Quote of the Day: নিজের রেকর্ডই ভাঙতেন বার বার! এখনও এক বিস্ময় সার্গেই বুবকা, তাঁর এই কথাতেই লুকিয়ে আছে জয়ের চাবিকাঠি
Quote of the Day: শরীর ক্লান্ত হতে পারে, কিন্তু মনের ইচ্ছাশক্তি যদি অটুট থাকে, তবে মানুষ এমন সব অসম্ভব লক্ষ্য অর্জন করতে পারে যা সাধারণ বুদ্ধিতে অকল্পনীয়। এখনও এমনই মনে করেন বুবকা।
Quote of the Day: পোলভল্ট খেলাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যিনি, তিনি সার্গেই বুবকা। তিনি কেবল একজন অ্যাথলেট নন, তিনি ছিলেন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করার জীবন্ত উদাহরণ। বারবার নিজের তৈরি বিশ্বরেকর্ড ভেঙে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের উন্নতির কোনো শেষ নেই।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
"মন হলো এক শক্তিশালী হাতিয়ার; একে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এটি আমাদের শরীরকে মহান সাফল্য অর্জনের পথে ঠেলে দিতে পারে।" (The mind is a powerful tool, and when harnessed correctly, it can push our bodies to achieve greatness)
ব্যাখ্যা: বুবকা বিশ্বাস করতেন যে কোনও শারীরিক কৃতিত্বের পেছনে আসল চালিকাশক্তি হলো মস্তিষ্ক। শরীর ক্লান্ত হতে পারে, কিন্তু মনের ইচ্ছাশক্তি যদি অটুট থাকে, তবে মানুষ এমন সব অসম্ভব লক্ষ্য অর্জন করতে পারে যা সাধারণ বুদ্ধিতে অকল্পনীয়। মানসিক দৃঢ়তাই শরীরকে প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করার শক্তি জোগায়।
জীবনের কিছু অনুপ্রেরণামূলক অ্যানেকডোট (Anecdotes)
সার্গেই বুবকার জীবনের কিছু ঘটনা আজও অ্যাথলেটিক্স দুনিয়ায় রূপকথার মতো শোনায়:
১. রেকর্ড গড়ার জাদুকর: বুবকা তাঁর কেরিয়ারে মোট ৩৫ বার বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন (১৭ বার আউটডোর এবং ১৮ বার ইনডোর)। মজার ব্যাপার হলো, তিনি অনেক সময় নিজের রেকর্ড মাত্র ১ সেন্টিমিটার করে বাড়াতেন। অনেকে মনে করেন এটি ছিল স্পনসরশিপের বোনাস পাওয়ার এক কৌশল, কিন্তু বুবকার কাছে এটি ছিল প্রতিবার নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক নিখুঁত চ্যালেঞ্জ।
২. অলিম্পিক ও ট্র্যাজেডি: বুবকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে টানা ছয়বার সোনা জিতলেও অলিম্পিকের মঞ্চে তাঁর ভাগ্য ছিল মিশ্র। ১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক তিনি মিস করেন সোভিয়েত বয়কটের কারণে। আবার ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে ফেভারিট হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো উচ্চতা পার করতে পারেননি। এই ব্যর্থতা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়নি, বরং পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
৩. ৬ মিটারের উচ্চতা জয়: ১৯৯৫ সালে ইতালির সেস্ত্রিয়েরে-তে বুবকা ৬.১৪ মিটার উচ্চতা পার করেছিলেন। সেই সময় এটি ছিল মানুষের কল্পনাতীত। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে তাঁর এই আউটডোর বিশ্বরেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ ছিল, যা প্রমাণ করে তিনি তাঁর সময়ের চেয়ে কতটা এগিয়ে ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
জন্ম ও শৈশব: ১৯৬৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ইউক্রেনের (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) লুহানস্ক শহরে সার্গেই বুবকা জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি পোলভল্ট শুরু করেন। তাঁর প্রতিভা দেখে কোচ ভিটালি পেট্রোভ তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যান।
ক্রীড়া জীবন: ১৯৮৩ সালে হেলসিংকি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সোনা জিতে তিনি বিশ্ববাসীকে চমকে দেন। এরপর শুরু হয় তাঁর একচেটিয়া আধিপত্য। তিনি প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে ৬ মিটার উচ্চতার বাধা অতিক্রম করেন। তাঁর টেকনিক এবং গতি পোলভল্টের ব্যাকরণ বদলে দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে তাঁর শেষ অলিম্পিক পদক জয়ের পর ২০০১ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন।
পরবর্তী জীবন ও সম্মাননা: অবসর গ্রহণের পর তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) এবং অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ইউক্রেনের জাতীয় অলিম্পিক কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেন তিনি চিরকাল স্মরণীয়?
সার্গেই বুবকা কেবল পদকের জন্য খেলতেন না, তিনি খেলতেন শ্রেষ্ঠত্বের জন্য। তিনি শিখিয়ে গেছেন যে 'পারফেকশন' বলে কিছু নেই, উন্নতির সুযোগ সব সময় থাকে। আজ আর্মান্ড ডুপ্লান্টিসের মতো তরুণরা যখন নতুন রেকর্ড গড়ছেন, তাঁদের সবার অনুপ্রেরণার মূলে রয়েছেন সেই পুরোনো সম্রাট বুবকা।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


