দুধ আর কলা একসঙ্গে খান? হতে পারে বিপদ! কারা এই দুই খাবার একত্রে খাবেন না, জেনে নিন
প্রাতঃরাশ বা ব্যায়ামের পরে অনেকেই দুধ এবং কলা একসঙ্গে খান। এটি কি ঠিক অভ্যাস? কী বলছে বিজ্ঞান? জেনে নিন।
দুধ (Milk) এবং কলা (Banana) ভারতীয় উপমহাদেশে বহুল প্রচলিত একটি খাদ্য সংমিশ্রণ। অনেকে এটিকে পুষ্টিকর প্রাতঃরাশ বা ব্যায়ামের পরে খাওয়ার আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন। এই দুটি খাবারেই প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান, যেমন ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং প্রোটিন রয়েছে। তবে আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এই সংমিশ্রণটি নিয়ে মিশ্র মতামত দেন।

দুধ ও কলা একসঙ্গে খাওয়া উচিত কি না, এর সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধা এবং কাদের এই মিশ্রণটি এড়িয়ে চলা উচিত, তা জেনে নিন।
১. দুধ ও কলা: পুষ্টির সংমিশ্রণ
- কলা: কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬-এর একটি চমৎকার উৎস। এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে।
- দুধ: প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ফ্যাটের ভালো উৎস।
ক. আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের মতামত
পুষ্টিবিজ্ঞানীরা সাধারণত এই সংমিশ্রণকে একটি উচ্চ-ক্যালোরি এবং উচ্চ-শক্তির মিশ্রণ (High-Calorie, High-Energy Mix) হিসেবে দেখেন। ব্যায়ামের পরে পেশীর পুনরুদ্ধার এবং গ্লাইকোজেন (Glycogen) পূরণ করার জন্য এটি একটি দ্রুত এবং কার্যকর উপায় হতে পারে। একটি সাধারণ মিল্কশেক (Milkshake) হিসাবে এটি সম্পূর্ণ প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য বজায় রাখে।
খ. আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিকোণ
আয়ুর্বেদ এই সংমিশ্রণটিকে বিরুদ্ধ আহার (Incompatible Food Combination) বলে মনে করে।
- হজমে সমস্যা: আয়ুর্বেদ অনুসারে, দুধ ও কলার হজমের সময় এবং পদ্ধতি ভিন্ন। দুধ হজম হতে বেশি সময় নেয়। এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার ফলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ (Toxins বা 'আম') জমা হতে পারে।
- ভারসাম্যহীনতা: এই মিশ্রণটি শরীরে শ্লেষ্মা বা কফ (Mucus) বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ঠান্ডা লাগা, সাইনাসের সমস্যা এবং অ্যাজমার মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
২. কারা এই দুই খাবার একসঙ্গে খাবেন না?
কিছু স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে দুধ ও কলার মিশ্রণ এড়িয়ে চলা বা সাবধানে খাওয়া উচিত:
- দুর্বল হজমশক্তি: যাদের হজমশক্তি দুর্বল, পেটে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome) এর মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের এই মিশ্রণ এড়িয়ে চলাই ভালো। এই সংমিশ্রণ হজমে আরও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- অ্যালার্জি বা ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা: ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে দুধ এবং কলার মিশ্রণ পেটে ব্যথা, ফোলাভাব (Bloating) এবং ডায়রিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে।
- অ্যাজমা বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা: আয়ুর্বেদের মতে, এই সংমিশ্রণ কফ বা শ্লেষ্মা বাড়িয়ে দেয়। তাই যারা অ্যাজমা বা ঘন ঘন ঠান্ডা লাগার সমস্যায় ভোগেন, তাদের এই মিশ্রণ পরিহার করা উচিত।
- ওজন কমানোর ডায়েট: যারা ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের জন্য এই মিশ্রণটি খুব উচ্চ-ক্যালোরি হতে পারে। ১টি কলা এবং ১ গ্লাস দুধ প্রায় ৩০০-৩৫০ ক্যালোরি সরবরাহ করতে পারে।
৩. কীভাবে এই দুটি খাবার খাওয়া যেতে পারে?
যারা এই মিশ্রণ পছন্দ করেন কিন্তু ঝুঁকি কমাতে চান, তারা নিম্নলিখিত কৌশলগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
- আলাদা করে খান: দুধ এবং কলা একসঙ্গে না খেয়ে ২০ মিনিটের বিরতিতে খান। প্রথমে কলা খেয়ে পরে দুধ পান করা অপেক্ষাকৃত ভালো।
- হজম সহায়ক উপাদান: কলার মিল্কশেকে এক চিমটি এলাচ বা দারচিনি গুঁড়ো যোগ করলে তা হজমে সাহায্য করতে পারে।
- ব্যায়ামের পরে: তীব্র ব্যায়ামের পরে শরীর যখন দ্রুত পুষ্টি শোষণের জন্য প্রস্তুত থাকে, তখন এই মিশ্রণটি খাওয়া যেতে পারে।
দুধ ও কলা একটি পুষ্টিকর কিন্তু হজমের ক্ষেত্রে বিতর্কিত মিশ্রণ। যদি আপনার হজমশক্তি ভালো থাকে এবং কোনো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা না থাকে, তবে পরিমিত পরিমাণে এই মিশ্রণ খাওয়া যেতে পারে। তবে দুর্বল হজমশক্তি বা কফের সমস্যা থাকলে এই সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


