ডায়াবিটিসের রোগীরা আটার রুটি খেতে পারেন কি? ভালো করে জেনে নিন

ডায়াবিটিসের রোগীরা কি আটার রুটি খেতে পারেন? কী বলছে বিজ্ঞান? জেনে নিন। 

Published on: Dec 15, 2025 9:39 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ডায়াবেটিস (Diabetes) বা মধুমেহ রোগ হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Levels) বেড়ে যায়। এই রোগে আক্রান্তদের খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) বা শর্করা জাতীয় খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হয়। ভারতীয় খাদ্যতালিকায় আটার রুটি (Whole Wheat Roti/Chapati) একটি প্রধান উপাদান। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, ডায়াবেটিসের রোগীরা কি আটার রুটি খেতে পারেন?

ডায়াবিটিসের রোগীরা আটার রুটি খেতে পারেন কি? ভালো করে জেনে নিন
ডায়াবিটিসের রোগীরা আটার রুটি খেতে পারেন কি? ভালো করে জেনে নিন

ডায়াবেটিসে আটার রুটির ভূমিকা, এর পুষ্টিগুণ এবং খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য জেনে নিন।

১. আটার রুটি কেন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো?

ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কোনো খাবার ভালো কি না, তা নির্ভর করে সেই খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index - GI) এবং ফাইবার (Fiber) বা আঁশের পরিমাণের ওপর।

ক. উচ্চ ফাইবার উপাদান

  • গোটা শস্যের আটা: বেশিরভাগ রুটি তৈরি হয় আটা বা গোটা শস্যের ময়দা থেকে। এই আটা হলো ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস।
  • উপকারিতা: ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর ফলে খাবার থেকে গ্লুকোজ (Glucose) রক্তে ধীরে ধীরে শোষিত হয়। এর ফলস্বরূপ, খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়ে না, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খ. মাঝারি গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)

  • সাদা চালের ভাত বা পরিশোধিত ময়দার (Maida) তুলনায় আটার রুটির GI মাঝারি প্রকৃতির (সাধারণত ৫০-৭০ এর মধ্যে)। এর মানে হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে ধীরে বাড়ায়।
  • সাদা ভাত বনাম রুটি: সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের সাদা ভাতের চেয়ে আটার রুটি বা ব্রাউন রাইস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ভাতে GI বেশি এবং ফাইবার কম।

২. আটার রুটি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা

ডায়াবেটিসের রোগীরা আটার রুটি খেতে পারেন, তবে কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন:

ক. পরিমাণের নিয়ন্ত্রণ (Portion Control)

যেকোনো কার্বোহাইড্রেটই বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে। রুটির আকার এবং সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সাধারণত একটি মাঝারি আকারের রুটিতে প্রায় ১৫-২০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কার্বোহাইড্রেটের দৈনিক কোটা পূরণ করা উচিত।

খ. গ্লাইসেমিক লোড (GL)

  • GI-এর পাশাপাশি GL (Glycemic Load) বিবেচনা করা দরকার। রুটি কতটা খাচ্ছেন তার ওপর GL নির্ভর করে। ২-৩টি রুটির চেয়ে ১টি রুটি খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।

গ. রুটির সঙ্গে কী খাচ্ছেন?

  • রুটির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত খাবার (যেমন ডাল, সবজি, পনির, বা চিকেন) খাওয়া উচিত। প্রোটিন এবং ফাইবার কার্বোহাইড্রেট হজম প্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে সাহায্য করে।

ঘ. ময়দার মান

  • বাজারের কিছু প্যাকেজড আটাতে ময়দা (Maida) বা রিফাইন্ড ফ্লাওয়ার মেশানো থাকতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ১০০% গোটা শস্যের আটা (Whole Wheat Flour) ব্যবহার করা উচিত, যেখানে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে।

ডায়াবেটিসের রোগীরা অবশ্যই আটার রুটি খেতে পারেন, তবে তা হতে হবে পরিমিত পরিমাণে এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত উপায়ে। উচ্চ ফাইবার এবং তুলনামূলকভাবে কম GI-এর কারণে এটি সাদা ভাতের চেয়ে ভালো বিকল্প। তবে সর্বোত্তম ফল পেতে চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়েট চার্ট তৈরি করা আবশ্যক।