মুখের দুর্গন্ধের কারণে কথা বলতেই ভয় পাচ্ছেন? কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন
সাধারণত এই দুর্গন্ধ মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের দ্বারা নির্গত সালফার যৌগগুলির কারণে সৃষ্টি হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয় এবং সঠিক ঘরোয়া যত্নে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
মুখে দুর্গন্ধ (Bad Breath), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হ্যালিটোসিস (Halitosis) নামে পরিচিত, এটি একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত বিব্রতকর সমস্যা। এই কারণে অনেকেই সামাজিক পরিস্থিতিতে কথা বলতে বা হাসতে কুণ্ঠাবোধ করেন। সাধারণত এই দুর্গন্ধ মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের দ্বারা নির্গত সালফার যৌগগুলির কারণে সৃষ্টি হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয় এবং সঠিক ঘরোয়া যত্নে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মুখে দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে জেনে নিন।
১. মুখে দুর্গন্ধের মূল কারণ কী?
মুখের ভেতরে অপরিষ্কার থাকলে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে এটি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া: জিহ্বার ওপর, দাঁতের ফাঁকে এবং মাড়ির চারপাশে জমে থাকা খাদ্য কণাগুলি ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলিই দুর্গন্ধযুক্ত সালফার যৌগ তৈরি করে।
- শুষ্ক মুখ (Dry Mouth): লালা (Saliva) হলো মুখের প্রাকৃতিক পরিষ্কারক। মুখ শুষ্ক থাকলে ব্যাকটেরিয়া সহজে বংশবৃদ্ধি করে।
- খাদ্যাভ্যাস: পেঁয়াজ, রসুন বা তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার পর এই সমস্যা বাড়ে।
- স্বাস্থ্যের অবস্থা: কিছু ক্ষেত্রে সাইনাসের সমস্যা, টনসিল স্টোন বা পেটের হজমের সমস্যার কারণেও দুর্গন্ধ হতে পারে।
২. ঘরোয়া উপায়ে দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকর পদ্ধতি
নিয়মিত এবং সঠিক পরিচর্যাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান উপায়:
ক. জিভ পরিষ্কার রাখা (Tongue Cleaning)
জিভ হলো ব্যাকটেরিয়ার সবচেয়ে বড় আস্তানা।
- পদ্ধতি: প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার পর একটি টাং স্ক্র্যাপার (Tongue Scraper) বা জিভ পরিষ্কারক ব্যবহার করে জিভের উপরিভাগ থেকে পিছন পর্যন্ত পরিষ্কার করুন। এর ফলে জিভের উপর জমা হওয়া সাদা বা হলুদ আস্তরণ দূর হয়, যা দুর্গন্ধের প্রধান কারণ।
খ. সঠিক উপায়ে ব্রাশ করা এবং ফ্লসিং (Flossing)
- ব্রাশ করা: দিনে দুবার (সকালে ও রাতে) ২ মিনিট ধরে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করুন।
- ফ্লসিং: দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্য কণা এবং ব্যাকটেরিয়া ব্রাশ দিয়ে বের করা যায় না। তাই দিনে একবার ফ্লস করা আবশ্যক।
গ. প্রাকৃতিক মাউথওয়াশ (Natural Mouthwash)
- জল পান: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, যাতে মুখ শুষ্ক না হয়ে যায়।
- লবণ জল: ১ গ্লাস হালকা গরম জলের সঙ্গে ১ চা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এটি মুখের ভেতরকার সংক্রমণ দূর করে।
- বেকিং সোডা: ১ গ্লাস জলে ১ চা চামচ বেকিং সোডা (Baking Soda) মিশিয়ে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করুন। বেকিং সোডা মুখের pH ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দুর্গন্ধযুক্ত অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে।
ঘ. ভেষজ চিবানো (Chewing Herbs)
- পুদিনা এবং পার্সলে: পুদিনা (Mint) এবং পার্সলেতে (Parsley) ক্লোরোফিল (Chlorophyll) থাকে, যা প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট হিসেবে কাজ করে। খাবার খাওয়ার পর সামান্য পুদিনা পাতা বা পার্সলে চিবিয়ে খেলে তাৎক্ষণিক দুর্গন্ধ দূর হয়।
ঙ. দারচিনি ও লবঙ্গ
- দারচিনি বা লবঙ্গ মুখে রেখে চুষলে এর তীব্র গন্ধ ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
৩. কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
যদি নিয়মিত পরিচর্যার পরও দুর্গন্ধ না কমে, তবে তা শরীরের অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট বা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মুখে দুর্গন্ধ একটি লজ্জার কারণ হলেও, সঠিক দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি, জিভ পরিষ্কার এবং প্রাকৃতিক উপাদানগুলির নিয়মিত ব্যবহারে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


