ওষুধ তো খাচ্ছেন, কিন্তু আর কী কী করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেটা জানেন কি

চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ কেবল ওষুধের মাধ্যমে নয়, বরং জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Published on: Jan 16, 2026, 11:47:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বর্তমান সময়ের এক নীরব ঘাতক। অনেক সময় নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে চায় না। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ কেবল ওষুধের মাধ্যমে নয়, বরং জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আপনি যদি ওষুধের পাশাপাশি নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু বিশেষ বদল আনেন, তবে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

ওষুধ তো খাচ্ছেন, কিন্তু আর কী কী করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেটা জানেন কি
ওষুধ তো খাচ্ছেন, কিন্তু আর কী কী করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেটা জানেন কি

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর জীবনশৈলী ও অভ্যাস জেনে নিন।

ওষুধের পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি অব্যর্থ উপায়

রক্তচাপকে বাগে আনতে আপনার রুটিনে আজই এই পরিবর্তনগুলো যোগ করুন:

১. লবণের সাথে আড়ি (DASH Diet)

রক্তচাপ বাড়ানোর প্রধান কারিগর হলো সোডিয়াম বা লবণ। দিনে ৫ গ্রামের বেশি (এক চা চামচের কম) লবণ খাওয়া বিপদজনক। মনে রাখবেন, পাতে কাঁচা লবণ না খাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, সস এবং নোনতা বিস্কুট এড়িয়ে চলতে হবে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা, ডাবের জল এবং পালং শাক রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা ও ‘৩০ মিনিটের নিয়ম’

ব্যায়াম করা মানেই জিমে যাওয়া নয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা (Brisk Walking), সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো রক্তচাপ ৫-৮ পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে, ফলে রক্ত সঞ্চালনে হার্টকে কম চাপ নিতে হয়।

৩. অতিরিক্ত ওজন কমানো

শরীরের ওজন বাড়লে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১ কেজি ওজন কমাতে পারলে রক্তচাপ প্রায় ১ পয়েন্ট (mmHg) কমে যায়। বিশেষ করে পেটের মেদ বা কোমরের বেড় কমানো উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

৪. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক প্রশান্তি

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তচাপের ওষুধকে অকেজো করে দিতে পারে। দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজ করুন। প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম বা অন্তত ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing) স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং রক্তচাপ তাৎক্ষণিকভাবে কমিয়ে আনে।

৫. মদ্যপান ও ধূমপান বর্জন

ধূমপান করার সাথে সাথেই রক্তচাপ সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীর দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত মদ্যপান ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই দুটি অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করা জরুরি।

অভ্যাসে আরও কিছু জরুরি বদল

  • পর্যাপ্ত ঘুম: দিনে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরকে রিচার্জ করে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।
  • ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত চা বা কফি খাওয়া হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলে।
  • নিয়মিত চেকআপ: বাড়িতে একটি ডিজিটাল বিপি মেশিন রাখুন এবং সপ্তাহে অন্তত দুবার রক্তচাপ মেপে ডায়েরিতে লিখে রাখুন।

শেষ কথা

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কোনো কঠিন কাজ নয়, বরং এটি একটি শৃঙ্খলার নাম। ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সক্রিয় জীবনযাপনই হতে পারে আপনার দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More