Why crispy fried fish is bad: সাধের কড়া মাছভাজা কি ডেকে আনছে ক্যানসার? জানুন অতিরিক্ত ভাজা মাছ খাওয়ার ঝুঁকি
Why crispy fried fish is bad: মাছ অতিরিক্ত কড়া করে ভাজলে বা ‘ডিপ ফ্রাই’ (Deep Fried Fish) করলে তার সমস্ত পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়ই, উল্টে তা শরীরের জন্য বিষে পরিণত হতে পারে।
Why crispy fried fish is bad: বাঙালির দুপুরের ভাতে এক টুকরো মুচমুচে মাছভাজা যেন অমৃত। রুই, কাতলা থেকে শুরু করে ইলিশ বা তোপসে—মাছ কড়া করে ভেজে খাওয়া এ দেশের বহু মানুষের প্রিয় খাদ্যাভ্যাস। অনেকেই মনে করেন, মাছ যত লালচে এবং মচমচে হবে, তা খেতে ততটাই সুস্বাদু লাগবে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা এই অভ্যাস নিয়ে এক মারাত্মক সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ অতিরিক্ত কড়া করে ভাজলে বা ‘ডিপ ফ্রাই’ (Deep Fried Fish) করলে তার সমস্ত পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়ই, উল্টে তা শরীরের জন্য বিষে পরিণত হতে পারে। অতিরিক্ত ভাজা মাছ কেন খাওয়া উচিত নয় এবং এটি আমাদের শরীরের কী কী ক্ষতি করে, তা জেনে নিন।
মাছ প্রাকৃতিকভাবেই একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega-3 Fatty Acids), ভিটামিন ডি এবং প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান। এই উপাদানগুলো আমাদের হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। তবে রান্নার পদ্ধতির ভুলে এই অমৃতই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
১. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সম্পূর্ণ ধ্বংস:
মাছের প্রধান গুণ হলো এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে এবং ধমনী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন মাছকে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ফুটন্ত তেলে কড়া করে ভাজা হয়, তখন এই উপকারী ফ্যাট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রা ওমেগা-৩-কে ক্ষতিকারক ট্রান্স ফ্যাটে (Trans Fat) রূপান্তরিত করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২. তৈরি হয় ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান:
মাছ যখন অতিরিক্ত ভাজা বা পোড়া পোড়া করা হয়, তখন উচ্চ তাপে মাছের প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এর ফলে ‘হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস’ (HCAs) এবং ‘পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন’ (PAHs) নামক দুটি বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই দুটি উপাদান সরাসরি ডিএনএ (DNA)-র ক্ষতি করতে পারে এবং মানুষের শরীরে ক্যানসার, বিশেষ করে কোলন ক্যানসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৩. হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি:
ডিপ ফ্রাই করার সময় মাছের ভেতরের জলীয় অংশ শুকিয়ে যায় এবং এটি তেলের চর্বি শুষে নেয়। এই অতিরিক্ত তেল রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, রক্তনালীতে চর্বি জমে তা সরু হয়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।
৪. ‘অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড-প্রোডাক্টস’ (AGEs) গঠন:
উচ্চ তাপে কড়া করে ভাজা খাবারের উপরিভাগে যে কালচে বা খয়েরী রঙের মচমচে আস্তরণ তৈরি হয়, তাকে বিজ্ঞানের ভাষায় 'AGEs' বলা হয়। এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করে অকাল বার্ধক্য ডেকে আনে, ত্বকের নমনীয়তা নষ্ট করে এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি করে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
তাহলে মাছ খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
পুষ্টিবিদদের মতে, মাছের আসল পুষ্টি পেতে গেলে ভাজার অভ্যাস কমাতে হবে।
- কম তেলে হালকা এপাশ-ওপাশ করে ভাজা মাছ (Shallow Fry) স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- সবথেকে ভালো হয় যদি মাছের হালকা ঝোল, ভাপা, স্টু কিংবা বেক বা গ্রিল করে খাওয়া যায়। এতে মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রোটিন সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
খাবারের স্বাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের মূল্যে না হয়। মুখের ক্ষণিকের স্বাদের জন্য মাছকে অতিরিক্ত ভেজে তার পুষ্টিগুণকে বিষে পরিণত করবেন না। আজ থেকেই কড়া মাছভাজা খাওয়ার অভ্যাস বদলে ফেলুন এবং সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যান।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


