Quote of the Day: ‘ভবিষ্যৎবাণী করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো’, আব্রাহাম লিঙ্কনের এই কথা খুব দামি
Quote of the Day: আমরা প্রায়শই ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকি অথবা ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু লিঙ্কন বিশ্বাস করতেন, মানুষের ইচ্ছা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কাজ আজ করা হয়, তা-ই আগামীদিনের ইতিহাস বা ভবিষ্যৎ হিসেবে ধরা দেয়।
Quote of the Day: ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে যারা কেবল একটি দেশ নয়, বরং গোটা মানবজাতির চিন্তাধারা বদলে দেন। আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। ক্রীতদাস প্রথার অবসান ঘটানো থেকে শুরু করে গৃহযুদ্ধে দীর্ণ আমেরিকাকে একত্রিত করা—তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সাহসিকতা আর দূরদর্শিতার পরিচয়।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
"ভবিষ্যৎবাণী করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো— নিজের ভবিষ্যৎ নিজে তৈরি করা।" (The most reliable way to predict the future is to create it.)
ব্যাখ্যা: এই অমর উক্তির মাধ্যমে লিঙ্কন আমাদের কর্মতৎপর হতে শিখিয়েছেন। আমরা প্রায়শই ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকি অথবা ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু লিঙ্কন বিশ্বাস করতেন, মানুষের ইচ্ছা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কাজ আজ করা হয়, তা-ই আগামীদিনের ইতিহাস বা ভবিষ্যৎ হিসেবে ধরা দেয়। অর্থাৎ, আমরা যদি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই, তবে তার বীজ আজই বপন করতে হবে।
জীবনের কিছু অনুপ্রেরণামূলক অ্যানেকডোট (Anecdotes)
আব্রাহাম লিঙ্কনের জীবন ছিল সততা এবং মানবিকতার এক জীবন্ত পাঠ্যবই। তাঁর জীবন থেকে নেওয়া দুটি গল্প আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে:
১. 'অনেস্ট অ্যাবে' বা সৎ লিঙ্কন: রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনেক আগে লিঙ্কন যখন একটি দোকানে কেরানির কাজ করতেন, তখন একদিন এক মহিলা ভুল করে কয়েক সেন্ট বেশি দিয়ে যান। দোকান বন্ধ করার পর লিঙ্কন যখন সেই হিসাব মেলাতে গিয়ে ভুলটি বুঝতে পারেন, তখন তিনি মাইলখানেক পথ হেঁটে গিয়ে সেই মহিলার বাড়িতে টাকাটি ফেরত দিয়ে আসেন। এই ধরণের অগুনতি ঘটনার কারণেই তাঁর নাম হয়ে গিয়েছিল ‘Honest Abe’ বা ‘সৎ অ্যাবে’।
২. ব্যর্থতা যখন সাফল্যের সোপান: লিঙ্কনের জীবন ছিল ব্যর্থতার এক লম্বা তালিকা। তিনি ব্যবসা করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়েছেন, প্রিয়তমাকে হারিয়েছেন, নির্বাচনে অন্তত আটবার পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে ফিরে এসেছেন। একবার এক পরাজয়ের পর তিনি বলেছিলেন, "রাস্তাটি পিচ্ছিল ছিল, কিন্তু তা শেষ হয়ে যায়নি।" এই হার না মানা মানসিকতাই তাঁকে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।
৩. সেই ছোট্ট মেয়ের চিঠি: লিঙ্কনের বিখ্যাত দাড়ির পেছনে একটি মজার গল্প আছে। গ্রেস বেডেল নামে ১১ বছরের এক বালিকা তাঁকে চিঠি লিখে পরামর্শ দিয়েছিল যে, তাঁর মুখটা বড্ড রোগা, তাই তিনি যদি দাড়ি রাখেন তবে তাঁকে দেখতে আরও সুন্দর লাগবে এবং তিনি আরও বেশি ভোট পাবেন। লিঙ্কন সেই পরামর্শ মেনে দাড়ি রাখতে শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে সেই বালিকার সঙ্গে দেখাও করেছিলেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শৈশব: ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কেনটাকির একটি অতি সাধারণ কাঠের কুঁড়েঘরে আব্রাহাম লিঙ্কন জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের কারণে প্রথাগত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ তাঁর খুব একটা হয়নি। কিন্তু জ্ঞানের প্রতি তাঁর তৃষ্ণা ছিল প্রবল; তিনি মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে অন্যের কাছ থেকে বই ধার করে পড়তেন।
- রাজনৈতিক উত্থান: প্রথম জীবনে কাঠুরে, লস্কর এবং পোস্টমাস্টার হিসেবে কাজ করার পর তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ইলিনয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৮৬০ সালে তিনি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে আমেরিকার ১৬তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
- দাসপ্রথা বিলোপ ও গৃহযুদ্ধ: তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের সময় আমেরিকা গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে। একদিকে ইউনিয়ন রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে অমানবিক দাসপ্রথার বিলোপ—এই দুই কঠিন চ্যালেঞ্জ তিনি দক্ষতার সঙ্গে সামলান। ১৮৬৩ সালে তিনি ঐতিহাসিক ‘ইম্যান্সিপেশন প্রোক্লামেশন’ ঘোষণা করেন, যা ক্রীতদাসদের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।
- জীবনাবসান: ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনের ফোর্ড থিয়েটারে আততায়ী জন উইলকস বুথের গুলিতে তিনি আহত হন এবং পরদিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। আমেরিকার ঐক্য ও গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে অমর হয়ে আছেন।
আব্রাহাম লিঙ্কন কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহান দার্শনিক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেও আদর্শ আর সততার জোরে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে সত্যের পথে চলা কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেই পথই শেষ পর্যন্ত জয়ের দিকে নিয়ে যায়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


