মাটির ভাঁড়ে চা পান করলে শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে? পরের বার চুমুক দেওয়ার আগে জেনে নিন
মাটির ভাঁড়ে চা পান করলে কী হয়? পরের বার গর চায়ে চুমুক দেওয়ার আগে জেনে নিন।
মাটির ভাঁড় বা কুলহাঁড় (Kulhad)-এ চা পান করা ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা। মাটির ভাঁড়ে চায়ের স্বাদ এবং এর সুগন্ধ তুলনাহীন, যা চায়ের অভিজ্ঞতাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। তবে এই অভ্যাসের সঙ্গে আমাদের শরীরের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দিক থেকেও বহু উপকারিতা যুক্ত আছে। বিশেষত প্লাস্টিক বা কাগজের কাপের যুগে মাটির ভাঁড় একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে পরিচিত।

মাটির ভাঁড়ে চা পান করলে শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে, তা জেনে নিন।
১. স্বাস্থ্যগত প্রভাব: টক্সিন-মুক্ত এবং প্রাকৃতিক
মাটির ভাঁড়ে চা পান করার প্রধান সুবিধাটি হলো এটি রাসায়নিকমুক্ত।
- রাসায়নিকের ঝুঁকি নেই: প্লাস্টিক বা মোম-প্রলিপ্ত (Wax-coated) কাগজের কাপে গরম চা ঢালা হলে সেই কাপ থেকে কিছু ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ (যেমন প্লাস্টিকের কণা বা মোম) চায়ের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। কাঁচ বা মাটির ভাঁড়ে সেই ঝুঁকি একেবারেই নেই, কারণ মাটি একটি প্রাকৃতিক এবং রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় (Inert) উপাদান।
- ক্ষারীয় গুণ (Alkaline Properties): কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ভালো মানের ভাঁড়ে হালকা ক্ষারীয় গুণ থাকে। চায়ে যখন এই ভাঁড়ের গুণ মেশে, তখন এটি পানীয়ের অ্যাসিডিটি বা অম্লতা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার ঝুঁকি কমতে পারে।
- স্বাস্থ্যবিধি (Hygiene): মাটির ভাঁড় সাধারণত একবারই ব্যবহার করা হয় এবং ভেঙে ফেলা হয়। ফলে এটি পুনরায় ব্যবহারের সঙ্গে আসা জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।
২. স্বাদের ও সুগন্ধের প্রভাব
মাটির ভাঁড়ের ভেতরের সামান্য ছিদ্রযুক্ত (Porous) কাঠামো চায়ের স্বাদে একটি অনন্য মাত্রা যোগ করে।
- মাটির সুগন্ধ: গরম চা যখন মাটির ভাঁড়ের ভেতরে থাকা ছিদ্রযুক্ত দেওয়ালে প্রবেশ করে, তখন ভাঁড়ের একটি হালকা, মাটির সোঁদা গন্ধ বা "আর্থি অ্যারোমা" চায়ের সঙ্গে মিশে যায়। এই প্রাকৃতিক সুগন্ধ চায়ের স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মাটির ভাঁড় চা-এর উষ্ণতাকে প্লাস্টিকের কাপের চেয়ে বেশি সময় ধরে ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে চা বেশি সময় ধরে উপভোগ করা যায়।
৩. পরিবেশগত প্রভাব
মাটির ভাঁড় একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প:
- বায়োডিগ্রেডেবল (Biodegradable): মাটির ভাঁড় তৈরি হয় কাদা মাটি দিয়ে, যা ব্যবহারের পর সহজেই পরিবেশে মিশে যায় এবং কোনো বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি করে না। এটি প্লাস্টিক দূষণ এবং পরিবেশের উপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. সতর্কতা: গুণগত মান যাচাই
যদিও মাটির ভাঁড় নিরাপদ, তবুও নিম্নমানের ভাঁড় ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি:
- রং বা বার্নিশ: যদি ভাঁড়কে আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য কোনো রাসায়নিক রং বা গ্লেজিং বার্নিশ ব্যবহার করা হয়, তবে তা গরম পানীয়ের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই রঙবিহীন, প্রাকৃতিক ভাঁড় ব্যবহার করা উচিত।
মাটির ভাঁড়ে চা পান করা স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। এর প্রাকৃতিক সুগন্ধ চায়ের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে এবং এটি পরিবেশের জন্যও একটি টেকসই বিকল্প।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


