মাছ খাওয়ার পরে দুধের পদ খেলে কী হয়? শরীরের জন্য খারাপ কি এটি
অনেকের বিশ্বাস, মাছ এবং দুধ একসঙ্গে বা পরপর খেলে ত্বকে শ্বেতী রোগ (Vitiligo) দেখা দিতে পারে বা হজমের গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
মাছ খাওয়ার পর দুধ বা অন্য কোনো দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া নিয়ে আমাদের সমাজে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে, একটি তীব্র কুসংস্কার প্রচলিত আছে। বেশিরভাগ মানুষের বিশ্বাস, মাছ এবং দুধ একসঙ্গে বা পরপর খেলে ত্বকে শ্বেতী রোগ (Vitiligo) দেখা দিতে পারে বা হজমের গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এই বিশ্বাস কতটা সত্যি এবং এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কী, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন।

১. প্রচলিত ধারণা: শ্বেতী রোগ হওয়ার ভয়
মাছ খাওয়ার পর দুধ বা দইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্য খেলে ত্বক সাদা হয়ে যায় বা শ্বেতী রোগ হয়—এই ধারণাটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
- শ্বেতী রোগ কী? শ্বেতী বা ভিটিলিগো হলো একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত মেলানোসাইট (Melanocytes) নামক রঞ্জক কোষগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে ত্বকের রং উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং ত্বকে সাদা ছোপ সৃষ্টি হয়।
- বিজ্ঞান কী বলছে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও চর্ম বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, মাছ এবং দুধের এই সংমিশ্রণের সঙ্গে শ্বেতী রোগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। শ্বেতী রোগ খাদ্যের কারণে হয় না; এটি একটি জেনেটিক এবং অটোইমিউন সমস্যা।
২. খাদ্যতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ: সংমিশ্রণ কি ক্ষতিকর?
পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মাছ ও দুধের সংমিশ্রণ ক্ষতিকর নয়, বরং পৃথিবীর বহু উপকূলীয় এবং পশ্চিমা সংস্কৃতিতে এই দুটি খাদ্য নিয়মিত একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
- পুষ্টির সামঞ্জস্য: মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস, এবং দুধ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের উৎস। আন্তর্জাতিক রান্নায় ক্ল্যাম চাউডার (Clam Chowder) বা সিশেল স্যুপ, যেখানে মাছ বা শেলফিশের সঙ্গে ক্রিম এবং দুধ ব্যবহার করা হয়, তা খুবই জনপ্রিয়।
- ফিশ অ্যান্ড চিপস: অনেক সময় ফ্রাইড ফিশের সঙ্গে দই বা মেয়োনিজের সস ব্যবহার করা হয়, যা দুগ্ধজাত উপাদান। এটি বহু বছর ধরে মানুষ নিরাপদে খেয়ে আসছে।
৩. আসল ঝুঁকি: হজমের সমস্যা
মাছ ও দুধ একসঙ্গে বা পরপর খেলে শ্বেতী রোগ না হলেও, অন্য যে সমস্যাটি হতে পারে, তা হলো হজমের সমস্যা (Indigestion)।
- প্রোটিনের ভার: মাছ এবং দুধ উভয়ই উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। মাছের প্রোটিন (বিশেষত দ্রুত হজম হয়) এবং দুধের প্রোটিন (কেজিন, যা হজম হতে বেশি সময় নেয়) একসঙ্গে গ্রহণ করলে, হজমতন্ত্রের উপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
- অসহনীয়তা (Intolerance): যদি আপনার পেট সংবেদনশীল হয় বা আপনার ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকে, তবে এই ভারী প্রোটিন এবং চর্বির মিশ্রণ পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে।
৪. কেন এই ভুল ধারণা প্রচলিত হলো?
- ধারণা করা হয়, অতীতে মাছের সঙ্গে দুধ খেলে যদি কোনোভাবে মাছ বা দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতো, তখন ত্বকে অ্যালার্জির কারণে লাল বা সাদা ছোপ দেখা দিত। মানুষ ভুলবশত তাকেই শ্বেতী রোগ বলে মনে করত।
মাছ খাওয়ার পর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে শ্বেতী রোগ হওয়ার ভয় সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন কুসংস্কার। তবে যাদের হজমের সমস্যা বা দুর্বল হজমতন্ত্র আছে, তারা মাছ এবং দুধের মতো দুটি ভিন্ন ধরনের প্রোটিন একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


