Quote of the Day: ‘…এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই জগতটা টিকে আছে’, কোন বিশ্বাসের কথা বলেছিলেন বুলগাকভ
Quote of the Day: বুলগাকভ একবার তাঁর অমর সৃষ্টি 'দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা'র প্রথম খসড়াটি ভয়ে এবং হতাশায় আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। তিনি জানতেন এই লেখা সোভিয়েত সরকার কখনো ছাপতে দেবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি স্মৃতি থেকে সেই বিশাল উপন্যাস পুনরায় লিখেছিলেন।
Quote of the Day: বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে মিখাইল বুলগাকভ এমন এক নাম, যাঁর লেখা মৃত্যুর অনেক বছর পর আলোর মুখ দেখেছে এবং বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের কঠিন সেন্সরশিপের যুগেও তিনি তাঁর কল্পনাশক্তি আর রূপকধর্মী লেখনী দিয়ে সত্যকে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর 'দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা' উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
"সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই জগতটা টিকে আছে।" (Everything will turn out right, the world is built on that)
জীবনের কিছু বিস্ময়কর অ্যানেকডোট (Anecdotes)
বুলগাকভের জীবন কোনো মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডির চেয়ে কম ছিল না। তাঁর সাহসিকতা আর দুর্ভাগ্যের কিছু গল্প আজও পাঠকদের শিহরিত করে:
১. মৃত পাণ্ডুলিপি কখনো পোড়ে না: বুলগাকভ একবার তাঁর অমর সৃষ্টি 'দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা'র প্রথম খসড়াটি ভয়ে এবং হতাশায় আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। তিনি জানতেন এই লেখা সোভিয়েত সরকার কখনো ছাপতে দেবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি স্মৃতি থেকে সেই বিশাল উপন্যাস পুনরায় লিখেছিলেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকেই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপটি এসেছিল— "Manuscripts don't burn" (পাণ্ডুলিপি কখনো পোড়ে না)। আজ সেই পোড়ানো লেখাটিই বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
২. স্ট্যালিনের রহস্যময় ফোন কল: বুলগাকভের নাটক ও লেখা নিষিদ্ধ থাকায় তিনি যখন প্রচণ্ড দারিদ্র্য ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন তিনি সরাসরি সোভিয়েত একনায়ক জোসেফ স্ট্যালিনকে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, হয় তাঁকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হোক, নয়তো কাজ দেওয়া হোক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্ট্যালিন নিজে তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং মস্কো আর্ট থিয়েটারে তাঁর কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বুলগাকভকে স্ট্যালিন ঘৃণা করলেও তাঁর মেধার কদর করতেন।
৩. ডাক্তার থেকে লেখক: বুলগাকভ পেশায় ছিলেন একজন ডাক্তার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে সাহিত্য রচনায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছিল। তিনি বলতেন, একজন সার্জনের মতো তিনি সমাজের অন্ধকার দিকগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করতে চান।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শিক্ষা: ১৮৯১ সালের ১৫ মে ইউক্রেনের কিয়েভে (তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্য) মিখাইল বুলগাকভ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক। কিয়েভ ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি কিছুদিন গ্রামীণ এলাকায় ডাক্তার হিসেবে কাজ করেন।
- সাহিত্য জীবন: ১৯২০-এর দশকে তিনি চিকিৎসা পেশা ছেড়ে পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তাঁর 'দ্য হোয়াইট গার্ড' উপন্যাসটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করায় তাঁর অধিকাংশ লেখা নিষিদ্ধ করা হয়। বুলগাকভ মূলত স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক লেখার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর লেখায় জাদুবাস্তবতা এবং তীব্র রাজনৈতিক শ্লেষের অপূর্ব মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। 'হার্ট অফ এ ডগ' তাঁর অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ রূপকধর্মী রচনা।
- জীবনাবসান: সারা জীবন দারিদ্র্য আর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সঙ্গে লড়াই করে ১৯৪০ সালের ১০ মার্চ মাত্র ৪৮ বছর বয়সে তিনি মস্কোতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ২৬ বছর পর 'দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা' পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয় এবং তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়।
কেন তিনি আজও প্রাসঙ্গিক?
বুলগাকভ আমাদের শেখান যে, সত্যকে সাময়িকভাবে চেপে রাখা গেলেও তাকে চিরতরে মুছে ফেলা যায় না। বর্তমানে যখন আমরা বাকস্বাধীনতা আর শিল্পের অধিকার নিয়ে কথা বলি, তখন বুলগাকভ এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা। তাঁর প্রতিটি চরিত্র আমাদের চারপাশের ভণ্ডামিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


