শীতে আসতেই পাড়ায় বাজছে মাইক! আপনার সন্তানের কী কী ভয়ঙ্কর বিপদ হচ্ছে এতে
এই শব্দ কেবল শব্দদূষণ নয়, বরং এটি আপনার বাড়ির ছোট সদস্যটির জন্য এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের শ্রবণেন্দ্রিয় এবং মস্তিষ্ক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায়, এই লাউড স্পিকারের শব্দ তাদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শীতের মরসুম মানেই পিকনিক, পাড়ার অনুষ্ঠান আর মেলা-জলসার রমরমা। তবে উৎসবের এই আনন্দের সমান্তরালে চলে মাইক ও লাউড স্পিকারের দাপট। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে বাজতে থাকা এই শব্দ কেবল শব্দদূষণ নয়, বরং এটি আপনার বাড়ির ছোট সদস্যটির জন্য এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের শ্রবণেন্দ্রিয় এবং মস্তিষ্ক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায়, এই লাউড স্পিকারের শব্দ তাদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জলসা ও অনুষ্ঠানের উচ্চ শব্দ আপনার সন্তানের কী কী ক্ষতি করছে, তা জেনে নিন।
লাউড স্পিকারের উচ্চ শব্দ: আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর ৫টি বড় ঝুঁকি
১. শ্রবণশক্তির চিরস্থায়ী ক্ষতি
শিশুদের কানের পর্দা অত্যন্ত পাতলা ও নরম হয়। সাধারণত ৬০-৬৫ ডেসিবেলের ওপরের শব্দ শিশুর কানের জন্য অস্বস্তিকর। কিন্তু জলসায় বাজানো মাইকের শব্দ অনেক সময় ১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ এই শব্দের মধ্যে থাকলে শিশুর কানের সূক্ষ্ম কোষগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যার ফলে অল্প বয়সেই শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার (Noise-induced Hearing Loss) ঝুঁকি থাকে।
২. তীব্র মানসিক চাপ ও খিটখিটে মেজাজ
অস্বাভাবিক শব্দ শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। উচ্চ শব্দে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, ফলে শিশু খিটখিটে হয়ে যায়, অকারণে কান্নাকাটি করে এবং ভয়ের অনুভূতি তৈরি হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা দেয়।
৩. ঘুমের ব্যাঘাত ও শারীরিক ক্লান্তি
গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের শব্দে শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমের অভাব শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং হজমের সমস্যা তৈরি করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় পরদিন শিশু ক্লান্ত বোধ করে, যা তার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৪. মনোযোগের অভাব ও পড়াশোনায় ক্ষতি
শব্দদূষণের ফলে শিশুদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা (Concentration power) কমে যায়। পাড়ায় মাইক বাজলে তারা পড়ার দিকে মন দিতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব এলাকায় শব্দদূষণ বেশি, সেখানকার শিশুদের স্মৃতিশক্তি এবং পড়ার দক্ষতা অন্যদের তুলনায় কম হয়।
৫. হৃদস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি ও রক্তচাপ
তীব্র শব্দ শিশুর হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। হঠাৎ বিকট শব্দে শিশুর বুক ধড়ফড় করা বা রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এটি শিশুদের মধ্যে উদ্বেগের (Anxiety) দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আপনার সন্তানকে রক্ষা করতে কী করবেন?
- দূরত্ব বজায় রাখা: মাইক বা সাউন্ড বক্সের কাছাকাছি শিশুকে নিয়ে যাবেন না।
- জানলা-দরজা বন্ধ রাখা: অনুষ্ঠান চলাকালীন ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ করে পর্দা টেনে দিন, যাতে ঘরে শব্দের মাত্রা কিছুটা কম থাকে।
- ইয়ার প্লাগ বা মাফলার: খুব শব্দ হলে শিশুর কানে নরম তুলো দিন বা মাফলার দিয়ে কান ঢেকে দিন। তবে দীর্ঘক্ষণ তুলো দিয়ে রাখা ঠিক নয়।
- প্রতিবাদ ও সচেতনতা: উচ্চস্বরে মাইক বাজলে স্থানীয় প্রশাসন বা আয়োজকদের সাথে কথা বলুন। শব্দবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানান।
উৎসব আসুক সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনতে, কারো অসুবিধার কারণ হতে নয়। শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের সুস্থ বিকাশের কথা মাথায় রেখে আমাদের সবারই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতন হওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আজকের সামান্য অসতর্কতা আপনার সন্তানের শ্রবণশক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


