...
...
Next Story

রাতে দুধ খাওয়া ভালো নাকি খারাপ? কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

এই অভ্যাসটি কি সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর? রাতে দুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী মতামত দেয়, তা জেনে নেওয়া যাক।

Published on: Nov 05, 2025 08:59 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাতে শোবার আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করার অভ্যাস দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। এটিকে কেবল একটি পারিবারিক প্রথা হিসেবেই দেখা হয় না, বরং মনে করা হয় এটি ভালো ঘুম এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু এই অভ্যাসটি কি সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর? রাতে দুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী মতামত দেয়, তা জেনে নেওয়া যাক।

রাতে দুধ খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?
রাতে দুধ খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি পোস্ট করতে বা কিছু লিখতে পছন্দ করেন না? আপনি মানুষটা কেমন

রাতে দুধ খাওয়ার পক্ষে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী কী যুক্তি দেয়?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বেশ কিছু কারণে রাতে দুধ খাওয়ার পক্ষে মত দেয়:

১. ভালো ঘুমের সহায়ক: দুধে ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। এই ট্রিপটোফ্যান মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন (Melatonin) নামক হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে। মেলাটোনিন 'ঘুমের হরমোন' নামে পরিচিত, যা ঘুম-জাগরণের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘুম আসতে সাহায্য করে।

২. মানসিক শান্তিদায়ক (Placebo Effect): উষ্ণ দুধ পান করা শৈশবের আরামদায়ক স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। উষ্ণ পানীয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি দেয়, যা ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে।

৪. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ: শোবার আগে দুধ পান করলে তা রাতের বেলা হঠাৎ ক্ষুধা লাগা বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে।

আরও পড়ুন: দুধ আর মাছ এক সঙ্গে খেলে কি শ্বেতী রোগ হতে পারে? সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন

রাতে দুধ খাওয়ার বিপক্ষে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী কী যুক্তি দেয়?

সকলের জন্য রাতে দুধ খাওয়া সমানভাবে উপকারী নাও হতে পারে, বিশেষত কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে:

১. ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা (Lactose Intolerance): যারা ল্যাক্টোজ সহ্য করতে পারেন না, রাতে দুধ খেলে তাদের পেটে গ্যাস, ফোলাভাব, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রাতে দুধ হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

২. হজমের সমস্যা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রাতে ভারী খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স (Acid Reflux) বা বুক জ্বালার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি শোবার সঙ্গে সঙ্গে দুধ খাওয়া হয়।

৩. ওজন বৃদ্ধি: দুধ একটি ক্যালোরি-ঘন পানীয়। রাতে খাওয়ার পর শারীরিক কার্যকলাপ না থাকলে এই ক্যালোরিগুলি ফ্যাট হিসেবে জমা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

৪. অন্যান্য শারীরিক সমস্যা: শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, কফ বা সর্দি-কাশির প্রবণতা থাকলে রাতে দুধ খাওয়া উচিত নয়, কারণ দুধ শ্লেষ্মা বা কফ উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে—যদিও এই ধারণার পক্ষে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

রাতে দুধ খাওয়া মূলত ব্যক্তিগত হজম ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। যদি আপনার কোনো হজমের সমস্যা না থাকে, তবে উষ্ণ দুধ ভালো ঘুম এবং ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে সমস্যা থাকলে শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে দুধ পান করা উচিত অথবা এড়িয়ে চলা উচিত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON