Benefits of milk and honey: রোজ রাতে এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ মধু! শরীরের যে ৫টি পরিবর্তন আপনাকে অবাক করবে
Benefits of milk and honey: দুধকে বলা হয় সুষম আহার, যা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের খনি। অন্যদিকে, খাঁটি মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের ভাণ্ডার।
Benefits of milk and honey: সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য আমরা কত রকমের দামি সাপ্লিমেন্ট বা হেলথ ড্রিংকস কিনে থাকি। কিন্তু আমাদের রান্নাঘরেই এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা সঠিকভাবে মিশিয়ে খেলে যেকোনো দামি ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে। তেমনই একটি প্রাচীন এবং অত্যন্ত কার্যকরী কম্বিনেশন হলো গরম দুধ ও মধু (Milk and Honey)। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান—উভয় ক্ষেত্রেই এই মিশ্রণটিকে একটি ‘অমৃত’ বা জাদুকরী পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়।

দুধকে বলা হয় সুষম আহার, যা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের খনি। অন্যদিকে, খাঁটি মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের ভাণ্ডার। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি একাধিক শারীরিক জটিলতা নিমেষে দূর হয়।
দুধ এবং মধুর এই যুগলবন্দী শরীরে প্রবেশ করার পর পুষ্টির শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন এই অভ্যাস বজায় রাখলে যে যে ইতিবাচক প্রভাবগুলো চোখে পড়বে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. অনিদ্রা দূর করে এবং গভীর ঘুম (Deep Sleep) আনে:
যাঁরা রাতে বালিশে মাথা দিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন বা ইনসোমনিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই পানীয় ওষুধের মতো কাজ করে। দুধে রয়েছে ‘ট্রিপটোফ্যান’ (Tryptophan) নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মস্তিষ্কে গিয়ে ‘সেবোটোনিন’ এবং পরে ‘মেলাটোনিন’ বা ঘুমের হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। মধুর গ্লুকোজ এই ট্রিপটোফ্যানকে খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ফলে মন শান্ত হয় এবং নিমেষের মধ্যে গভীর ও আরামের ঘুম আসে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity Boost) বাড়ায়:
ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি বা গলার খুসখুসে ভাব দূর করতে দুধ-মধুর মিশ্রণ অনন্য। মধুর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা গলার ভেতরের সংক্রমণ দূর করে। আর গরম দুধ শরীরের ক্লান্তি দূর করে শক্তি জোগায়। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ে, ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ সহজে শরীরকে কাবু করতে পারে না।
৩. হজমশক্তি উন্নত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়:
মধু হলো একটি চমৎকার ‘প্রিবায়োটিক’ (Prebiotic), যা পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, গরম দুধ আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা বাওয়েল মুভমেন্টকে সচল রাখে। রাতে এই মিশ্রণটি খেয়ে ঘুমালে সকালে পেট পরিষ্কার হয় এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) মতো ক্রনিক সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি মেলা সহজ হয়।
৪. হাড়ের গঠন শক্ত করে ও জয়েন্টের ব্যথা কমায়:
দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখার জন্য প্রধান উপাদান। কিন্তু অনেক সময় শরীর এই ক্যালসিয়াম পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। বিজ্ঞান বলছে, মধুর মধ্যে থাকা বিশেষ পুষ্টিগুণ রক্তে ক্যালসিয়াম শোষণের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয়, হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৫. ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়:
দুধ ও মধুর মিশ্রণ ভেতর থেকে শরীরকে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তের পরিচ্ছন্নতা বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে এক প্রাকৃতিক জেল্লা বা গ্লো ফিরে আসে। এছাড়া চুলের গোড়াতেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়, ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়।
একটি জরুরি সতর্কতা:
দুধ ও মধু খাওয়ার সময় একটি বিষয় সবসময় মাথায় রাখবেন। ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম দুধে কখনো মধু মেশাবেন না। কারণ অতিরিক্ত তাপে মধুর ওষধি গুণাগুণ ও এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সবসময় দুধ ফুটিয়ে নেওয়ার পর তা হালকা উষ্ণ বা কুসুম গরম (Lukewarm) অবস্থায় এলে তবেই তাতে মধু মেশাবেন।
শেষ কথা:
প্রকৃতির দেওয়া এই দুই উপাদানের নিয়মিত সেবন আপনাকে সারাদিন রাখবে চনমনে, সতেজ এবং রোগমুক্ত। তাই কৃত্রিম কেমিক্যালযুক্ত এনার্জি ড্রিংকস বাদ দিয়ে আজ রাত থেকেই এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শুরু করুন এবং সুস্থ জীবনের দিকে এক পা এগিয়ে যান।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


