্রবেশের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাঁর থেকে বামেরা। এমনকী, তৃণমূল সরকার তাঁদের ১৫ বছরেও তসলিমাকে কলকাতায় পা রাখার অনুমতি দেননি। তবে পালা বদলের পর বঙ্গে বিজেপি আসতেই অবস্থার বদল। যদিও বিজেপি সরকারের কোনো অনুষ্ঠানে নয়, তসলিমা আসছেন ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে। সম্প্রতি নিজের একটি ফেসবুক পোস্টে বামেদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি। দাবি, এত বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তিনি, কিন্তু কিছু বাম নেতা সেটাকে নিয়েও তির্যক মন্তব্য করছেন। তসলিমার দাবি তিনি যে মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চান, তা পছন্দ নয় বামেদের।

বামেদের পালটা আক্রমণ তসলিমা নাসরিনের।
বামেদের পালটা আক্রমণ তসলিমা নাসরিনের।

তসলিমা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না। আমাকে কি পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে যাচ্ছে? না। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকার শুধু আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। আমি যে রাজ্যেই যাই, সেখানে যে রাজনৈতিক দলেরই সরকার থাকুক না কেন, সেই সরকারই আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এটাই স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন—আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি! তাঁরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন; এখন আমি সেই রাজ্যে পা রাখা মানেই নাকি আমি হিন্দুত্ববাদী, আমি বিজেপি আর এস এস।’

তসলিমা প্রশ্ন তোলেন, বহুবার তিনি কেরালার বাস সরকারের আমলে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে গিয়েছেন। সেখানে তাঁর জন্য জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। কেন তখন কলকাতার বাম নেতারা তাঁকে ‘বামপন্থী’ বলে গালি দেননি। এখন তাহলে তাঁর গায়ে কেন দেওয়া হচ্ছে ‘আরএসএস’ তকমা?

‘লজ্জা’ লেখিকার দাবি, ‘আসলে আমরা যারা মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চাই, মুসলিমদের শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে চাই, ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত করতে চাই, নারীর সমানাধিকার ও মানবাধিকার চাই, বৈষম্যমূলক ইসলামী আইনের বদলে সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রণীত আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই—বাম নেতাদের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেন না। তাঁরা চান মুসলিম সমাজ চোদ্দশো বছর আগের নারীবিদ্বেষী, ধর্মান্ধ ও অসহিষ্ণু সমাজ হিসেবেই পড়ে থাকুক। মুসলিম সমাজের সংস্কার যাঁরা চান, তাঁদের তাঁরা শত্রু মনে করেন; এবং আমরা সকলেই জানি ইসলামী মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে তাঁদের কোনও দ্বিধা নেই। এই কারণেই আমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরা নিয়ে তাঁদের এত রাগ, এত ক্ষোভ, এত মিথ্যে প্রচার। এই বামরা কি কোনও দিন মানুষ হবেন না? আর কত দিন তাঁরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলে যাবেন?’

তসলিমা তাঁর পোস্টে লেখেন কিছু ‘আঁতেল’ বাম সমর্থক দাবি করে, তিনি নাকি সাহিত্য রচনা করতে পারে না! ঠিক যেমন করে বাংলাদেশের জিহাদিরা। লেখিকার দাবি, তিনি খুব খারাপ সাহিত্যিক মেনে নিলেও কি, মাথার মূল্য ঘোষণা করা যায়? শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, গোটা বাংলা থেকেই তাঁকে নির্বাসিত করা যায়? নির্বাসিত করা বৈধ? একজন লেখকের সাহিত্যমানের বিচার করবেন পাঠক ও সময়, কিন্তু সেই লেখকে হত্যার হুমকি দেওয়া বা নির্বাসনে পাঠানো কীভাবে ঘটতে পারে কোনো সভ্য সমাজে।

‘মুক্তচিন্তা, উদারতা ও সহিষ্ণুতা—এসবকে এই বাম আঁতেলরা নিজেদের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেন না। আসলে আমার একটিই দোষ—তাঁরা ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন, আমি করি না। ইসলামের সমালোচনা করার অধিকারকে তাঁরা বাক্‌স্বাধীনতা বলে মানতে পারেন না। তাঁদের যাবতীয় উদারতা ইসলামের দরজায় এসে শেষ হয়ে যায়।’, আরও লিখেছেন তসলিমা।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More