২০ বছর বয়স পেরতে না পেরতেই চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? অতি অল্প বয়সে টাক পড়া আটকাতে কী করবেন

কসময় মনে করা হতো টাক পড়া কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় ২০-২৫ বছর বয়সেই পুরুষদের মধ্যে 'মেল প্যাটার্ন বাল্ডনেস' (Male Pattern Baldness) ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে।

Published on: Jan 17, 2026 10:28 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কুড়ি বছরের কোঠায় পা দিতে না দিতেই চিরুনি ভর্তি চুল বা মাথার সামনের অংশ ফাঁকা হয়ে যাওয়া বর্তমানে অনেক তরুণের কাছেই এক দুঃস্বপ্নের নাম। একসময় মনে করা হতো টাক পড়া কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় ২০-২৫ বছর বয়সেই পুরুষদের মধ্যে 'মেল প্যাটার্ন বাল্ডনেস' (Male Pattern Baldness) ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে।

২০ বছর বয়স পেরতে না পেরতেই চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? অতি অল্প বয়সে টাক পড়ে কেন
২০ বছর বয়স পেরতে না পেরতেই চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? অতি অল্প বয়সে টাক পড়ে কেন

অল্প বয়সে চুল পাতলা হওয়া রোধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে কী করবেন?

কেন ২০ পেরতেই পাতলা হচ্ছে চুল?

অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দায়ী:

১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (DHT): পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন যখন 'ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন' (DHT)-এ রূপান্তরিত হয়, তখন তা চুলের ফলিকেলকে ছোট করে দেয়। ফলে চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়ে।

২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা: পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস 'টেলোজেন এফ্লুভিয়াম' নামক সমস্যার সৃষ্টি করে, যাতে হঠাৎ করেই প্রচুর চুল ঝরতে শুরু করে।

৩. পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন এবং আয়রনের অভাবের পাশাপাশি শহরের ধুলোবালি ও শক্ত জল (Hard water) চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়।

অল্প বয়সে টাক পড়া আটকানোর ৫টি বৈজ্ঞানিক সমাধান

যদি প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতন হওয়া যায়, তবে চুলের ঘনত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

১. সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন

ঘন ঘন চুল ধোয়ার জন্য সালফেট এবং প্যারাবেন মুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। চুল ধোয়ার পর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল হালকা গরম করে মাসাজ করতে পারেন। এটি স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

২. ডায়েটে আনুন আমূল পরিবর্তন

চুল মূলত 'কেরাটিন' নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, সোয়াবিন, বাদাম এবং পালং শাক রাখুন। বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. ডার্মারোলার (Dermaroller) ব্যবহার

বর্তমানে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটি মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা নতুন চুল গজাতে সহায়ক।

৪. ডিএইচটি ব্লকার (DHT Blocker) খাবার

কুমড়োর বীজ (Pumpkin seeds), গ্রিন টি এবং আমলকী প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার হিসেবে কাজ করে। এগুলো নিয়মিত খেলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।

৫. ধূমপান বর্জন ও পর্যাপ্ত ঘুম

ধূমপান চুলের ফলিকেলে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়। তাই চুল বাঁচাতে ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের মধ্যেই শরীরের কোষগুলো মেরামত হয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি দেখেন মাথার তালুর ত্বক দৃশ্যমান হয়ে উঠছে অথবা চুলে টান দিলেই গোছা গোছা চুল উঠে আসছে, তবে দেরি না করে একজন ট্রাইকোলজিস্ট বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে মিনোক্সিডিল (Minoxidil) বা পিআরপি (PRP) থেরাপির মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে।