শীতকালে কি কলা খাওয়া উচিত? এই মরশুমে কলা খেলে শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে
বিশেষ করে ঠান্ডা লাগার ভয়ে শীতকালে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে কলা বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ কি এই ধারণাকে সমর্থন করে? জেনে নিন।
শীতের বাজারে আপেল, কমলালেবু বা আঙুরের ভিড়ে বারোমাসি ফল কলার গুরুত্ব অনেকেই কমিয়ে দেন। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগার ভয়ে শীতকালে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে কলা বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ কি এই ধারণাকে সমর্থন করে? ২০২৬-এর এই হাড়কাঁপানো শীতে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে কলা রাখা কতটা নিরাপদ এবং এটি শরীরে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, জেনে নিন।

শীতকালে কলা খাওয়া কি আদৌ নিরাপদ?
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে কলা খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়, বরং এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এটি খাওয়ার সময় এবং নিয়ম জানা জরুরি। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফাইবার এবং ম্যাগনেশিয়াম, যা শীতকালীন শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে।
শীতকালীন ডায়েটে কলা রাখার ৫টি বড় সুফল
১. তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস (Energy Booster): শীতকালে আমাদের শরীর অলস হয়ে পড়ে। কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) শরীরে দ্রুত এনার্জি যোগায়। সকালে জলখাবারে একটি কলা খেলে সারাদিন কাজে উদ্যম পাওয়া যায়।
২. হজম ক্ষমতার উন্নতি: শীতের দিনে আমরা তেল-মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাই, যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। কলার উচ্চ ফাইবার উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে এবং পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
৩. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: কলায় থাকা ম্যাগনেশিয়াম শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বজায় রাখে, যা পরোক্ষভাবে শীতের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শীত মানেই সর্দি-কাশির ভয়। কলায় উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তুলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
৫. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: শীতের বিষণ্ণতা বা 'উইন্টার ব্লুজ' কাটাতে কলা দারুণ কার্যকর। এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে 'সেরোটোনিন' বা হ্যাপি হরমোন তৈরি করে মন ভালো রাখে।
কাদের সাবধান হওয়া উচিত?
যদিও কলা পুষ্টিকর, তবুও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন:
- সর্দি-কাশির প্রবণতা: যাদের সাইনাস, অ্যাজমা বা তীব্র সর্দি-কাশির সমস্যা রয়েছে, তারা খুব ভোরে বা রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। কলা শরীরে 'মিউকাস' বা শ্লেষ্মা তৈরি করতে পারে।
- ডায়াবেটিস: কলায় শর্করার মাত্রা বেশি থাকে, তাই মধুমেহ রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খাওয়া উচিত।
শীতে কলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- সময়: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে কলা খাওয়া সবচেয়ে ভালো। রোদ ওঠার পর কলা খেলে হজম ভালো হয়।
- খালি পেটে নয়: খুব ভোরে খালি পেটে কলা না খেয়ে কোনো ভারি খাবারের সাথে বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।
শীতকালে কলা খাওয়া নিয়ে প্রচলিত ভয়গুলো আসলে ভিত্তিহীন। সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে কলা খেলে এটি আপনার শীতকালীন সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে। সুস্থ থাকতে তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন এই সস্তা ও মহামূল্যবান সুপারফুড।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


