Didi No 1 Rachana or Swastika: মমতাকে ধোঁকা দিয়ে অন্য দলে, দিদি নম্বর ১ থেকেও এবার বাদ রচনা? বদলি স্বস্তিকা!
দিদি নম্বর ১ আর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় পরস্পরের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। তবে এবার নাকি এই শো থেকেই ‘বাদ’ পড়তে চলেছেন রচনা!
বাংলার টেলিভিশন জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দীর্ঘতম রিয়েলিটি গেম শো ‘দিদি নম্বর ১’ (Didi No. 1)-এর মঞ্চে এবার হয়তো এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে চলেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে শো-এর সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় , সেই শো থেকে এবার নাকি তাঁর বিদায় নেওয়ার পালা! টলিপাড়া থেকে শুরু করে স্টুডিও পাড়ার অন্দরে এখন জোর গুঞ্জন— আগামী নতুন সিজনে আর সঞ্চালকের আসনে দেখা যাবে না রচনাকে। শীঘ্রই আসতে চলেছে দিদি নম্বর ১ সিজন ১০। আর নতুন সিজনের জন্য চ্যানেল নাকি আনতে চলেছে নতুন মুখ।

রাজনৈতিক সমীকরণের জেরেই কি এই সিদ্ধান্ত?
হুগলির সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে হঠাৎ এই জল্পনা তৈরি হওয়ার পেছনে কাজ করছে এক বড় রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের পাঠ চুকিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের দলে নাম লিখিয়েছেন রচনা, যোগ দিয়েছেন এনসিপি-তে। জনমানসে রচনা-কে নিতে এখন নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, এর জেরেই কি ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ থেকে তাঁকে ছাঁটাই করা হচ্ছে? উল্লেখ্য, এই মঞ্চেই একসময় উপস্থিত হয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখনও দিদির হাত ধরে রাজনীতির ময়দানে আসেননি রচনা। মমতা এই শো-এ পা রাখার দিন কয়েক পরই তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন রচনা। দু-বছর যেতে না যেতেই মোহভঙ্গ তাঁর। রচনা আপতত জনতার নেকনজরে নেই, তাছাড়া রচনা নাকি রাজনৈতিক ব্যস্ততার জেরে দিদি নম্বর ১-এ বিশেষ সময় দিতে পারছিলেন না গত কয়েক মাসে। তাই শ্বেতা ও রুবেল জুটিকে হাজির করেছিল চ্যানেল।
রচনার জায়গায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়?
ইন্ডাস্ট্রির একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যি এই শো থেকে সরে দাঁড়ান, তবে তাঁর জায়গায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার গুরুদায়িত্ব পেতে পারেন টলিউডের ডাকাবুকো ও স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নাকি ইতিমধ্যেই স্বস্তিকাকে এই কাজের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্বস্তিকার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতা দর্শকদের বরাবরই পছন্দের, তাই রচনার যোগ্য বিকল্প হিসেবে তাঁর নামই সবার প্রথমে উঠে এসেছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জি বাংলা (Zee Bangla) চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কিংবা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের তরফ থেকে কোনও অফিশিয়াল প্রতিক্রিয়া বা সিলমোহর দেওয়া হয়নি। এই ব্যাপারে নায়িকার সঙ্গে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত।
দর্শকদের মনে তীব্র ধোঁয়াশা
এই গুঞ্জন নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বহু বছর ধরে বাংলার ঘরে ঘরে মানুষ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি’ হিসেবে দেখে অভ্যস্ত, তাই তাঁর বিদায়ের খবর নেটিজেনদের একাংশকে বেশ হতাশ করেছে। দর্শকদের একটা বড় অংশই চান রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যেন আবার ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চে সঞ্চালকের মুকুট পরে ফিরে আসুন। এখন দেখার, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


