Smoking effects on sperm count: বাবা-মা হতে বাধা দিচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া? ধূমপানের অভ্যাস কি প্রজনন ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে
Smoking effects on sperm count: ধূমপান কেবল ফুসফুস ধ্বংস করে না, বরং এটি পুরুষ ও নারী—উভয়ের প্রজনন ক্ষমতার ওপর সরাসরি ও মারাত্মক আঘাত হানে। ধূমপান কীভাবে সন্তান লাভের পথে মস্ত বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, জেনে নিন।
Smoking effects on sperm count: ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এই সতর্কবার্তাটি আমরা সবাই জানি। এটি ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুণ বাড়িয়ে দেয়, তা নিয়ে সমাজে যথেষ্ট সচেতনতা রয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, ধূমপানের এই মারাত্মক অভ্যাসটি আপনার বাবা বা মা হওয়ার স্বপ্নকেও কেড়ে নিতে পারে? বর্তমান আধুনিক যুগে বহু দম্পতিই বন্ধ্যাত্ব বা সন্তানহীনতার (Infertility) সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, এই সমস্যার পেছনে অন্যতম এক বড় অনুঘটক হলো ধূমপান।

চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান কেবল ফুসফুস ধ্বংস করে না, বরং এটি পুরুষ ও নারী—উভয়ের প্রজনন ক্ষমতার ওপর সরাসরি ও মারাত্মক আঘাত হানে। ধূমপান কীভাবে সন্তান লাভের পথে মস্ত বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, জেনে নিন।
সিগারেটের ধোঁয়ায় রয়েছে নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড এবং সায়ানাইডের মতো প্রায় ৪,০০০-এরও বেশি ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো যখন রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়, তখন তা প্রজননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড করে দেয়।
১. পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব:
অনেকেরই ধারণা, সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে ধূমপানের প্রভাব কেবল মহিলাদের ওপর পড়ে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের পেছনে ধূমপান এক মস্ত বড় কারণ।
- শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান হ্রাস: অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা (Sperm Count) দ্রুত কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, শুক্রাণুর গতিশীলতা (Sperm Motility) এবং তাদের স্বাভাবিক গঠনও নষ্ট হয়ে যায়। দুর্বল শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে না।
- ডিএনএ ড্যামেজ: সিগারেটের বিষাক্ত কেমিক্যাল শুক্রাণুর ভেতরের ডিএনএ (DNA)-র ক্ষতি করে। এর ফলে যদি কোনোভাবে সন্তান চলেও আসে, তাহলেও গর্ভপাত বা শিশুর জন্মগত ত্রুটি থাকার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
- ইরেক্টাইল ডিসফাংশন: নিকোটিন রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে দেয়। ফলে প্রজনন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, যা পুরুষদের যৌন অক্ষমতার জন্ম দেয়।
২. মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব:
মহিলাদের ক্ষেত্রে ধূমপানের ক্ষতি আরও অনেক বেশি গভীর এবং জটিল।
- ডিম্বাণুর অকাল ক্ষয়: চিকিৎসকদের মতে, ধূমপায়ী মহিলাদের ডিম্বাশয়ে থাকা ডিম্বাণু বা এগস (Eggs) খুব দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। নিকোটিন ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। এর ফলে ধূমপায়ী মহিলারা সমবয়সী অন্য মহিলাদের চেয়ে ২ থেকে ৪ বছর আগেই মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তির মুখোমুখি হন।
- ফ্যালোপিয়ান টিউবের ক্ষতি: সিগারেটের ধোঁয়া জরায়ু এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটার স্বাভাবিক পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
৩. গর্ভপাত ও আইভিএফ (IVF) ব্যর্থতার ঝুঁকি:
ধূমপানের অভ্যাস থাকলে গর্ভধারণের পরও বিপদ পিছু ছাড়ে না। জরায়ুর দেওয়ালে ভ্রূণ ঠিকমতো থিতু হতে পারে না, যার ফলে গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভপাত (Miscarriage) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি যারা প্রাকৃতিকভাবে সন্তান না পেয়ে আইভিএফ (IVF) বা টেস্টটিউব বেবির সাহায্য নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ধূমপানের কারণে চিকিৎসার সাফল্যের হার প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।
পরোক্ষ ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোকিং-ও সমান বিপজ্জনক:
আপনি নিজে ধূমপান না করলেও যদি আপনার সঙ্গী আপনার সামনে বসে নিয়মিত ধূমপান করেন, তবে সেই ধোঁয়া ফুসফুসে গিয়ে আপনার প্রজনন ক্ষমতারও সমান ক্ষতি করবে। একে চিকিৎসকরা প্যাসিভ স্মোকিং (Passive Smoking) বলেন, যা অজান্তেই বহু মহিলার বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আশার আলো কোথায়?
চিকিৎসকরা একটি ইতিবাচক তথ্যও দিয়েছেন। প্রজননতন্ত্রের এই ক্ষতিগুলোর একটি বড় অংশই কিন্তু ‘রিভার্সিবল’ বা নিরাময়যোগ্য। যদি কোনো দম্পতি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস আগে থেকে ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন (Quit Smoking) করেন, তবে তাঁদের শরীরের ক্ষতিকারক টক্সিনগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। এর ফলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর স্বাস্থ্য আবার আগের মতো স্বাভাবিক ও উন্নত হয়ে ওঠে।
সন্তান লাভ একটি দম্পতির জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং আবেগের মুহূর্ত। চাট্টিখানি আনন্দের জন্য সিগারেটের ধোঁয়ায় নিজের সেই অমূল্য স্বপ্নকে পুড়িয়ে ছাই করবেন না। আজই ধূমপান ত্যাগ করার কঠিন সিদ্ধান্তটি নিন, নিজের শরীরকে বিষমুক্ত করুন এবং একটি সুস্থ-সবল সন্তানকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু করুন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


