Hair Donation World Record: কেমোথেরাপির নাম শুনলেই রোগীদের মনে এক অদ্ভুত আতঙ্ক আর কষ্টের ছবি ভেসে ওঠে। বিশেষ করে মাথার চুল ঝরে যাওয়ার বিষয়টি অনেক রোগীর কাছেই জীবনের সবচেয়ে বড় মানসিক আঘাত। প্রিয়জনদের কাছে রোগ লুকিয়ে রাখা বা সমাজে হীনমন্যতার শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে ক্যানসার রোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় কাজ করতে চলেছে চেন্নাই। আগামী ২ নভেম্বর চেন্নাইয়ে চুলদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে একদিনে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ চুল দান করে এক নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

হেয়ার ফর হোপ ইন্ডিয়ার উদ্যোগ
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন প্রেমী ম্যাথিউ। চেন্নাইয়ের অধ্যাপক তথা ক্যানসারকে হারানো মহিলা নিজের চুল হারানোর পর থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন মনের কথাটা। এই উপলব্ধি থেকেই ২০১৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘হেয়ার ফর হোপ ইন্ডিয়া’। যা দেশের প্রথম জাতীয় চুলদান অভিযান। তাঁর ভাষায়, ‘একটি পরচুলা বা উইগ শুধুমাত্র চুল নয়, এটি একজন কেমো রোগীর কাছে তার জীবন ফিরিয়ে পাওয়ার সমান।’
এবার তিনি ম্যাথিউ লেডিস সার্কেল ইন্ডিয়া এবং আদয়ার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে চেন্নাইয়ের আদয়ারে এই রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে আয়োজকদের মতে, রেকর্ড কেবল একটি সংখ্যা মাত্র; আসল উদ্দেশ্য হল প্রত্যেক ক্যানসার রোগীর মনের ভয় দূর করা এবং আয়নায় তাঁদের নিজেদের পুরোনো রূপ ফিরিয়ে দেওয়া।
কীভাবে অংশ নেবেন এই অভিযানে?
{{/usCountry}}কীভাবে অংশ নেবেন এই অভিযানে?
{{/usCountry}}এই ঐতিহাসিক আয়োজনে যুক্ত হওয়ার জন্য দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ, চার্চ, ক্লাব এবং বিভিন্ন সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং চুল যাতে ডাস্টবিনে নষ্ট না হয়, তার জন্য এই বিশেষ প্রচার শুরু হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু নির্দেশিকা:
১) চেন্নাইয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ: যাঁরা চেন্নাইয়ে রয়েছেন, তারা আগামী ২ নভেম্বর সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টের মধ্যে শ্রী রামাচন্দ্র মেডিকেল কলেজে উপস্থিত হয়ে চুলদান করতে পারেন।
২) অন্যান্য শহর থেকে অংশগ্রহণ: চেন্নাইয়ের বাইরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে চুল কেটে কুরিয়ারের মাধ্যমে চেন্নাইয়ে পাঠাতে পারবেন।