৭১৭ মদের দোকানে তালা, এবার মদ বিক্রির বয়সসীমা নিয়ে কড়া নতুন মুখ্যমন্ত্রী!
তামিলনাড়ুর রাজনীতি এবং সমাজব্যবস্থায় এক বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেতা তথা রাজনীতিক বিজয়। তাঁর দলের পক্ষ থেকে রাজ্যে মদের দোকানের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছে।
রুপোলি পর্দার ‘থালাপথি’ এবার রাজনীতির ময়দানেও ‘অ্যাকশন’ মুডে। তামিলনাড়ুর মদ্যপান সমস্যা নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন অভিনেতা বিজয়। সম্প্রতি রাজ্যে বেশ কিছু সরকারি মদের দোকান (TASMAC) বন্ধের জোরালো দাবির পর, এবার তাঁর লক্ষ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ্যপান রোখা। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বিজয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মদ বিক্রির ক্ষেত্রে ২১ বছরের বয়সসীমার যে আইনি নিয়ম রয়েছে, তাতে কোনওভাবেই ঢিলেমি দেওয়া চলবে না।

মদমুক্ত তামিলনাড়ুর লক্ষ্যে:
বিজয়ের রাজনৈতিক দল TVK-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র মদের দোকান বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নজর দিতে হবে যাতে কমবয়সী ছেলেমেয়েরা এই নেশার কবলে না পড়ে। তামিলনাড়ুর বর্তমান আইন অনুযায়ী, ২১ বছরের নিচে কারও কাছে মদ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিজয়ের দাবি, প্রতিটি দোকানে পরিচয়পত্র যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
কেন এই কঠোরতা?
তামিলনাড়ুতে গত কয়েক বছরে বিষমদ এবং অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপানের ফলে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটেছে। বিজয় মনে করেন, একটি সুস্থ সমাজ গড়তে গেলে যুবসমাজকে নেশামুক্ত রাখা জরুরি। তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও ‘ধাপে ধাপে মদ নিষিদ্ধকরণ’-এর কথা বলা হয়েছে। বিজয়ের এই অবস্থান একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়োচ্ছে, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের জন্য তৈরি করছে বড় চ্যালেঞ্জ।
চাপে প্রশাসন:
বিজয়ের অনুরাগী সংখ্যা লক্ষাধিক, যার বড় অংশই তরুণ প্রজন্ম। প্রিয় তারকার এই ‘অ্যান্টি-লিকার’ অবস্থান যুবসমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সমাজতত্ত্ববিদরা। বিজয় প্রশাসনকে সাফ বার্তা দিয়েছেন— রাজস্ব আদায়ের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি দামী।
রাজনীতি ও সমাজসেবা:
অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে আসার ঘোষণা করার পর থেকেই বিজয় একের পর এক জনকল্যাণমুখী ইস্যুতে সরব হচ্ছেন। মদের দোকান বন্ধ করা এবং বয়সসীমা কঠোর করার এই দাবি কেবল রাজনৈতিক চমক নাকি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, তা সময়ই বলবে। তবে ‘থালাপথি’ যে নিজের লক্ষ্যে অবিচল, তা তাঁর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকেই পরিষ্কার।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


