চপস্টিক দিয়ে খেলে কী হয়? স্বাস্থ্যের বিষয়টা জানলে চমকে যাবেন

চপস্টিক দিয়ে খাওয়া একটি সাংস্কৃতিক অভ্যাস হলেও, এর ব্যবহার শারীরিক এবং স্নায়বিক স্বাস্থ্যের ওপর কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Published on: Dec 16, 2025, 11:09:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চপস্টিক (Chopsticks) হলো পূর্ব এশীয় দেশগুলির প্রধান খাদ্য গ্রহণের সরঞ্জাম। পশ্চিমা দেশগুলিতেও এখন সুশি, নুডলস বা অন্যান্য খাবার খাওয়ার সময় চপস্টিকের ব্যবহার দেখা যায়। চপস্টিক দিয়ে খাওয়া একটি সাংস্কৃতিক অভ্যাস হলেও, এর ব্যবহার শারীরিক এবং স্নায়বিক স্বাস্থ্যের ওপর কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চপস্টিক দিয়ে খেলে কী হয়? স্বাস্থ্যের বিষয়টা জানলে চমকে যাবেন
চপস্টিক দিয়ে খেলে কী হয়? স্বাস্থ্যের বিষয়টা জানলে চমকে যাবেন

চপস্টিক দিয়ে খেলে স্বাস্থ্যের কী কী উপকার হতে পারে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতায় এর ভূমিকা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, জেনে নিন।

১. চপস্টিক ব্যবহারে স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি

চপস্টিক ব্যবহার করা একটি সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা (Fine Motor Skill) এবং এতে হাত ও চোখের সমন্বয় (Hand-Eye Coordination) প্রয়োজন। এই অভ্যাস স্নায়ুতন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে:

ক. সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা উন্নত করা

  • স্নায়বিক সংযোগ: চপস্টিক ব্যবহারের জন্য হাতের আঙুল, কবজি এবং বাহুর ছোট পেশীগুলিকে জটিল ও সুনির্দিষ্ট নড়াচড়া করতে হয়। এই প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স (Motor Cortex) অংশকে সক্রিয় করে তোলে, যা স্নায়ুর সংযোগগুলিকে (Neural Connections) শক্তিশালী করে।
  • বৃদ্ধ বয়সে উপকার: নিয়মিত চপস্টিক ব্যবহার করা বা এ ধরনের সূক্ষ্ম কাজ করা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং বার্ধক্যের সঙ্গে আসা জ্ঞানীয় পতনের (Cognitive Decline) গতি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়।

খ. মস্তিষ্কের দ্বিপাক্ষিক উদ্দীপনা (Bilateral Stimulation)

  • চপস্টিক ব্যবহার করার সময় মস্তিষ্কের বাম ও ডান গোলার্ধের মধ্যে সমন্বয় বাড়ে। এতে হাত ও চোখের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ঘটে, যা সামগ্রিক স্নায়বিক কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে তোলে।

২. স্বাস্থ্যগত অন্যান্য উপকারিতা

চপস্টিক ব্যবহার খাবারের পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ আনতে এবং হজমের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে:

ক. ধীরে ধীরে খাওয়া

চামচ বা কাঁটার চেয়ে চপস্টিক দিয়ে একসাথে কম খাবার তোলা যায়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাবারের গতি ধীর হয়ে যায়।

  • হজমের সুবিধা: ধীরে খেলে খাবার ভালোভাবে চিবানো হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: ধীরে খেলে মস্তিষ্ক পেট ভরা থাকার সংকেত দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা (Overeating) কমে আসে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয়।

খ. সচেতনভাবে খাওয়া (Mindful Eating)

  • চপস্টিক দিয়ে খাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে খাবারের প্রতি বেশি মনোযোগী হতে হয়। এর ফলে তিনি খাবারের স্বাদ, গন্ধ এবং গঠনের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। এই 'মাইন্ডফুল ইটিং' বা সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস খাবার উপভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করে।

৩. শেষ কথা

চপস্টিক ব্যবহার একটি মজাদার সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি স্নায়বিক স্বাস্থ্যকে উদ্দীপিত করতে এবং খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা উন্নত করার মাধ্যমে এটি মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে চপস্টিক ব্যবহার করা সরাসরি কোনো রোগ নিরাময় করবে না, কিন্তু এটি একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More