অল্প বয়সে চুল পাকে কাদের? এটি ঠেকানোর উপায় কী? জেনে রাখুন
বর্তমান সময়ে ২০ বা ৩০ এর কোঠায় পা দেওয়ার আগেই অনেকের চুল পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রি-ম্যাচিওর গ্রেয়িং’ (Premature Greying)। কেন এমন হচ্ছে আর ঘরোয়া উপায়েই বা কীভাবে এটি আটকানো সম্ভব, জেনে রাখুন।
অল্প বয়সে মাথার চুলে রুপোলি রেখা দেখা দিলে তা চিন্তার ভাঁজ ফেলে কপালে। বর্তমান সময়ে ২০ বা ৩০ এর কোঠায় পা দেওয়ার আগেই অনেকের চুল পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রি-ম্যাচিওর গ্রেয়িং’ (Premature Greying)। কেন এমন হচ্ছে আর ঘরোয়া উপায়েই বা কীভাবে এটি আটকানো সম্ভব, জেনে রাখুন।

অকালে চুল পাকার কারণ: কেন অল্প বয়সেই সাদা হচ্ছে চুল?
চুলের রঙ নির্ধারণ করে ‘মেলানিন’ নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। যখন চুলের গোড়ায় মেলানিন উৎপাদন কমে যায়, তখনই চুল সাদা হতে শুরু করে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১. বংশগতি বা জেনেটিক্স
অল্প বয়সে চুল পাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো বংশগতি। আপনার বাবা বা মায়ের যদি কম বয়সে চুল পেকে থাকে, তবে আপনার ক্ষেত্রেও তার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
২. মানসিক চাপ (Stress)
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস শরীরের ‘স্টেম সেল’কে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা চুলের রঞ্জক তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে সময়ের আগেই চুল রঙ হারায়।
৩. পুষ্টির অভাব
শরীরে ভিটামিন বি-১২ (B-12), আয়রন, কপার এবং ভিটামিন ডি-৩ এর ঘাটতি থাকলে অকালে চুল পাকতে পারে। বিশেষ করে যারা সুষম আহার করেন না, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।
৪. দূষণ ও রাসায়নিকের ব্যবহার
বায়ুদূষণ এবং চুলে অতিরিক্ত কড়া কেমিক্যাল, হিট বা সস্তা রঙ ব্যবহার করলে চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অকালে চুল পাকা ঠেকানোর ৫টি কার্যকরী উপায়
যদি বংশগত কারণে চুল না পাকে, তবে সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব:
- আমলকীর ম্যাজিক: আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত আমলকীর রস খাওয়া বা চুলে আমলকীর তেল মাখলে মেলানিন উৎপাদন বজায় থাকে।
- কারি পাতার ব্যবহার: নারকেল তেলের সাথে কারি পাতা ফুটিয়ে সেই তেল চুলে ব্যবহার করুন। কারি পাতায় থাকা ভিটামিন বি চুলের স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- পুষ্টিকর খাবার: পাতে বেশি করে সামুদ্রিক মাছ, ডিম, সবুজ শাকসবজি এবং বাদাম রাখুন। এগুলো চুলের প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে।
- পেঁয়াজের রস: পেঁয়াজের রসে থাকা ‘ক্যাটালেস’ নামক এনজাইম চুলের গোড়াকে মজবুত করে এবং সাদা হওয়া রোধ করে।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও যোগব্যায়াম: দুশ্চিন্তা কমাতে নিয়মিত যোগব্যায়াম করুন এবং দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। এটি শরীরের কোষগুলোকে সজীব রাখে।
শেষ কথা
চুল পেকে যাওয়া মানেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা নয়। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে, শুরুতে সচেতন হলে এবং ডায়েটে পরিবর্তন আনলে চুলের অকালপক্বতা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে সমস্যা খুব বেশি হলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
E-Paper











