Quote of the Day: ‘নারী যদি একবার নিজের কলমকে অস্ত্র…’ গোয়েন্দা কৃষ্ণা শ্রষ্টা প্রভাবতী দেবীর এই কথাটা আজও চরম সত্যি

বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ফেলুদা বা ব্যোমকেশের ছবি। কিন্তু আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগে এক অসামান্য নারী লেখিকা বাঙালি পাঠকদের উপহার দিয়েছিলেন এক সাহসী মহিলা গোয়েন্দা—কৃষ্ণা। তিনি আর কেউ নন, স্বনামধন্য লেখিকা প্রভাবতী দেবী সরস্বতী।

Published on: Apr 9, 2026, 06:39:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রভাবতী দেবী সরস্বতী এক বিস্ময়কর নাম। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে দাঁড়িয়ে তিনি যেভাবে কলম ধরেছিলেন এবং গোয়েন্দা সাহিত্যে 'কৃষ্ণা'র মতো নারী চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও আলোচনার দাবি রাখে।

‘নারী যদি একবার নিজের কলমকে অস্ত্র হিসেবে…’ প্রভাবতী দেবীর এই কথাটা আজও চরম সত্য
‘নারী যদি একবার নিজের কলমকে অস্ত্র হিসেবে…’ প্রভাবতী দেবীর এই কথাটা আজও চরম সত্য

বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ফেলুদা বা ব্যোমকেশের ছবি। কিন্তু আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগে এক অসামান্য নারী লেখিকা বাঙালি পাঠকদের উপহার দিয়েছিলেন এক সাহসী মহিলা গোয়েন্দা—কৃষ্ণা। তিনি আর কেউ নন, স্বনামধন্য লেখিকা প্রভাবতী দেবী সরস্বতী।

মহান লেখিকার অমূল্য বাণী (Quote of the Day)

"সংসারের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া নারী যদি একবার নিজের কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শেখে, তবে সমাজের কোনো অন্ধকার কোণই আর অস্পৃশ্য থাকবে না।"

জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য অ্যানেকডোট (Anecdotes)

প্রভাবতী দেবী সরস্বতীর জীবন ছিল সংগ্রাম ও সার্থকতার এক মেলবন্ধন। তাঁর জীবন থেকে নেওয়া কিছু অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলো:

১. অদম্য লেখনী ও শরৎচন্দ্রের প্রশংসা: সেই সময়ে দাঁড়িয়ে প্রভাবতী দেবী এত দ্রুত লিখতেন যে অনেকে অবাক হয়ে যেতেন। তাঁর সাবলীল লেখনী দেখে স্বয়ং কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। এক আড্ডায় শরৎচন্দ্র রসিকতা করে বলেছিলেন, "প্রভাবতীর কলম যেন ট্রেনের ইঞ্জিনের মতো দৌড়ায়!" তাঁর লেখায় সমাজ সংস্কার ও নারী মুক্তির যে সুর ছিল, তা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

২. গোয়েন্দা কৃষ্ণার জন্মকথা: বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন গোয়েন্দা কাহিনী মানেই ছিল পেশিবহুল পুরুষের বীরত্ব, তখন প্রভাবতী দেবী আনলেন 'কৃষ্ণা'-কে। কৃষ্ণা শুধু বুদ্ধিমতীই ছিল না, সে ছিল আত্মনির্ভরশীল ও আধুনিক। অনেক পাঠক তখন বিশ্বাসই করতে পারেননি যে একজন নারী গোয়েন্দা চরিত্র এত জনপ্রিয় হতে পারে। কিন্তু প্রভাবতী দেবী প্রমাণ করেছিলেন যে মগজস্ত্রের লড়াইয়ে নারীরাও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

৩. নিভৃতচারী দানশীলতা: প্রভাবতী দেবী তাঁর লেখনী থেকে যা আয় করতেন, তার একটা বড় অংশ গোপনে দুঃস্থ নারী ও অনাথ শিশুদের শিক্ষার জন্য ব্যয় করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষার আলো ছাড়া নারীর মুক্তি সম্ভব নয়। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই তিনি বেশি পছন্দ করতেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)

  • জন্ম ও শৈশব: প্রভাবতী দেবী সরস্বতী ১৯০৫ সালের ৫ মার্চ উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবরডাঙায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। শৈশব থেকেই তিনি বইয়ের জগতের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন।
  • সাহিত্য জীবন: মাত্র ৯ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি আর থেমে থাকেননি। উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক এবং শিশুসাহিত্য—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর সৃষ্টি করা গোয়েন্দা চরিত্র 'কৃষ্ণা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকের সফল মহিলা গোয়েন্দা সিরিজগুলোর একটি। তাঁর লেখা 'পথের সাথী' বা 'বিজিতা'র মতো উপন্যাসগুলো তৎকালীন সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
  • সম্মাননা: সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'লীলা পুরস্কার' প্রদান করে। এছাড়াও নবদ্বীপের পণ্ডিত সমাজ তাঁকে 'সরস্বতী' উপাধিতে ভূষিত করেন, যা তাঁর নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।
  • জীবনাবসান: ১৯৬৩ সালের ১৪ মে এই মহীয়সী লেখিকা পরলোকগমন করেন। বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে তিনি প্রায় তিন শতাধিক গ্রন্থ রেখে গেছেন।

আজকের দিনে যখন আমরা নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলি, তখন প্রভাবতী দেবী সরস্বতী আমাদের কাছে আলোকবর্তিকার মতো। তিনি শিখিয়েছিলেন নিজের সত্তাকে বিসর্জন না দিয়েও কীভাবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হওয়া যায়। তাঁর সৃষ্ট 'কৃষ্ণা' আজও নতুন প্রজন্মের নারী পাঠকদের কাছে সাহসের প্রতীক।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More