ফ্রিজে রাখা ভাত বার বার গরম করে খেলে কি সত্যিই লিভার ক্যানসার হতে পারে? কী বলছে বিজ্ঞান

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, বাসি ভাত বা বারবার গরম করা ভাত খেলে নাকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এই দাবির সত্যতা কতটুকু? বিজ্ঞান কী বলছে?

Published on: Jan 27, 2026, 15:03:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে আমরা অনেকেই একবারে অনেকটা ভাত রান্না করে ফ্রিজে তুলে রাখি এবং পরে তা বারবার গরম করে খাই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, বাসি ভাত বা বারবার গরম করা ভাত খেলে নাকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এই দাবির সত্যতা কতটুকু? বিজ্ঞান কী বলছে?

ফ্রিজে রাখা ভাত বার বার গরম করে খেলে কি সত্যিই লিভার ক্যানসার হতে পারে?
ফ্রিজে রাখা ভাত বার বার গরম করে খেলে কি সত্যিই লিভার ক্যানসার হতে পারে?

২০২৬ সালের আধুনিক স্বাস্থ্য গবেষণা ও চিকিৎসকদের মতামত জেনে নিন।

বাসি ভাত ও ক্যানসার আতঙ্ক: আসল সত্যিটা কী?

সরাসরি বলতে গেলে, ভাত বারবার গরম করে খেলে সরাসরি লিভার ক্যানসার হয়—এমন কোনো অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে, ভাত সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ না করলে এটি মারাত্মক ফুড পয়জনিং বা লিভারের ক্ষতি করতে পারে।

১. 'ব্যাসিলাস সেরিয়াস' (Bacillus Cereus) ব্যাকটেরিয়ার বিপদ

চালে প্রাকৃতিকভাবেই 'ব্যাসিলাস সেরিয়াস' নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে। ভাত রান্নার পরও এই স্পোরগুলো বেঁচে থাকতে পারে। যদি রান্না করা ভাত ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা হয়, তবে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং এক ধরণের বিষাক্ত টক্সিন তৈরি করে।

২. টক্সিন ও লিভারের ওপর প্রভাব

ভাত বারবার গরম করলেও এই টক্সিনগুলো সবসময় ধ্বংস হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে নষ্ট বা নিম্নমানের বাসি খাবার খেলে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা থেকে ক্রনিক হজমের সমস্যা বা লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। যদিও সরাসরি ক্যানসার বলা কঠিন, তবে অপরিচ্ছন্ন বাসি খাবার লিভারের কোষের ক্ষতি করতে পারে।

ভাত ফ্রিজে রাখার ও গরম করার সঠিক নিয়ম

আপনি যদি ফ্রিজে রাখা ভাত খেতে চান, তবে এই নিয়মগুলো মেনে চললে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব:

  • দ্রুত ঠান্ডা করুন: ভাত রান্না করার ১ ঘণ্টার মধ্যে তা ঠান্ডা করে বায়ুরোধী (Airtight) পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখুন। ঘরের তাপমাত্রায় ৪-৫ ঘণ্টার বেশি ভাত ফেলে রাখবেন না।
  • একবারের বেশি গরম নয়: ফ্রিজ থেকে ভাত বের করে একবারই গরম করে খেয়ে ফেলুন। বারবার ফ্রিজ থেকে বের করা আর গরম করা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
  • উচ্চ তাপমাত্রায় গরম: ভাত গরম করার সময় নিশ্চিত করুন যেন তা একদম ভেতর পর্যন্ত ধোঁয়া ওঠা গরম হয়। হালকা গরম ভাতে ব্যাকটেরিয়া মরে না।
  • সংরক্ষণের মেয়াদ: ফ্রিজে রাখা ভাত সর্বোচ্চ ২ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। এর বেশি হলে ভাতের স্বাদ ও গুণমান নষ্ট হতে থাকে।

লিভার ক্যানসার হওয়ার সরাসরি কারণ হিসেবে ভাতকে দায়ী করা না গেলেও, বাসি ভাতে হওয়া ব্যাকটেরিয়া আপনার পরিপাকতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই যতটা সম্ভব টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বাসি ভাত এড়িয়ে চলাই মঙ্গলজনক।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More