কাঁঠালি নাকি সিঙ্গাপুরি, কোন ধরনের কলা আপনার খাওয়া উচিত? জেনেবুঝে খান

আমাদের অনেকেরই ধারণা সব কলার গুণাগুণ একই, কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। স্বাদে, গন্ধে এবং পুষ্টির পরিমাণে এই দুই ধরনের কলার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

Published on: Jan 8, 2026, 12:03:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাজারে বারোমাসি ফলের তালিকায় কলার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তবে দোকানদারের কাছে গেলেই প্রশ্ন জাগে— ছোট আর সুগন্ধি 'কাঁঠালি' কলা নেব, নাকি লম্বাটে আর শাঁসালো 'সিঙ্গাপুরি' কলা? আমাদের অনেকেরই ধারণা সব কলার গুণাগুণ একই, কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। স্বাদে, গন্ধে এবং পুষ্টির পরিমাণে এই দুই ধরনের কলার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

কাঁঠালি নাকি সিঙ্গাপুরি, কোন ধরনের কলা আপনার খাওয়া উচিত? জেনেবুঝে খান
কাঁঠালি নাকি সিঙ্গাপুরি, কোন ধরনের কলা আপনার খাওয়া উচিত? জেনেবুঝে খান

আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কোন কলাটি সেরা, জেনে নিন।

কাঁঠালি বনাম সিঙ্গাপুরি: পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

১. কাঁঠালি কলা (Kathali Banana)

কাঁঠালি কলা আকারে ছোট হলেও পুষ্টির বিচারে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। একে অনেক সময় 'দেশি কলা' বা 'বীজ কলা'-ও বলা হয়।

  • পুষ্টিগুণ: এতে পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রা সিঙ্গাপুরি কলার চেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া এটি ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস।
  • হজম ক্ষমতা: কাঁঠালি কলা হজম করা সহজ এবং এটি পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে বীজের ভাগ থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
  • প্রাকৃতিক শর্করা: এতে শর্করার মাত্রা সিঙ্গাপুরি কলার তুলনায় কিছুটা কম এবং প্রাকৃতিক মিষ্টতা বেশি।

২. সিঙ্গাপুরি কলা (Singapuri/Robusta Banana)

শহর অঞ্চলে সিঙ্গাপুরি কলার চাহিদা বেশি কারণ এটি শাঁসালো এবং খেতে বেশ নরম।

  • পুষ্টিগুণ: এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা (Carbohydrates) এবং ক্যালোরি থাকে। যারা তাৎক্ষণিক শক্তি বা এনার্জি পেতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা।
  • ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম: হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাগনেশিয়াম এই কলায় প্রচুর পরিমাণে থাকে।
  • আয়রন: রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতে সিঙ্গাপুরি কলা বেশ কার্যকর।

কাদের জন্য কোন কলাটি সেরা?

কাঁঠালি কলা বেছে নিন যদি আপনি:

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান: এতে ক্যালোরি সিঙ্গাপুরি কলার চেয়ে কম থাকে।
  • পেটের সমস্যায় ভোগেন: কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা থাকলে কাঁঠালি কলা মহৌষধ।
  • শিশুদের জন্য: শিশুদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও আয়রন কাঁঠালি কলায় বেশি থাকায় এটি বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য সেরা।

সিঙ্গাপুরি কলা বেছে নিন যদি আপনি:

  • দ্রুত ওজন বাড়াতে চান: এতে কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি বেশি থাকায় ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • অ্যাথলিট বা জিম করেন: শরীরচর্চার পর দ্রুত এনার্জি ফিরে পেতে সিঙ্গাপুরি কলা সবচেয়ে ভালো।
  • অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভোগেন: এতে থাকা আয়রন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।

সাবধানতা

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরি কলার তুলনায় কাঁঠালি কলা কিছুটা নিরাপদ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত কলা খাওয়া উচিত নয়। আবার যাদের খুব সর্দি-কাশির ধাত রয়েছে, তারা রাতের বেলা যে কোনো কলা খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

শেষ কথা

পুষ্টির বিচারে কাঁঠালি কলাকে অনেক বিশেষজ্ঞই এক ধাপ এগিয়ে রাখেন কারণ এটি অনেক বেশি প্রাকৃতিক এবং সহজপাচ্য। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার খাদ্যতালিকায় দুটিই স্থান পেতে পারে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More