পাকা চুল রঙিন করতে কোনটি বেশি ভালো, রং নাকি মেহেন্দি?
কোনটি আপনার চুলের জন্য সেরা, তা নির্ভর করে আপনার চুলের ধরন, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং রঙের স্থায়িত্বের প্রত্যাশার ওপর।
পাকা চুল ঢেকে তারুণ্য ফিরিয়ে আনার জন্য বাজারে প্রধানত দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে—কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার ডাই বা রং এবং প্রাকৃতিক মেহেন্দি বা হেনা। কোনটি আপনার চুলের জন্য সেরা, তা নির্ভর করে আপনার চুলের ধরন, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং রঙের স্থায়িত্বের প্রত্যাশার ওপর। এই দুটি পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।

১. কেমিক্যাল হেয়ার ডাই বা রং (Chemical Hair Dye)
এটি হলো আধুনিকতম এবং সবচেয়ে দ্রুত ফলপ্রসূ পদ্ধতি।
সুবিধা (Pros)
- দ্রুত ফল: মাত্র ৩০-৪৫ মিনিটের মধ্যে চুল রঙিন করা যায়।
- রঙের বৈচিত্র্য: কালো, বাদামী থেকে শুরু করে ব্লোন্ড, লাল বা ফ্যাশন কালার পর্যন্ত বিপুল রঙের বিকল্প পাওয়া যায়।
- স্থায়িত্ব: রঙ স্থায়ী হয় এবং বারবার ধোয়ার পরও সহজে যায় না।
অসুবিধা (Cons)
- রাসায়নিক ক্ষতি: অ্যামোনিয়া, প্যারাবেন্স, পিডিএ (PPD)-এর মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে, যা চুলের কিউটিকলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- অ্যালার্জি: PPD-এর মতো উপাদান ত্বকে গুরুতর অ্যালার্জি এবং চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে।
- চুল পড়া: দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চুল শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার প্রবণতা বাড়ে।
২. মেহেন্দি বা হেনা (Natural Henna)
মেহেন্দি একটি ঐতিহ্যবাহী এবং উদ্ভিদ-ভিত্তিক পদ্ধতি।
সুবিধা (Pros)
- প্রাকৃতিক ও নিরাপদ: মেহেন্দি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি চুলের জন্য নিরাপদ এবং কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।
- কন্ডিশনিং: মেহেন্দি চুলকে স্বাস্থ্যকর ও ঝলমলে করে, চুলের ফলিকল মজবুত করে এবং খুশকি কমায়।
- দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য: এটি চুলের কিউটিকলের গভীরে প্রবেশ না করে বাইরের স্তরকে আবৃত করে, ফলে চুলের ক্ষতি হয় না।
অসুবিধা (Cons)
- রঙের সীমাবদ্ধতা: এটি প্রধানত লালচে-কমলা বা গাঢ় বাদামী রঙের শেড দিতে পারে। কালো রঙের জন্য সাধারণত ইন্ডিগো (Indigo) মেশাতে হয়।
- সময়সাপেক্ষ: চুল রং করতে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
- অন্য রং করা কঠিন: একবার মেহেন্দি ব্যবহার করলে, তার ওপর কেমিক্যাল ডাই লাগালে প্রত্যাশিত রং নাও আসতে পারে।
কোনটি আপনার জন্য সেরা?
- চুলের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা: মেহেন্দি (Henna)। এটি প্রাকৃতিক এবং চুলকে কন্ডিশন করে, কোনো রাসায়নিক ক্ষতি হয় না।
- রঙের বিপুল বৈচিত্র্য: কেমিক্যাল ডাই (Dye)। দ্রুত এবং যেকোনো রঙ (বিশেষ করে উজ্জ্বল রঙ) পাওয়ার জন্য ডাই সেরা।
- অল্প সময়ে কাজ শেষ করা: কেমিক্যাল ডাই (Dye)। মেহেন্দির চেয়ে অনেক কম সময়ে প্রয়োগ করা যায়।
- অ্যালার্জির ঝুঁকি: মেহেন্দি (Henna)। যদি আপনি রাসায়নিকের প্রতি সংবেদনশীল হন।
যদি আপনি কেমিক্যাল ডাই ব্যবহার করতে চান, তবে অ্যামোনিয়া-মুক্ত এবং পিডিএ-কম ডাই ব্যবহার করুন। আর মেহেন্দি ব্যবহারের আগে নিশ্চিত করুন যে তা শতভাগ খাঁটি হেনা, যার সঙ্গে কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো নেই।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


