How to remove glasses marks from nose: নাকের দু’পাশে চশমার জেদি দাগ? দামি ক্রিমের বদলে এই ৫টি ঘরোয়া উপায়ে তাড়ান
How to remove glasses marks from nose: অনেকে এই দাগ আড়াল করতে মেকআপ বা কনসিলারের সাহায্য নেন, কিন্তু তাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। রূপবিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া কিছু সহজ উপাদানের নিয়মিত ব্যবহারে মাত্র কয়েক দিনেই এই দাগ সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব।
How to remove glasses marks from nose: যাঁদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জীবনের এক অপরিহার্য সঙ্গী হলো চশমা। রোদ-বৃষ্টি হোক কিংবা অফিসের কাজ—সব সময়ই চশমা পরে থাকতে হয়। কিন্তু এই চশমা পরার একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো নাকের দু’পাশে কুৎসিত কালো বা খয়েরি রঙের দাগ (Spectacle Marks)। দিনের পর দিন একটানা চশমা পরে থাকার ফলে ফ্রেমের অনবরত চাপ এবং ঘামের কারণে নাকের ত্বকে এই জেদি দাগ তৈরি হয়।

অনেকে এই দাগ আড়াল করতে মেকআপ বা কনসিলারের সাহায্য নেন, কিন্তু তাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। রূপবিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া কিছু সহজ উপাদানের নিয়মিত ব্যবহারে মাত্র কয়েক দিনেই এই দাগ সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব।
চশমার ফ্রেমের বা নোজ প্যাডের অনবরত চাপ আমাদের নাকের নরম ত্বকে রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। এর সাথে যুক্ত হয় ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম এবং ঘাম। এই সব কিছু মিলে ত্বকের ওই নির্দিষ্ট অংশের মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে জায়গাটি কালো দেখায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রান্নাঘরের কিছু প্রাকৃতিক উপাদান কীভাবে ব্যবহার করবেন, জেনে নিন:
১. অ্যালোভেরা জেল ও ভিটামিন ই তেলের জাদু:
ত্বকের যেকোনো কালচে দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা অনন্য। এতে থাকা ‘অ্যালোসিন’ নামক উপাদান মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেলের সাথে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি নাকের দাগের জায়গায় আলতো হাতে বৃত্তাকার বা সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক দিনেই দাগ হালকা হতে শুরু করবে।
২. আলু এবং শসার রস:
আলু এবং শসা—উভয় ফলের রসেই রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। আলু ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশন বা কালচে ভাব দূর করতে ওস্তাদ, আর শসা ত্বককে ঠান্ডা রাখে। একটি আলু এবং একটি শসা গ্রেট করে রস বের করে নিন। এবার একটি কটন বাড বা তুলোর টুকরো সেই রসে ভিজিয়ে নাকের কালো দাগের ওপর ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে দু’বার এটি ব্যবহার করলে দ্রুত ফল মিলবে।
৩. লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণ:
লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড, যা ত্বকের গভীর থেকে দাগ তুলতে সাহায্য করে। তবে লেবুর রস সরাসরি সংবেদনশীল ত্বকে লাগালে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই আধ চামচ লেবুর রসের সাথে কয়েক ফোঁটা খাঁটি মধু মিশিয়ে নিন। মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখবে। এই মিশ্রণটি দাগের ওপর ৫-৭ মিনিট লাগিয়ে রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। (মনে রাখবেন, এটি ব্যবহারের পর রোদে বেরোবেন না)।
৪. টমেটোর পাল্প ও টক দই:
টমেটোতে থাকা লাইকোপেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের মরা চামড়া দূর করতে এবং কালচে দাগ হালকা করতে দারুণ কার্যকরী। এক চামচ টমেটোর পাল্প বা পেস্টের সাথে আধ চামচ টক দই মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এটি নাকের দু’পাশে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে।
৫. আমন্ড অয়েল বা কাঠবাদামের তেল:
আমন্ড অয়েলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং স্কিন-লাইটেনিং উপাদান। প্রতিদিন রাতে মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করার পর মাত্র দু’ফোঁটা আমন্ড অয়েল আঙুলের ডগায় নিয়ে নাকের দাগের জায়গায় ১ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এটি শুষ্ক ত্বককে নরম করার পাশাপাশি চশমার ঘষাজনিত কালো দাগ দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
ভবিষ্যতে দাগ এড়াতে কিছু জরুরি সতর্কতা:
- চশমার ফ্রেম বদলান: আপনার চশমাটি যদি অতিরিক্ত ভারী হয়, তবে হালকা ওজনের ফ্রেম বা ফাইবার ফ্রেম বেছে নিন।
- নোজ প্যাড পরিষ্কার রাখুন: চশমার নাকের নরম প্যাডগুলোতে নিয়মিত ঘাম ও ময়লা জমে। তাই প্রতিদিন জল বা স্যানিটাইজার দিয়ে নোজ প্যাড পরিষ্কার করুন, যাতে ত্বকে ইনফেকশন বা দাগ না হয়।
- ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: চশমা পরার আগে নাকের ওই অংশে সামান্য ময়েশ্চারাইজার বা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন, এতে ঘর্ষণ কম হবে।
নাকের দু’পাশের এই দাগগুলো একদিনে যেমন তৈরি হয়নি, তেমনই একদিনে চলেও যাবে না। তাই ধৈর্য ধরে সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন এই ঘরোয়া উপায়ের যেকোনো একটি নিয়ম মেনে চলুন। সঠিক যত্নে আপনার ত্বক আবার আগের মতো দাগহীন ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


