পেটে গ্যাসের চাপ থেকে কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? কী বলছে বিজ্ঞান

উদ্বেগ স্বাভাবিক, কারণ হৃদরোগ এবং গুরুতর গ্যাস বা অ্যাসিডিটির লক্ষণগুলি অনেক সময় একই রকম হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পেটের গ্যাস কি সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে?

Published on: Dec 15, 2025, 08:49:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পেটের গ্যাস বা হজমের সমস্যায় বুকে ব্যথা হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। এই ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে, অনেকে আতঙ্কিত হয়ে এটিকে হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) বলে ভুল করেন। এই উদ্বেগ স্বাভাবিক, কারণ হৃদরোগ এবং গুরুতর গ্যাস বা অ্যাসিডিটির লক্ষণগুলি অনেক সময় একই রকম হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পেটের গ্যাস কি সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে?

পেটে গ্যাসের চাপ থেকে কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? কী বলছে বিজ্ঞান
পেটে গ্যাসের চাপ থেকে কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? কী বলছে বিজ্ঞান

পেটের গ্যাস থেকে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা এবং বুকে ব্যথা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, তা জেনে নিন।

১. পেটের গ্যাস এবং হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে সম্পর্ক কী?

সংক্ষেপে, পেটের গ্যাস সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে না। হার্ট অ্যাটাক হলো একটি কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা, যা হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত ​​​​প্রবাহে বাধা বা ব্লকেজের কারণে ঘটে। অন্যদিকে, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির ব্যথা হলো হজমজনিত সমস্যা।

ক. হৃদরোগ এবং গ্যাস কেন গুলিয়ে যায়?

  • ব্যথার স্থান: আমাদের বুক এবং পেটের ওপরের অংশের অনেক স্নায়ু (Nerves) সাধারণ। গ্যাস বা অ্যাসিডিটির কারণে যখন খাদ্যনালী বা পাকস্থলীর দেয়ালে চাপ সৃষ্টি হয়, তখন সেই ব্যথা স্নায়ুর মাধ্যমে বুকে ছড়িয়ে পড়ে।
  • লক্ষণের মিল: গ্যাসে বুকে যে ব্যথা হয়, তা অনেক সময় বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে হতে পারে, যা অনেকটা হৃদরোগের ব্যথার মতো অনুভূত হয়। এছাড়াও, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির কারণে অনেক সময় শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা তৈরি হয়, যা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণের মতোই।

খ. ড্রেসলারের সিনড্রোম (Dressler's Syndrome)

যদিও গ্যাস সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় না, তবে একটি বিরল ক্ষেত্রে হৃদরোগ এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যার মধ্যে পরোক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে:

  • তীব্র প্রদাহ বা সংক্রমণ, যেমন পাকস্থলীর আলসার বা পিত্তথলির সমস্যা (Gallstones), অনেক সময় বুকের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে গ্যাস নিজেই এর কারণ নয়।

২. কখন বুঝবেন কোনটি গ্যাস, আর কোনটি হৃদরোগ?

ব্যথার প্রকৃতি বুঝলে পার্থক্য করা কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বৈশিষ্ট্যপেটের গ্যাস বা অ্যাসিডিটিহার্ট অ্যাটাক
ব্যথার প্রকৃতিজ্বালা বা তীব্র চাপ, যা সাধারণত খাবার খাওয়ার পরে বা শুয়ে থাকার সময় শুরু হয়।বুকে তীব্র চাপ, চেপে ধরার মতো অনুভূতি, যা সাধারণত ব্যায়াম বা মানসিক চাপের সময় শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়াব্যথা গলা, বুক বা পিঠ পর্যন্ত উঠতে পারে।ব্যথা বাম হাত, কাঁধ বা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সহায়ক লক্ষণঢেকুর উঠলে বা অ্যান্টাসিড (Antacid) খেলে আরাম পাওয়া যায়।অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব হতে পারে এবং সহজে উপশম হয় না।
সময়কালসাধারণত মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা কমে যায়।ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী (কয়েক মিনিট বা তার বেশি) হতে পারে এবং ক্রমশ বাড়তে পারে।

৩. বৈজ্ঞানিক পরামর্শ

  • সাবধানতা: গ্যাস এবং হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলির মধ্যে মিল থাকায়, বুকে ব্যথাকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যদি বুকে ব্যথার সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট বা বাম হাতে ব্যথা হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • প্রতিরোধ: গ্যাসের সমস্যা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার পরিহার এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি।

বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে বলছে যে, পেটের গ্যাস সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় না। কিন্তু গ্যাসের ব্যথা হৃদরোগের লক্ষণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় এটি আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ধরনের বুকে ব্যথা হলে আত্ম-চিকিৎসা না করে যত দ্রুত সম্ভব হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More