Quote of the Day: ‘মুখে প্রথম ঘুষিটি না খাওয়া পর্যন্ত…’, কীভাবে বদলে যায় জীবন? টাইসনের এই উক্তি থেকেই পরিষ্কার

Quote of the Day: টাইসন ছোটবেলায় খুব লাজুক ছিলেন। তাঁর শখ ছিল পায়রা পোষা। তার পরে কী হল? বদলে গেল জীবন। 

Published on: Apr 14, 2026 7:48 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Quote of the Day: বক্সিংয়ের ইতিহাসে 'সবচেয়ে নিষ্ঠুর' মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও মাইক টাইসনের জীবন আসলে এক চরম বৈপরীত্যের গল্প। ব্রুকলিনের অন্ধকার গলি থেকে উঠে এসে বিশ্ব জয় করা, তারপর পতনের অতল গহ্বর থেকে আবার উঠে দাঁড়ানো—টাইসন কেবল একজন অ্যাথলেট নন, তিনি এক অপরাজেয় সত্তা।

‘মুখে প্রথম ঘুষিটি…’, কীভাবে বদলে যায় জীবন? টাইসনের এই উক্তি থেকেই পরিষ্কার
‘মুখে প্রথম ঘুষিটি…’, কীভাবে বদলে যায় জীবন? টাইসনের এই উক্তি থেকেই পরিষ্কার

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)

"মুখে প্রথম ঘুষিটি না খাওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেরই একটা পরিকল্পনা থাকে।" (Everyone has a plan 'till they get punched in the mouth)

  • ব্যাখ্যা: এই উক্তিটি টাইসন দিয়েছিলেন জীবনের চরম বাস্তবতাকে বোঝাতে। রিংয়ের বাইরে আমরা অনেক বড় বড় পরিকল্পনা করি, কিন্তু যখন জীবন আমাদের কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় বা সরাসরি আঘাত হানে, তখন সেই সব তাত্ত্বিক পরিকল্পনা আর কাজে লাগে না। আসল চরিত্র তখনই বোঝা যায়, যখন কেউ আঘাত পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখায়।

জীবনের কিছু রোমাঞ্চকর অ্যানেকডোট (Anecdotes)

মাইক টাইসনের জীবন সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি নাটকীয়। তাঁর জীবনের কিছু ছোট গল্প এখানে তুলে ধরা হলো:

১. কবুতর ও প্রথম লড়াই: টাইসন ছোটবেলায় খুব লাজুক ছিলেন। তাঁর শখ ছিল কবুতর পোষা। একদিন এক স্থানীয় মাস্তান তাঁর একটি প্রিয় কবুতরের মাথা ছিঁড়ে ফেলে। সেই ক্ষোভ থেকে ১০ বছর বয়সী টাইসন প্রথমবারের মতো কারোর ওপর হাত তোলেন এবং সেই মাস্তানকে রীতিমতো পিটিয়ে ধরাশায়ী করেন। সেখান থেকেই ব্রুকলিনের রাস্তায় তাঁর ‘লড়াকু’ পরিচয়ের শুরু।

২. কাস ডি'আমাতোর সেই ভবিষ্যৎবাণী: টাইসনের মেন্টর ও কোচ কাস ডি'আমাতো যখন প্রথমবার টাইসনকে বক্সিং করতে দেখেন, তখন তিনি বলেছিলেন, "এই ছেলেটিই হবে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন।" কাসের সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়েছিল, যদিও কাস নিজে টাইসনের সেই সাফল্য দেখে যেতে পারেননি।

৩. বাঘ পোষার শখ: টাইসনের পাগলামির কথা সবার জানা। তিনি একবার কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার কিনেছিলেন। তিনি তাঁর পোষা বাঘের সঙ্গে ঘুমানো এবং তাদের সঙ্গে কুস্তি লড়াতেও অভ্যস্ত ছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে তিনি স্বীকার করেছেন যে বন্য প্রাণীকে ঘরে রাখা তাঁর জীবনের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)

জন্ম ও কঠিন শৈশব: ১৯৬৬ সালের ৩০ জুন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মাইক টাইসন জন্মগ্রহণ করেন। চরম দারিদ্র্য আর অপরাধ প্রবণ এলাকায় বড় হওয়ায় মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি ৩৮ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেখান থেকেই কাস ডি'আমাতো তাঁকে তুলে এনে বক্সিং রিংয়ে দীক্ষিত করেন।

সাফল্যের স্বর্ণশিখর: ১৯৮৬ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে ট্রেভর বারবিককে হারিয়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাঁর পাঞ্চের গতি এবং শক্তি প্রতিপক্ষকে রিংয়ে দাঁড়াতে দিত না। একে একে ডব্লিউবিসি (WBC), ডব্লিউবিএ (WBA) এবং আইবিএফ (IBF) খেতাব জিতে তিনি অবিসংবাদিত চ্যাম্পিয়ন হন।

পতন ও অভিনয় জীবন: নব্বইয়ের দশকে টাইসনের জীবনে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। ব্যক্তিগত জীবনের বিশৃঙ্খলা এবং জেল খাটার কারণে তাঁর ক্যারিয়ার থমকে যায়। তবে ২০০৯ সালে 'দ্য হ্যাংওভার' সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নতুন করে পপ কালচারে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল পডকাস্টার এবং ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কেন তিনি আজও লিজেন্ড?

মাইক টাইসন শিখিয়েছেন যে মানুষ তার ভুলের উর্ধ্বে উঠতে পারে। রিংয়ের সেই প্রচণ্ড আগ্রাসন কাটিয়ে আজকের শান্ত ও দার্শনিক টাইসন আসলে ধৈর্য আর পরিবর্তনের প্রতীক। তিনি কেবল নকআউট করতে জানেন না, তিনি জানেন নকআউট হওয়ার পর কীভাবে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More