পূর্ব ভারতের শিশু চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত! নিউটাউন নিওটিয়া ভাগীরথীতে চালু হলো অত্যাধুনিক চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার

শিশুদের স্নায়বিক বা আচরণগত সমস্যা যদি একদম প্রাথমিক স্তরে (Early Diagnosis) ধরা পড়ে, তবে সঠিক থেরাপির মাধ্যমে তা অনেকাংশেই নিরাময় করা সম্ভব। ভারতে বর্তমানে নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়লেও, বড় বড় মেট্রো শহর ছাড়া এর উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসা পরিকাঠামো এখনও বেশ সীমিত।

Published on: Jun 1, 2026, 17:51:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্তমান যুগে শিশুদের মধ্যে স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা, আচরণগত জটিলতা এবং লার্নিং ডিজঅর্ডার বা পড়াশোনায় মনোযোগের অভাবের মতো সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিক্যাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত নিওটিয়া ভাগীরথী ওম্যান অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার সেন্টার এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল ‘চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ (CDC)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের এক দক্ষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি ক্লিনিক্যাল টিম, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিশিষ্ট পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি কনসালট্যান্ট ড. ইন্দ্রাশিস রায় চৌধুরী এবং অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ড. দেবপ্রিয়া রায়। শিশুদের স্নায়বিক রোগ নির্ণয় এবং তা নিরাময়ে এই চিকিৎসক দল অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিশেষ পারদর্শী।

পূর্ব ভারতের শিশু চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত!
পূর্ব ভারতের শিশু চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত!

কেন এই চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রয়োজন ছিল?

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের স্নায়বিক বা আচরণগত সমস্যা যদি একদম প্রাথমিক স্তরে (Early Diagnosis) ধরা পড়ে, তবে সঠিক থেরাপির মাধ্যমে তা অনেকাংশেই নিরাময় করা সম্ভব। ভারতে বর্তমানে নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়লেও, বড় বড় মেট্রো শহর ছাড়া এর উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসা পরিকাঠামো এখনও বেশ সীমিত। এই শূন্যতা পূরণ করতেই নিওটিয়া ভাগীরথীর এই চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারটিকে একটি ‘কন্টিনিউয়াম-অফ-কেয়ার’ (Continuum-of-care) মডেল হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ০ থেকে ১৮ বছর বয়সী যেকোনো শিশুর স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয়, থেরাপি, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সহায়তা—সবকিছুই মিলবে এক ছাদের তলায়।

এক ছাদের তলায় মিলবে কোন কোন পরিষেবা?

নিওটিয়া ভাগীরথীর এই নবনির্মিত কেন্দ্রটিতে শিশুদের জন্য একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও ‘সেন্সরি ফ্রেন্ডলি’ (Sensory Friendly) বা সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে কাজ করবেন একদল বিশেষজ্ঞ, যার মধ্যে রয়েছেন:

  • পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট এবং সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ)
  • ফিজিওথেরাপিস্ট এবং অকুপেশনাল থেরাপিস্ট
  • স্পিচ থেরাপিস্ট (কথা বলার সমস্যা দূরীকরণ বিশেষজ্ঞ)
  • স্পেশাল এডুকেটর বা বিশেষ শিক্ষক

এই কেন্দ্রটিতে উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের থেরাপিউটিক ইন্টারভেনশন, নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন এবং উদ্ভাবনী থেরাপি দেওয়া হবে। শুধু শিশুই নয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবার ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং, বিশেষ প্রশিক্ষণ (Caregiver Training) এবং দীর্ঘমেয়াদী গাইডেন্স দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে, যা তাঁদের মানসিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

আম্বুজা নিওটিয়া হেলথকেয়ার ভেঞ্চার লিমিটেডের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিস্টার পার্থিব নিওটিয়া এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, "শিশুর সঠিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য কেবল সাময়িক চিকিৎসার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত যত্নের প্রয়োজন বেশি। নিউটাউনের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের মাধ্যমে আমরা এমন একটি মডেল তৈরি করছি যা ক্লিনিক্যাল দক্ষতা, থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পারিবারিক অংশগ্রহণকে এক সুতোয় বাঁধবে। এই উদ্যোগটি পূর্ব ভারতে আমাদের উন্নত শিশু চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।"

প্রাথমিক সনাক্তকরণ, সামগ্রিক হস্তক্ষেপ এবং পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারটি আগামী দিনে পূর্ব ভারতের পেডিয়াট্রিক কেয়ারের একটি অন্যতম ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ বা শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, যা নিউরোডাইভার্স (Neurodiverse) শিশুদের জন্য এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।