ঠান্ডা পড়তেই মশার উৎপাত বেড়েছে? বাড়িতে এই গাছগুলি রাখলে মশার উৎপাত কমবে
শা তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে, কিছু গাছ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা তাদের শক্তিশালী সুগন্ধের মাধ্যমে মশার প্রবেশ ও উৎপাত কমাতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত মশার উপদ্রব কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু অনেক সময় উষ্ণ এবং আর্দ্র অভ্যন্তরীণ পরিবেশে মশার প্রজনন ও উৎপাত বেড়ে যায়। মশা তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে, প্রকৃতি নির্ভর কিছু গাছ (Natural Mosquito Repellents) ব্যবহার করা যেতে পারে, যা তাদের শক্তিশালী সুগন্ধের মাধ্যমে মশার প্রবেশ ও উৎপাত কমাতে সাহায্য করে।

শীতকালে মশা তাড়ানোর জন্য বাড়িতে কোন গাছগুলি রাখা উচিত এবং তারা কীভাবে কাজ করে, তা জেনে নিন।
১. মশা তাড়ানোর রহস্য: প্রাকৃতিক সুগন্ধী যৌগ
যে গাছগুলি মশা তাড়াতে পারে, সেগুলির মূল রহস্য হলো তাদের পাতা বা কাণ্ড থেকে নির্গত শক্তিশালী উদ্বায়ী তেল (Volatile Oils)। এই তেলগুলির সুগন্ধ মশার স্নায়ুতন্ত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং মশা সেই স্থান থেকে দূরে থাকে।
২. মশা তাড়ানোর সেরা ৫টি গাছ
এই গাছগুলি বাড়িতে বা বারান্দায় রাখলে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে:
ক. তুলসী (Holy Basil)
তুলসী একটি অত্যন্ত কার্যকর মশা তাড়ানোর গাছ। তুলসীর পাতায় ইউজেনল (Eugenol) এবং ক্যাম্পফিনের মতো শক্তিশালী যৌগ থাকে, যা মশার ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করতে পারে। তুলসী কেবল মশা তাড়ায় না, এর পাতা পিষে শরীরে লাগালেও মশা দূরে থাকে।
খ. লেমনগ্রাস (Lemon Grass / Citronella Grass)
সিট্রোনেলা (Citronella) তেল মশা তাড়ানোর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। লেমনগ্রাস হলো এই তেলের প্রাকৃতিক উৎস। এর তীব্র লেবুর মতো সুগন্ধ মশার কাছে অসহ্য লাগে। লেমনগ্রাসযুক্ত ক্যান্ডেল বা স্প্রে ব্যবহার করার চেয়ে গাছ রাখলে তা মশারোধী পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।
গ. পুদিনা পাতা (Mint)
পুদিনা পাতা বা মিন্টের শক্তিশালী মেন্থলযুক্ত সুগন্ধ মশা, বিশেষত টাইগার মশাকে দূরে রাখতে খুব কার্যকর। বাড়ির দরজা-জানালার আশেপাশে পুদিনার টব রাখলে মশার প্রবেশ কিছুটা কমতে পারে।
ঘ. গাঁদা ফুল (Marigold)
গাঁদা ফুলে পাইরেথ্রাম (Pyrethrum) নামক একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক উপাদান থাকে, যা মশা তাড়াতে সহায়তা করে। গাঁদা ফুলের শক্তিশালী, কিছুটা তিক্ত গন্ধ মশার জন্য অপ্রীতিকর। বাড়ির বারান্দায় বা জানালার নিচে গাঁদা ফুলের টব রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ঙ. ল্যাভেন্ডার (Lavender)
ল্যাভেন্ডারের শান্ত এবং মিষ্টি সুগন্ধ মানুষের কাছে প্রিয় হলেও, মশা এই গন্ধ একেবারেই সহ্য করতে পারে না। ল্যাভেন্ডার তেল মশা তাড়ানোর জন্য খুবই শক্তিশালী। টবে ল্যাভেন্ডার গাছ রাখলে তা প্রাকৃতিক বাফার হিসেবে কাজ করে।
৩. কার্যকারিতা বাড়ানোর কৌশল
শুধু গাছ রাখলেই হবে না, তাদের থেকে পুরোপুরি সুবিধা পেতে নিম্নলিখিত কাজগুলি করুন:
- সঠিক অবস্থান: গাছের টবগুলি ঘরের প্রবেশ পথ, জানালার কাছে এবং বারান্দায় রাখুন, যাতে মশা ঢোকার আগে গন্ধ পায়।
- পাতা পিষে ব্যবহার: মাঝে মাঝে গাছগুলির পাতা হালকা করে পিষে দিন বা ঘষে দিন। এতে সুগন্ধী তেলগুলি মুক্ত হয় এবং তা মশা তাড়ানোর ক্ষমতা বাড়ায়।
রাসায়নিক স্প্রে-এর ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে মশা তাড়ানোর জন্য বাড়িতে এই গাছগুলি রাখা একটি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং কার্যকরী উপায়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মশার উপদ্রব কমবে, তেমনি বাড়ির পরিবেশও সতেজ থাকবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


