পায়ের ত্বকে কড়া পড়ে কেন? ঘরোয়া উপায়ে এটি সামলাবেন কী করে
পায়ের পাতার শক্ত ও মোটা অংশটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কড়া বা কলাস (Callus) বলা হয়। কড়া শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, বরং এটি সময়মতো দূর না করলে ব্যথা এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
পায়ের ত্বক মোটা, শক্ত এবং রুক্ষ হয়ে যাওয়া একটি খুব সাধারণ সমস্যা, যা বিশেষত গোড়ালি এবং পায়ের পাতার সামনের অংশে দেখা যায়। এই শক্ত ও মোটা অংশটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কড়া বা কলাস (Callus) বলা হয়। কড়া শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, বরং এটি সময়মতো দূর না করলে ব্যথা এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

পায়ের ত্বক শক্ত হওয়ার কারণ, কড়া পড়ার সমস্যা এবং ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তির পথ জেনে নিন।
১. পায়ের ত্বক মোটা ও শক্ত হওয়ার মূল কারণ
পায়ের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের চেয়ে বেশি পুরু হয়, কারণ এটি শরীরের সমস্ত ওজন বহন করে। যখন নির্দিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত চাপ বা ঘর্ষণ হয়, তখন ত্বক নিজেকে রক্ষা করার জন্য আরও পুরু হয়ে যায়।
- অতিরিক্ত চাপ ও ঘর্ষণ (Friction and Pressure): সবচেয়ে বড় কারণ হলো দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়ানো, হাঁটা বা দৌড়ানো। ত্বকের একটি নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত ঘষা লাগলে ত্বক নিজেকে রক্ষা করতে সেই স্থানে মৃত কোষ (Dead Skin Cells) জমিয়ে একটি শক্ত আস্তরণ তৈরি করে।
- অনুপযুক্ত জুতো: টাইট বা খুব ঢিলেঢালা জুতো, বা হাই হিল পরলে পায়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশে (যেমন পায়ের আঙুলের ডগায় বা গোড়ালিতে) অস্বাভাবিক চাপ পড়ে।
- শুষ্কতা (Dryness): পায়ের ত্বক, বিশেষ করে গোড়ালি, দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। শুষ্ক ত্বক সহজেই ফাটে এবং শক্ত হয়ে যায়।
- জুতো ছাড়া হাঁটা: নিয়মিত জুতো ছাড়া শক্ত মেঝেতে হাঁটলেও কড়া পড়তে পারে।
২. কড়া বা শক্ত ত্বক দূর করার কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি
নিয়মিত যত্ন এবং ঘরোয়া প্রতিকার অবলম্বন করলে শক্ত ত্বক এবং কড়ার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়:
ক. উষ্ণ জলে পা ভেজানো (Foot Soak)
- পদ্ধতি: একটি পাত্রে উষ্ণ জল নিন এবং তাতে ১/২ কাপ এপসম সল্ট (Epsom Salt) বা সাধারণ লবণ মিশিয়ে দিন। এবার পা দুটি সেই জলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
- উপকারিতা: উষ্ণ জল ত্বককে নরম করে তোলে এবং এপসম সল্ট শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
খ. পিউমিস স্টোন বা ফুড স্ক্রাবার ব্যবহার
- পদ্ধতি: পা ভালোভাবে নরম হয়ে গেলে একটি পিউমিস স্টোন (Pumice Stone) বা মেটাল ফুড স্ক্রাবার দিয়ে খুব আলতো করে বৃত্তাকার গতিতে (Circular Motion) ঘষুন।
- সতর্কতা: অতিরিক্ত জোরে ঘষবেন না, কারণ এতে সুস্থ ত্বকও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মৃত ও শক্ত ত্বক উঠে গেলেই ঘষা বন্ধ করুন।
গ. আর্দ্রতা ও ময়েশ্চারাইজিং (Intense Moisturization)
- পদ্ধতি: স্ক্রাব করার পর একটি ঘন ময়েশ্চারাইজার, শিয়া বাটার (Shea Butter), কোকো বাটার (Cocoa Butter) বা নারকেল তেল গোড়ালিতে এবং শক্ত অংশে ভালোভাবে মাসাজ করুন।
- রাতের পরিচর্যা: রাতে শুতে যাওয়ার আগে ক্রিম মেখে সুতির মোজা (Cotton Socks) পরে ঘুমান। এতে ক্রিম ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং ত্বক নরম থাকে।
ঘ. অ্যাসিডিক স্ক্রাব (Lemon and Vinegar Scrub)
- পদ্ধতি: লেবুর রস (সাইট্রিক অ্যাসিড) এবং সামান্য ভিনিগার (অ্যাসেটিক অ্যাসিড) জলের সঙ্গে মিশিয়ে শক্ত অংশে লাগান। এই প্রাকৃতিক অ্যাসিডগুলি শক্ত ত্বককে দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে।
- ব্যবহার: একটি তুলোর বল এই মিশ্রণে ভিজিয়ে কড়ার ওপর ১৫ মিনিট রেখে দিন।
৩. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
- সঠিক জুতো পরিধান: আরামদায়ক এবং সঠিক মাপের জুতো পরুন। হাই হিল দীর্ঘ সময়ের জন্য এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ: প্রতিদিন একবার, বিশেষ করে রাতে, পা ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ করুন।
পায়ের ত্বক মোটা ও শক্ত হওয়া মূলত ত্বকের আত্মরক্ষার প্রক্রিয়া। নিয়মিত উষ্ণ জল, স্ক্রাবিং এবং আর্দ্রতা বজায় রাখার মাধ্যমে এই সমস্যা সহজেই দূর করা সম্ভব। যদি কড়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয় বা রক্তপাত হয়, তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


