পেঁয়াজের রস ব্যবহার করে কি সত্যিই টাক মাথায় চুল গজানো সম্ভব? কী বলছে বিজ্ঞান

চিকিৎসা বিজ্ঞান কি এই দাবি সমর্থন করে? নাকি এটি শুধুই একটি ভ্রান্ত ধারণা?

Published on: Nov 19, 2025, 09:39:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চুল পড়া এবং টাকের সমস্যায় পেঁয়াজের রস ব্যবহার করা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ঘরোয়া টোটকা। দাদি-নানিদের আমল থেকে শোনা যায় যে, পেঁয়াজের রস মাথায় ঘষলে নতুন চুল গজায়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান কি এই দাবি সমর্থন করে? নাকি এটি শুধুই একটি ভ্রান্ত ধারণা? পেঁয়াজের রসের কার্যকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

পেঁয়াজের রস ব্যবহার করে কি সত্যিই টাক মাথায় চুল গজানো সম্ভব?
পেঁয়াজের রস ব্যবহার করে কি সত্যিই টাক মাথায় চুল গজানো সম্ভব?

বিজ্ঞান কী বলছে? পেঁয়াজের রসে কী আছে?

গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজের রস চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিই উপকারী হতে পারে। এর পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:

১. সালফারের উৎস: পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি সালফার (Sulfur) থাকে। আমাদের চুল মূলত 'কেরাটিন' নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি, যাতে সালফার থাকে। পেঁয়াজের রস চুলের ফলিকলকে পুষ্টি জোগায় এবং চুল ভেঙে যাওয়া রোধ করে।

২. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: পেঁয়াজে ক্যাটালেস (Catalase) নামক এনজাইম থাকে, যা চুলের গোড়ায় হাইড্রোজেন পারক্সাইড জমা হওয়া রোধ করে। এটি চুল পাকা রোধ করতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।

৩. রক্ত সঞ্চালন ও সংক্রমণ রোধ: পেঁয়াজের রস স্ক্যাল্প বা মাথার তালুর রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এছাড়া এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ খুশকি এবং স্ক্যাল্পের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে চুল পড়া কমায়।

টাক মাথায় কি সত্যিই চুল গজায়?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বোঝা দরকার। পেঁয়াজের রস সব ধরনের টাকের সমাধান নয়।

  • অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (Alopecia Areata): এটি এমন একটি রোগ যেখানে গোল গোল চাকা হয়ে চুল পড়ে যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই নির্দিষ্ট সমস্যায় পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলে অনেকের নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
  • বংশগত টাক (Male/Female Pattern Baldness): যদি কারোর বংশগত কারণে বা হরমোনের প্রভাবে মাথার পুরো অংশ চকচকে টাক হয়ে যায়, তবে সেখানে পেঁয়াজের রস দিয়ে চুল গজানো প্রায় অসম্ভব। কারণ, এক্ষেত্রে চুলের ফলিকলগুলো বা গোড়াগুলো সম্পূর্ণ মারা যায়। মৃত ফলিকলকে পেঁয়াজের রস পুনরুজ্জীবিত করতে পারে না।

ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

যাদের চুল পাতলা হচ্ছে বা অত্যধিক চুল পড়ছে, তারা এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

পদ্ধতি: পেঁয়াজ গ্রেট করে বা ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। তুলোর সাহায্যে মাথার স্ক্যাল্পে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ বার এটি করা যেতে পারে।

সতর্কতা (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া):

  • তীব্র গন্ধ: পেঁয়াজের গন্ধ চুলে দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারে।
  • জ্বালা: যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের স্ক্যাল্পে তীব্র জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব হতে পারে। ব্যবহারের আগে কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে 'প্যাচ টেস্ট' করে নেওয়া জরুরি।

পেঁয়াজের রস চুল পড়া কমাতে এবং পাতলা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি 'জাদুকরী ওষুধ' নয়। চকচকে তাকে নতুন চুল গজানোর ক্ষমতা এর নেই। সমস্যা গুরুতর হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More