বাড়িতেই বানানো সম্ভব অ্যাপল সাইডার ভিনিগার! কী করতে হবে, জেনে নিন
ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন মাদার অফ ভিনিগার। কীভাবে তৈরি করবেন, জেনে নিন।
অ্যাপল সাইডার ভিনিগার (Apple Cider Vinegar - ACV) স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় একটি পানীয়। হজমশক্তি বাড়ানো, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমাতে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত। বাজারে এটি সহজে পাওয়া গেলেও, ঘরে তৈরি ACV সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত এবং বিশুদ্ধ হয়।

ঘরে বসেই কীভাবে সহজ ধাপে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার তৈরি করা যায়, তা জেনে নিন।
১. কেন ঘরে তৈরি ACV সেরা?
ঘরে তৈরি ACV-এর প্রধান সুবিধা হলো এতে কাঁচামালের গুণগত মান বজায় থাকে এবং 'মাদার' (Mother) নামে পরিচিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেনটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। এই মাদারই ACV-এর আসল স্বাস্থ্য উপকারিতার উৎস।
২. প্রয়োজনীয় উপকরণ
- আপেল (অর্গানিক): ৬-৮টি (যেকোনো মিষ্টি বা টক ধরনের আপেল)
- জল (ফিল্টার করা): পরিমাণমতো (আপেল ডোবানোর জন্য)
- চিনি (বা মধু): ২-৩ টেবিল চামচ (খামির বা ইস্ট সক্রিয় করার জন্য)
- কাঁচের পাত্র (JAR): ১টি (পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত)
- সুতির কাপড় বা চিজক্লথ: ঢাকনা হিসেবে ব্যবহারের জন্য
৩. অ্যাপল সাইডার ভিনিগার তৈরির পদ্ধতি (৩টি প্রধান ধাপ)
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি প্রায় ৪-৮ সপ্তাহ সময় নেয়।
ধাপ ১: প্রাথমিক ফার্মেন্টেশন (প্রথম ৭-১০ দিন)
- আপেল কাটা: আপেলগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। খোসা ও বীজ ফেলার প্রয়োজন নেই, কারণ এগুলিতেই উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।
- পাত্রে ভরা: আপেলের টুকরোগুলি পরিষ্কার কাঁচের জারে ভরে নিন।
- জল ও চিনি মেশানো: আপেলের টুকরোগুলির ওপর চিনি বা মধু ছিটিয়ে দিন। এরপর আপেলের টুকরোগুলি সম্পূর্ণরূপে ডুবে যায় এমন পরিমাণ ফিল্টার করা জল ঢেলে দিন। খেয়াল রাখবেন, জার যেন ওপরের দিক থেকে অন্তত ২ ইঞ্চি খালি থাকে।
- ঢাকনা: জারের মুখ ধাতব ঢাকনা দিয়ে বন্ধ না করে, সুতির কাপড় বা চিজক্লথ দিয়ে মুড়ে একটি রাবার ব্যান্ড দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিন। বাতাস চলাচলের জন্য এটি অপরিহার্য।
- সংরক্ষণ: জারটি অন্ধকার, উষ্ণ জায়গায় (১৮-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ৭-১০ দিনের জন্য রেখে দিন। প্রতিদিন একবার করে একটি পরিষ্কার চামচ দিয়ে নেড়ে আপেলগুলিকে জলের নিচে ডুবিয়ে দিন।
ধাপ ২: দ্বিতীয় ফার্মেন্টেশন ও ছেঁকে নেওয়া (পরবর্তী ৩-৪ সপ্তাহ)
- আপেল অপসারণ: ৭-১০ দিন পর যখন আপনি জলের ওপরে বুদবুদ বা ফেনা দেখতে পাবেন এবং আপেলগুলি নরম হয়ে নিচে বসে যাবে, তখন একটি পরিষ্কার কাপড় বা ছাঁকনি ব্যবহার করে আপেলের টুকরোগুলি ছেঁকে ফেলে দিন।
- তরল সংরক্ষণ: ছেঁকে নেওয়া তরলটি আবার জারে ভরে কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে দিন। এটি দ্বিতীয় ফার্মেন্টেশন পর্ব।
- সময়কাল: এই তরলটিকে আরও ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ রেখে দিন। এই সময়েই জলের ওপর হালকা ঘোলাটে স্তর তৈরি হতে শুরু করবে, যা 'মাদার অফ ভিনিগার'। যত বেশি সময় রাখবেন, ACV-এর গুণগত মান তত ভালো হবে।
ধাপ ৩: তৈরি এবং সংরক্ষণ
- স্বাদ পরীক্ষা: ৩-৪ সপ্তাহ পর তরলটি থেকে কড়া ভিনিগারের গন্ধ এলে এবং স্বাদ টক হলে বুঝবেন ACV তৈরি।
- সংরক্ষণ: মাদার-সহ ACV-কে এবার একটি বায়ু-বন্ধ (Airtight) কাঁচের বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন। এটি ঘরের তাপমাত্রায় বা ফ্রিজে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
ঘরে তৈরি ACV শুধুমাত্র খরচ কমায় না, বরং এর বিশুদ্ধতা এবং 'মাদার'-এর উপস্থিতি এটিকে বাজারের পণ্যগুলির চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর করে তোলে। সামান্য ধৈর্য ধরে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনিও পেতে পারেন আপনার নিজের হাতে তৈরি অ্যাপল সাইডার ভিনিগার।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


