মাথায় ভর্তি উকুন? ঘরোয়া উপায়ে সহজে মুক্তি পান এই সমস্যা থেকে
উকুনের কারণে মাথার ত্বকে চুলকানি, র্যাশ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বাজারচলতি কড়া রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘরোয়া উপায়ে উকুন দূর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
মাথায় উকুন হওয়া কেবল যন্ত্রণাদায়ক নয়, বরং এটি বেশ অস্বস্তিকর এবং বিব্রতকর একটি সমস্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা দিলেও বড়রাও এর হাত থেকে রেহাই পান না। উকুনের কারণে মাথার ত্বকে চুলকানি, র্যাশ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বাজারচলতি কড়া রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘরোয়া উপায়ে উকুন দূর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাথার উকুন থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার ৫টি কার্যকর উপায় জেনে নিন।
উকুন দূর করার ৫টি সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়
১. নিম পাতার ব্যবহার
নিম পাতা হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল। এটি উকুন মারতে এবং উকুনের বংশবৃদ্ধি রোধ করতে অতুলনীয়।
পদ্ধতি: কিছু তাজা নিম পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করে মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুবার এটি ব্যবহার করলে দ্রুত ফল পাবেন। এছাড়া নিমের তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. টি-ট্রি অয়েল (Tea Tree Oil)
টি-ট্রি অয়েল উকুনের যম। এর তীব্র গন্ধ এবং রাসায়নিক উপাদান উকুনকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি: নারকেল তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে সকালে সরু দাঁতের চিরুনি (নিড়ানি) দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। দেখবেন মরা উকুন বেরিয়ে আসছে। এরপর শ্যাম্পু করে নিন।
৩. পাতিলেবুর রস ও আদার রস
উকুনের বংশবিস্তার রুখতে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকর।
পদ্ধতি: পাতিলেবুর রসের সাথে সামান্য আদার রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রাখুন। লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান উকুনের ডিম বা নিকিগুলো নষ্ট করে দেয়। সপ্তাহে তিন দিন এটি ব্যবহার করলে উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
৪. ভিনেগারের ব্যবহার (Apple Cider Vinegar)
ভিনেগার চুলের সাথে লেগে থাকা উকুনের ডিম বা নিকিগুলোকে আলগা করে দিতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি: সমপরিমাণ জল এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে চুলে স্প্রে করুন। ১০-১৫ মিনিট পর সরু চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান। এটি নিয়মিত করলে মাথায় আর নতুন করে উকুন হতে পারবে না।
৫. নারকেল তেল ও কর্পূর
নারকেল তেল উকুনের শ্বাসরোধ করে এবং কর্পূরের তীব্র গন্ধ তাদের সহ্য হয় না।
পদ্ধতি: নারকেল তেলের মধ্যে দুই-তিনটি কর্পূর গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে এই তেলটি মাথায় ভালো করে লাগান। সকালে উঠে চিরুনি দিয়ে ভালো করে আঁচড়ে উকুন পরিষ্কার করে নিন।
সাবধানতা ও প্রয়োজনীয় টিপস
- চিরুনি পরিষ্কার: উকুন দূর করার পর ব্যবহৃত চিরুনি, গামছা এবং বালিশের কভার গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- পরিচ্ছন্নতা: বাড়ির একজনের মাথায় উকুন হলে অন্যদের মাথাও পরীক্ষা করা উচিত, কারণ এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- ধৈর্য ধরুন: উকুন একদিনেই সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয় না। ডিমগুলো নষ্ট হতে এবং মরা উকুন বেরিয়ে আসতে পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।
রাসায়নিক পণ্যের বদলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উকুনের চিকিৎসা কেবল ফলদায়ক নয়, চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এই ঘরোয়া টোটকাগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই খুশকি ও উকুন্মুক্ত সুন্দর চুল ফিরে পেতে পারেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


