Anik Dutta: অনীক দত্তর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ টলিউড, শোক প্রকাশ করলেন প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণারা
Anik Dutta: বুধবার দুপুরে আচমকাই একটি খবরে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা টলিউড। কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় তাঁর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় অনীক দত্তর।
Anik Dutta: বুধবার দুপুরে আচমকাই একটি খবরে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা টলিউড। কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় তাঁর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় অনীক দত্তর। জানা গিয়েছে, বহুতলের ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে পুলিশ যেখানে পরিচালক লিখে গিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। এই ঘটনা যেন মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের পোস্ট
অনীক দত্তর মৃত্যুর খবর শুনে শোকস্তব্ধ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত কিছু বলার অবস্থায় নেই। তিনি শুধুমাত্র পরিচালকের একটি ছবি পোস্ট করে ভাঙা হৃদয়ের ইমোজি পোস্ট করেছেন। বোঝাই যাচ্ছে এই খবরে ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছেন তিনি।
একই অবস্থা পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়েরও। তিনি পরিচালকের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ভালো থেকো’। ব্যাস এইটুকুই লিখেছেন তিনি। অভিনেতা সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ভদ্রলোক প্রজাতিটি এমনিতেই বিলুপ্তপ্রায়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন অনীকদা। ওঁর ছবিতে যে বাঙালিয়ানা বা রসবোধ পেতাম, সেটা সত্যিই বিরল। সুদর্শন, ভদ্র এবং আপসহীন একজন মানুষ চলে গেলেন।’
অভিনেত্রী ঋ লেখেন, ‘গত সপ্তাহেই অনীকদা আমায় ফোন করেছিলেন এবং আমার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি নিজের একাকিত্বের কথা জানিয়েছিলেন এবং এও বলেছিলেন, কারও কাছে ওঁর কথা শোনার সময় নেই। তিনি আর কোনও সিনেমা তৈরি করবেন না বলেছিলেন। সরি অনীকদা। আমি একেবারেই বুঝতে পারিনি যে তুমি ভেতর থেকে ভেঙে যাচ্ছ। বিদায়।’
পরিচালকের মৃত্যুতে সব থেকে বেশি ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘ভীষণ রাগ হচ্ছে তোমার উপর। কি উদাহরণ সেট করলে তোমার ভক্ত আর ফলোয়ারদের কাছে? এটা একেবারেই ঠিক হলো না। একদমই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। কমরেড ঠিক করলে না এটা আমাদের সঙ্গে। আবার অভিভাবকহীন হলাম।’
জয়জিৎ এবং অনন্যা চট্টোপাধ্যায় দুজনেই পরিচালকের বিদায় বেলায় শোকবার্তা জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রযোজক রানা সরকার লেখেন, ‘অপরাজিত অনীক দত্ত।’ অভিনেত্রী মৌবনী সরকার লিখেছেন, ‘খুব খারাপ লাগছে, অনীকদা।’ অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র যে এই খবরে একেবারে শোকোস্তব্ধ সেটা নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই বুঝিয়েছেন।
সংগীতশিল্পী অনিন্দ্য বসু লেখেন, ‘শেষবার দেখা হল যখন শরীর ভালো ছিল না তোমার। বললে আর ছবি বানাবো কিনা জানি না, শরীর দিচ্ছে না। প্রিয় মানুষকে অসুস্থ দেখে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সুস্থতা কামনা করে আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। আজ খবরটা পাওয়ার পর থেকে ভালো লাগছে না কিছু। একদম মর্মান্তিক চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না। যেখানেই থাকো, ভালো থেকো অনীক দা।’
কবি শ্রীজাত লেখেন, ‘মৃত্যু বহুদিনই খুব দৈনন্দিন আর স্বাভাবিক হয়ে গেছে যেন। বারেবারে যে ফিরে আসে, সে আকস্মিকতার মুকুট হারায় একদিন। মৃত্যু আজও রাজা, ঠিকই, কিন্তু মুকুটহীন। মৃত্যু সবকিছু বড় গড়পড়তা করে দিয়ে যায় একেক সময়ে। এ হলো তেমনই এক দিন। কলকাতার আকাশরেখা থেকে একটা হোর্ডিং কমে গেল, এই আর কী।’
অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী লেখেন, ‘জীবন বড় অনিশ্চিত। এই আছি, এই নেই । তবু তারই মধ্যে আমরা সারাক্ষণ লড়াই করে যাচ্ছি , বেঁচে থাকার লড়াই । এক মুহূর্তের জন্য আমাদের কারো কাছে সময় নেই আপনজনের দিকে তাকিয়ে দু দন্ড দেখার । আমরা সবাই যে খুব ব্যস্ত । কিন্তু এই ব্যস্ত জীবনের শেষে কি পাই আমরা ? সত্যি কি সুখ পাই ?সত্যি কি শান্তি পাই ? না, এই লড়াই করতে করতে আমরা শেষ হয়ে যাই, সুখ শান্তি কিছুই জোটে না আখেরে । তাহলে একটু থামি না, একটু থামি, পাশের মানুষটার জন্য কাছের মানুষটার জন্য । নিজের ভালো থাকাকে ভুলে একটু তাকিয়ে দেখি না আপনজনেরা ভালো আছে কিনা ? আপনারা কেউ বলবেন থামার সময় কই, কেউবা হয়তো বলবেন তাতে কি হবে, কিছু কি বদলাবে ? আসলে বড় বোকা আমি, পাওয়া না পাওয়ার হিসেবটা ঠিক বুঝি না, শুধু জানি আপনজনেদের জড়িয়ে থাকলে যে শান্তি পাব , তা আর কিছুতেই নেই।’
E-Paper

