Foods that lower memory power: স্মৃতিশক্তি গিলে খাচ্ছে প্রতিদিনের খাবার? আজই সাবধান না হলে হারাতে পারেন মনে রাখার ক্ষমতা

Foods that lower memory power: চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং নিউরোলজিস্টদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস কেবল শরীরের ওজন বা সুগার বাড়ায় না, এটি সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে (Neurons) নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

Published on: Jun 5, 2026, 10:56:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Foods that lower memory power: আমাদের চারপাশের দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় মনঃসংযোগ ধরে রাখা এবং যেকোনো তথ্য দীর্ঘ সময় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই স্মৃতিশক্তি (Memory Power) বাড়াতে বাদাম, ডার্ক চকোলেট কিংবা শাকসবজি খেয়ে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আমরা প্রতিদিন এমন কিছু খাবার নিয়মিত খাচ্ছি যা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দিন দিন কমিয়ে দিচ্ছে?

স্মৃতিশক্তি গিলে খাচ্ছে প্রতিদিনের খাবার? আজই সাবধান হন
স্মৃতিশক্তি গিলে খাচ্ছে প্রতিদিনের খাবার? আজই সাবধান হন

চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং নিউরোলজিস্টদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস কেবল শরীরের ওজন বা সুগার বাড়ায় না, এটি সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে (Neurons) নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর ফলে অল্প বয়সেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, মনোযোগের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে ‘আলঝেইমার্স’ (Alzheimer's) বা ডিমেনশিয়ার মতো মারাত্মক মানসিক ব্যাধি দেখা দিতে পারে। কোন কোন খাবার আমাদের স্মৃতিশক্তিকে একটু একটু করে ধ্বংস করে দিচ্ছে, জেনে নিন।

আমাদের মস্তিষ্ক সচল রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কিছু খাবার রয়েছে যা মস্তিষ্কে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি করে এবং নতুন স্মৃতি তৈরি হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অবরুদ্ধ করে দেয়। নিচে এমন ৫টি ক্ষতিকর খাবারের বিবরণ দেওয়া হলো:

১. অতিরিক্ত চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় পানীয়:

সোডা, কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত ফলের রস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারে চিনির পরিমাণ বাড়লে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা সরাসরি মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ (Hippocampus) অংশের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মস্তিষ্কের এই অংশটিই মূলত আমাদের স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং মানুষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে।

২. রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট বা ময়দার তৈরি খাবার:

সাদা পাউরুটি, নুডলস, পাস্তা, পিৎজা এবং ময়দা দিয়ে তৈরি যেকোনো ফাস্টফুড এই তালিকার অন্যতম প্রধান অপরাধী। এই খাবারগুলোর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (Glycemic Index) অত্যন্ত বেশি থাকে। শরীরে প্রবেশ করার পরই এগুলো খুব দ্রুত রক্তে শর্করা ছড়িয়ে দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কে এক ধরণের কুয়াশাচ্ছন্ন ভাব বা ‘ব্রেন ফগ’ (Brain Fog) তৈরি হয়, যার ফলে কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া বা কোনো কিছু মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ ভাজাভুজি ও প্রসেসড ফুড:

প্যাকেটজাত চিপস, বেকারির বিস্কুট, ডালডা বা পাম অয়েলে ভাজা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং প্রসেসড মিট (যেমন সসেজ বা বার্গারের প্যাটি) ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট (Trans Fat) থাকে। এই ক্ষতিকারক ফ্যাটটি রক্তনালীগুলোকে শক্ত ও সরু করে দেয়, যার ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের স্মৃতিশক্তির ওপর। যারা অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট খান, তাঁদের আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে দ্বিগুণ থাকে।

৪. কৃত্রিম মিষ্টি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার:

যারা ডায়েট করার চক্করে বা ডায়াবেটিসের ভয়ে চিনির বিকল্প হিসেবে ‘অ্যাসপার্টেম’ (Aspartame) যুক্ত কৃত্রিম মিষ্টি বা সুগার-ফ্রি ট্যাবলেট ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য মস্ত বড় দুঃসংবাদ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই কৃত্রিম উপাদানগুলো মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা নিউরোট্রান্সমিটারগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। অতিরিক্ত মাত্রায় কৃত্রিম মিষ্টি খেলে তীব্র মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি ম্লান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৫. অতিরিক্ত লবণ ও লোনা খাবার:

খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা নুন খাওয়া কিংবা নোনতা চানাচুর, চিপস, সস এবং আচার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে। এটি মানুষের জ্ঞানীয় ক্ষমতা বা কগনিটিভ ফাংশন (Cognitive Function) ধীর করে দেয়, ফলে কোনো কিছু শেখার বা মনে রাখার গতি কমে যায়।

মস্তিষ্ক সচল রাখার সহজ উপায়:

স্মৃতিশক্তি অটুট রাখতে এই ক্ষতিকর খাবারগুলো আজ থেকেই ডায়েট থেকে বাদ দিন। এর বদলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ আখরোট, কাঠবাদাম, সবুজ শাকসবজি, জাম (Berries) এবং পর্যাপ্ত জল রাখুন। এগুলো মস্তিষ্কের কোষকে সতেজ রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

স্মৃতিশক্তি হলো আমাদের জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতার সঞ্চয়। ক্ষণিকের মুখের স্বাদের জন্য ভুল খাবার খেয়ে নিজের অমূল্য বুদ্ধিমত্তা ও মনে রাখার ক্ষমতাকে নষ্ট করবেন না। আজ থেকেই সচেতন হোন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং নিজের মস্তিষ্ককে রাখুন চিরসবুজ ও সচল।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More