জলখাবারে নাকি দুপুরে ভাতের সঙ্গে— কখন ডিম খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে?
ডিম খাওয়ার সময় নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে। কেউ সকালে পাউরুটির সঙ্গে ডিম খেতে পছন্দ করেন, আবার কারোর পছন্দ দুপুরের গরম ভাতের সঙ্গে কষা ডিমের ডালনা।
ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির 'সুপারফুড'। সস্তা, সহজলভ্য এবং পুষ্টিতে ঠাসা এই খাবারটি আট থেকে আশি—সবার খাদ্যতালিকাতেই অপরিহার্য। কিন্তু ডিম খাওয়ার সময় নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে। কেউ সকালে পাউরুটির সঙ্গে ডিম খেতে পছন্দ করেন, আবার কারোর পছন্দ দুপুরের গরম ভাতের সঙ্গে কষা ডিমের ডালনা।

পুষ্টিবিজ্ঞানের বিচারে ডিম খাওয়ার সেরা সময় কোনটি? কখন খেলে শরীর সবচেয়ে বেশি প্রোটিন শোষণ করতে পারবে?
ডিম খাওয়ার সেরা সময়: সকালে নাকি দুপুরে?
চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম খাওয়ার জন্য সকালের জলখাবার (Breakfast) হলো সবচেয়ে আদর্শ সময়। কেন সকালকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তার প্রধান ৩টি কারণ দেখে নিন:
১. দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখা (Satiety)
ডিমে প্রচুর পরিমাণে উচ্চমানের প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। সকালে ডিম খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে দুপুরের খাবারের আগে বারবার খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য সকালে ডিম খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
২. মেটাবলিজম ও এনার্জি বুস্টার
সারারাত উপোসের পর সকালে শরীরের পুষ্টির প্রয়োজন হয়। ডিমের প্রোটিন শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি-১২ সারাদিন কাজ করার শক্তি জোগায়।
৩. পেশি গঠন ও মেরামত
ঘুমের সময় আমাদের শরীরের পেশিগুলোতে যে ক্ষয় হয়, সকালের ডিমের প্রোটিন তা দ্রুত মেরামত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য সকালের ডিম অপরিহার্য।
দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডিম খেলে কী হয়?
অনেকেই বাঙালির ঐতিহ্য মেনে দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডিমের ঝোল বা অমলেট খান। এতে যে উপকার নেই তা নয়, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
- পরিপাক: দুপুরে ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ডিম খেলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়।
- পুষ্টি শোষণ: সকালে খালি পেটে বা হালকা খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে শরীর যেভাবে পুষ্টি শোষণ করে, দুপুরের ভারী খাবারের সঙ্গে খেলে সেই শোষণের হার কিছুটা কমে যেতে পারে।
- ভারী অনুভূতি: অনেকের ক্ষেত্রে দুপুরের ভাতের সঙ্গে ডিম খেলে পেটে ভারী ভাব বা গ্যাস হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
কখন সাবধানে খাবেন?
রাতে ঘুমানোর আগে ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো। ডিমের প্রোটিন হজম হতে সময় লাগে, যা অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বা এসিডিটির সমস্যা তৈরি করতে পারে।
দরকারি কথা
আপনি যদি আপনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে সকালের জলখাবারে ডিম রাখুন। তবে আপনি যদি একজন সুস্থ ব্যক্তি হন এবং দুপুরের খাবারে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম রাখতে চান, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। আসল কথা হলো, দিনে অন্তত একটি ডিম খাওয়া আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য পরম উপকারী।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


