সকালে নাকি রাতে, কখন মাজলে ভালো থাকবে দাঁত? সত্যিটা অনেকেই জানেন না

কখন দাঁত মাজা সবচেয়ে ভালো? কখন মাজলেই ক্ষতি হতে পারে? জেনে নিন। 

Published on: Dec 15, 2025, 10:13:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দাঁত মাজা (Brushing) হলো মুখের স্বাস্থ্য (Oral Health) বজায় রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দিনে কতবার দাঁত মাজা উচিত—এই বিষয়ে সাধারণত দিনে দুবার (সকালে এবং রাতে) মাজার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে দাঁতের সুরক্ষার জন্য এই দুই বেলার মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কখন মাজলে দাঁতের ক্ষয় (Cavity) সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ করা যায়, তা নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার।

সকালে নাকি রাতে, কখন মাজলে ভালো থাকবে দাঁত? সত্যিটা অনেকেই জানেন না
সকালে নাকি রাতে, কখন মাজলে ভালো থাকবে দাঁত? সত্যিটা অনেকেই জানেন না

সকালে না রাতে, কখন দাঁত মাজলে সবচেয়ে বেশি উপকার হয় এবং দাঁত মাজার সঠিক সময় নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, জেনে নিন।

১. রাতের বেলা দাঁত মাজার গুরুত্ব: সুরক্ষার সময়

দাঁত মাজার দুটি সময়ের মধ্যে রাতের বেলা ঘুমানোর আগে দাঁত মাজা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ক. ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ

  • কারণ: দিনের বেলায় আমরা যাই খাই না কেন, সেই খাদ্য কণাগুলি দাঁতের ফাঁকে এবং মাড়িতে লেগে থাকে। এই কণাগুলি মুখের ভেতরকার ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য। ব্যাকটেরিয়াগুলি এই খাদ্য কণা হজম করার পর অ্যাসিড তৈরি করে।
  • বিপদ: রাতে যখন আমরা ঘুমাই, তখন লালার (Saliva) উৎপাদন কমে যায়। লালা প্রাকৃতিকভাবে মুখ পরিষ্কার রাখে এবং অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করে। লালা কম থাকায়, রাতে ব্যাকটেরিয়ার অ্যাসিডগুলি দাঁতের এনামেলকে আক্রমণ করার জন্য আরও বেশি সময় পায়।
  • সমাধান: ঘুমানোর আগে দাঁত মাজলে এবং ফ্লস (Floss) করলে খাদ্য কণা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা অনেকাংশে কমে যায়, যা রাতে অ্যাসিড আক্রমণ থেকে দাঁতকে রক্ষা করে।

২. সকালে দাঁত মাজার গুরুত্ব: সতেজতা এবং এনামেল সুরক্ষা

সকালের দাঁত মাজা মুখকে সতেজ করে এবং দিনের শুরুতেই সুরক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।

ক. ঘুম পরবর্তী ব্যাকটেরিয়া দূর করা

রাতে লালা কম নিঃসৃত হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সারারাত ধরে কাজ করে। সকালে দাঁত মাজলে সেই ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের অ্যাসিডিক বর্জ্য অপসারণ হয়।

খ. খাওয়ার আগে না পরে?

  • বিতর্ক: দাঁতের চিকিৎসকদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে যে সকালে খাবার খাওয়ার আগে না পরে ব্রাশ করা উচিত।
  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সকালে খাবার খাওয়ার আগে ব্রাশ করা ভালো। কারণ, খাবার খাওয়ার পর মুখের ভেতরের অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থায় ব্রাশ করলে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি খাওয়ার পর ব্রাশ করতেই হয়, তবে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত।

৩. কখন মাজলে ক্ষতি হতে পারে?

অতিরিক্ত ব্রাশ করা বা ভুল সময়ে ব্রাশ করা এনামেলের ক্ষতি করতে পারে।

  • অ্যাসিডিক খাবার: টক ফল, কফি বা সোডার মতো অ্যাসিডিক পানীয় পান করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাশ করা উচিত নয়। অ্যাসিড এনামেলকে নরম করে দেয়, ফলে তখনই ব্রাশ করলে এনামেল দ্রুত ক্ষয় হয়।

৪. উপসংহার: দিনের সেরা দুটি সময়

দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি সরল নিয়ম মেনে চলা উচিত:

  • ১ম অপরিহার্য সময়: রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে। (এটি এনামেলকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে)।
  • ২য় অপরিহার্য সময়: সকালে ঘুম থেকে উঠে (খাওয়ার আগে)। (এটি মুখ সতেজ করে এবং দিনের শুরুতে সুরক্ষা দেয়)।

এই দুটি সময় মেনে চললে এবং ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁত দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More