ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন? ঠিক করছেন কি

চিকিৎসকরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবণের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দেন ঠিকই, কিন্তু অতি-সচেতন হতে গিয়ে অনেকেই জীবন থেকে নুনকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি, নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেওয়া আপনার শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে?

Published on: Jan 17, 2026 4:53 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের নাম শুনলেই আমাদের মাথায় প্রথম যে শব্দটি আসে, তা হলো ‘নুন’ বা লবণ। চিকিৎসকরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবণের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দেন ঠিকই, কিন্তু অতি-সচেতন হতে গিয়ে অনেকেই জীবন থেকে নুনকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি, নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেওয়া আপনার শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে?

ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন? ঠিক করছেন কি
ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন? ঠিক করছেন কি

রক্তচাপের ভয়ে নুন ত্যাগ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো কী কী, জেনে রাখুন।

নুন কি সত্যিই বিষ? শরীরের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড আমাদের শরীরের একটি অপরিহার্য ইলেকট্রোলাইট। শরীর সচল রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম:

  • স্নায়ুর কার্যকারিতা: মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সংকেত আদান-প্রদানের জন্য সোডিয়ামের প্রয়োজন।
  • পেশির সংকোচন: হৃদপিণ্ডসহ শরীরের প্রতিটি পেশির স্বাভাবিক নড়াচড়ার জন্য নুন দরকার।
  • জলের ভারসাম্য: কোষে জলের মাত্রা এবং রক্তের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে সোডিয়াম কাজ করে।

নুন একেবারে বন্ধ করলে কী কী বিপদ হতে পারে?

রক্তচাপ কমানোর নেশায় নুন বর্জন করলে আপনি হাইপোনাট্রেমিয়া (Hyponatremia) নামক সমস্যার শিকার হতে পারেন। এর ফলে যা হতে পারে:

১. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস: শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা মারাত্মক কমে গেলে মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, মানসিক বিভ্রান্তি এবং এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৩ গ্রামের কম লবণ খান, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি স্বাভাবিক লবণ গ্রহণকারীদের তুলনায় অনেক সময় বেড়ে যায়।

৩. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: নুন একবারে বন্ধ করে দিলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

৪. খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি: হঠাৎ নুন কমিয়ে দিলে রক্তে এলডিএল (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

কতটা নুন আপনার জন্য নিরাপদ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৫ গ্রামের কম (প্রায় ১ চা-চামচ) নুন খাওয়া উচিত। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে এই মাত্রা কিছুটা কমিয়ে ৩-৪ গ্রামে আনতে পারেন। কিন্তু ‘শূন্য’ করে দেওয়া কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সঠিক উপায়টি কী?

  • কাঁচা নুন বর্জন করুন: পাতে আলাদা করে নুন নেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। রান্নায় যতটা দরকার ততটাই দিন।
  • লুকানো নুন থেকে সাবধান: চিপস, চানাচুর, সস, আচার এবং প্রসেসড খাবারে প্রচুর লুকানো নুন থাকে। আসল বিপদটা এখানেই। এগুলো বর্জন করাই হলো আসল সমাধান।
  • পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: নুনের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের জল, কলা বা কমলালেবু খান।

নুন শত্রু নয়, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার অবশ্যই ক্ষতিকর। জীবন থেকে নুন পুরোপুরি মুছে না ফেলে তার পরিমাপ ঠিক রাখুন। মনে রাখবেন, ভারসাম্যহীন ডায়েট আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বদলে নতুন কোনো শারীরিক জটিলতা ডেকে আনতে পারে।