বসে থাকা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালেই মাথা ঘুরছে! এই ভয়ের কারণগুলি থাকতে পারে
অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা এটি উপেক্ষা করে যান।
বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেই যদি মুহূর্তের জন্য মাথা ঘুরে যায়, চোখ অন্ধকার লাগে বা ভারসাম্য হারাতে বসেন, তবে এই সমস্যাটিকে সাধারণত অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Hypotension) বা পোস্টুরাল হাইপোটেনশন (Postural Hypotension) বলা হয়। এটি একটি বেশ সাধারণ সমস্যা, তবে এর পেছনে কিছু গুরুতর কারণও থাকতে পারে।

এর কারণ কী?
এই সমস্যাটির প্রধান কারণ হলো রক্তচাপের দ্রুত পরিবর্তন। যখন আমরা বসে বা শুয়ে থাকি, রক্ত শরীরের নিম্নভাগে জমা হয়। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্ত দ্রুত নিচের দিকে নামে। স্বাভাবিক অবস্থায়, রক্তনালীগুলি দ্রুত সংকুচিত হয় এবং হৃদপিণ্ড দ্রুত স্পন্দিত হয়ে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে, যাতে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায়।
কিন্তু যখন এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন:
- রক্তচাপের পতন: মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তের সরবরাহ কমে যায়।
- লক্ষণ: এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, চোখে অন্ধকার লাগা বা ভারসাম্যের অভাব অনুভূত হয়।
মাথা ঘোরার অন্যান্য সাধারণ কারণ:
১. ডিহাইড্রেশন (Dehydration): শরীরে জলের অভাব হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়।
২. কিছু ওষুধ: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা মূত্রবর্ধক (Diuretics) ওষুধ খেলে এই সমস্যা হতে পারে।
৩. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ুর ক্ষতি (Neuropathy) হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
৪. হৃদরোগ: হার্ট ফেইলিউর বা হার্টের অন্যান্য সমস্যা থাকলে হৃদপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাম্প করতে পারে না।
৫. দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকা: অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এটি কতটা ভয়ের হতে পারে?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, বসে থাকা থেকে উঠে দাঁড়ালে সামান্য মাথা ঘোরা ক্ষণস্থায়ী এবং খুব বেশি ভয়ের কিছু নয়। এটি প্রায়শই ডিহাইড্রেশন বা ক্লান্তির কারণে হয়।
তবে, এটি তখন উদ্বেগের কারণ হতে পারে যখন:
- ঘন ঘন বা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া: যদি মাথা ঘোরা প্রায় প্রতিদিনই হয় বা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়।
- পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি: মাথা ঘোরার কারণে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- অন্যান্য উপসর্গ: যদি মাথা ঘোরার সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হার্টবিট অনিয়মিত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।
যদি আপনার এই সমস্যাটি ঘন ঘন হয়, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করে, ওষুধের তালিকা যাচাই করে বা রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারবেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


