শীতে রুম হিটার ব্যবহার করবেন ভাবছেন? এটা ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ

কনকনে ঠান্ডায় ঘরকে উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে রুম হিটার এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে ঠিকই, তবে সামান্য অসাবধানতায় এটি ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। দীর্ঘক্ষণ রুম হিটার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডও।

Published on: Dec 29, 2025, 12:08:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শীতের কামড় থেকে বাঁচতে বর্তমানে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই রুম হিটারের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় ঘরকে উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে রুম হিটার এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে ঠিকই, তবে সামান্য অসাবধানতায় এটি ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। দীর্ঘক্ষণ রুম হিটার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডও।

শীতে রুম হিটার ব্যবহার করবেন ভাবছেন? এটা ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ
শীতে রুম হিটার ব্যবহার করবেন ভাবছেন? এটা ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ

রুম হিটার ব্যবহার কতটা নিরাপদ এবং ব্যবহারের সময় কোন কোন সতর্কতা জরুরি, জেনে নিন।

রুম হিটার ব্যবহার কি সম্পূর্ণ নিরাপদ?

সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে রুম হিটার নিরাপদ, কিন্তু এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি রয়েছে:

বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস: রুম হিটার বাতাসের জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, যা ত্বক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর।

অক্সিজেনের স্বল্পতা: বিশেষ করে গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক হিটার এবং কিছু সস্তা ইলেকট্রিক হিটার ঘরের অক্সিজেন পুড়িয়ে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করতে পারে, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: হিটারের ওপর কাপড় শুকানো বা দাহ্য পদার্থের কাছে রাখা থেকে আগুন লাগার ঘটনা আকছার ঘটে থাকে।

রুম হিটার ব্যবহারের সময় যে ১০টি বিষয় মাথায় রাখতেই হবে

নিরাপদ উষ্ণতা উপভোগ করতে নিচের নির্দেশিকাগুলো মেনে চলুন:

১. ঘর পুরোপুরি বন্ধ করবেন না

হিটার চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানলা একদম বাতাস ঢোকার ছিদ্রহীনভাবে বন্ধ করবেন না। সামান্য ফাঁক রাখুন যাতে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে। এতে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমে।

২. জলের পাত্র রাখা

বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিটারের থেকে কিছুটা দূরে এক বাটি জল রেখে দিন। এটি ঘরের বাতাসকে অতিরিক্ত শুষ্ক হতে দেবে না, ফলে নাক-মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা গলার অস্বস্তি কমবে।

৩. দাহ্য বস্তু থেকে দূরত্ব

বিছানা, পর্দা, আসবাবপত্র বা কাগজের স্তূপ থেকে হিটারকে অন্তত ৩ ফুট দূরে রাখুন। হিটারের গায়ে কোনো কাপড় বা তোয়ালে শুকোতে দেবেন না।

৪. সরাসরি মাটিতে এবং শক্ত সমতলে রাখা

হিটার সবসময় শক্ত ও সমতল মেঝেতে রাখুন। কার্পেট বা ম্যাটের ওপর হিটার রাখলে তা অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ভয় থাকে।

৫. শিশুদের থেকে দূরে রাখা

শিশুরা কৌতূহলবশত হিটারের গায়ে হাত দিতে পারে। তাই হিটার এমন উচ্চতায় বা স্থানে রাখুন যেখানে শিশু বা পোষ্য প্রাণীর নাগাল পৌঁছায় না।

৬. ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ

সারারাত হিটার চালিয়ে ঘুমাবেন না। ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে রুম গরম করে হিটার বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। টাইমার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।

৭. পাওয়ার স্ট্রিপ বা মাল্টিপ্লাগ এড়িয়ে চলা

রুম হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। তাই এটি সরাসরি দেওয়ালের মেইন সকেটে লাগানো উচিত। মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করলে তা গরম হয়ে গলে যেতে পারে বা শর্ট সার্কিট হতে পারে।

৮. সেন্সর ও সেফটি ফিচার চেক করা

হিটার কেনার সময় দেখে নিন তাতে 'অটো কাট-অফ' বা 'টিপ-ওভার সুইচ' (হিটার উল্টে গেলে অটোমেটিক বন্ধ হওয়া) সুবিধা আছে কি না।

৯. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

হিটারের কয়েলে ধুলো জমে থাকলে তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে বা যান্ত্রিক সমস্যা হতে পারে। ব্যবহারের আগে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন।

১০. ত্বকের যত্ন

হিটারের তাপে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন।

শীতের রাতে আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত করতে রুম হিটার একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধা যেন বিপদের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদেরই। উপরের সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনি নিশ্চিন্তে শীত উপভোগ করতে পারবেন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More