Is it bad to put salt in yogurt: টক দইয়ের পুষ্টি কি বিষে পরিণত হচ্ছে? চিনি বা নুন মেশানোর আগে জেনে নিন চিকিৎসকদের মত
Side effects of adding sugar to curd: চিকিৎসকদের মতে, টক দইয়ের সাথে অতিরিক্ত চিনি বা নুন মেশানো আসলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি ডেকে আনে।
Side effects of adding sugar to curd: গরমের দিনে এক বাটি ঠান্ডা টক দই আমাদের শরীর ও মনকে চনমনে করে তোলে। বাঙালি বাড়িতে দুপুরের ভাতের শেষ পাতে হোক কিংবা সকালে জলখাবারের সাথে, টক দইয়ের চল বহু প্রাচীন। এটি আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ওস্তাদ। তবে টক দইয়ের স্বাদ যেহেতু কিছুটা টক বা কড়া হয়, তাই এর স্বাদ বদলাতে আমরা অনেকেই মনের সুখে চামচ চামচ চিনি কিংবা এক চিমটে নুন মিশিয়ে নিই। কেউ আবার তৈরি করে ফেলেন মিষ্টি লস্যি বা নোনতা রায়তা।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার এই প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসটি টক দইয়ের আসল পুষ্টিগুণকে কতটা প্রভাবিত করছে? চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা এই অভ্যাস নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন। চিকিৎসকদের মতে, টক দইয়ের সাথে অতিরিক্ত চিনি বা নুন মেশানো আসলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি ডেকে আনে। নিচে এই বিষয়ের সব ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা করা হল।
টক দইকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একটি দুর্দান্ত ‘প্রোবায়োটিক’ (Probiotic) খাবার বলা হয়। এর অর্থ হলো, দইয়ের মধ্যে কোটি কোটি জীবন্ত ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া (Lactobacillus) থাকে, যা আমাদের পাকস্থলী ও অন্ত্রের পরিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে এবং খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। কিন্তু যখনই আমরা এতে চিনি বা নুন মেশাই, তখনই এর ভেতরের মূল রাসায়নিক গঠন ও পুষ্টিগুণে বড়সড় বদল আসে।
১. চিনি মেশালে কী ক্ষতি হয়?
- টক দইয়ে চিনি মেশালে তা দইয়ের প্রাকৃতিক গুণাগুণকে প্রায় নষ্ট করে দেয়।
- উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস: অতিরিক্ত চিনি দইয়ের অম্লতা বা পিএইচ (pH) মাত্রার পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে দইয়ে থাকা উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বা মারা যায়। ফলস্বরূপ, দই খেয়েও পেটের হজমশক্তির কোনো উন্নতি হয় না।
- রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি (Sugar Spike): টক দই এমনিতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব ভালো। কিন্তু এতে চিনি মেশালে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আচমকা বাড়িয়ে দেয় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ওজন বৃদ্ধি ও মেদ জমা: চিনি মেশানো দইয়ে ক্যালোরির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ‘এম্পটি ক্যালোরি’ শরীরে প্রবেশ করে মেদ বা চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা স্থূলতার অন্যতম প্রধান কারণ।
২. নুন মেশালে কী সমস্যা হতে পারে?
অনেকেই ভাবেন চিনি খেলে যদি ক্ষতি হয়, তবে নুন বা বিট নুন মিশিয়ে রায়তা করে খাওয়া তো ভালো। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, নুন মেশানোও সমান ক্ষতিকর।
- উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: নুনের মূল উপাদান হলো সোডিয়াম। টক দইয়ে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা সোডিয়াম থাকে। তার ওপর অতিরিক্ত নুন বা বিট নুন মেশালে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
- অ্যাসিডিটি এবং ডিহাইড্রেশন: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান উভয়ের মতেই, দই ও নুনের মিশ্রণ পাকস্থলীতে গিয়ে পরিপাক রসকে পাতলা করে দেয়। এর ফলে বদহজম, বুক জ্বালা এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাহলে দই খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, টক দইয়ের ১০০ শতাংশ পুষ্টি পেতে গেলে তা সম্পূর্ণ সাদা বা প্রাকৃতিক অবস্থায় (Plain Yogurt) খাওয়া উচিত। কোনো কিছু না মিশিয়ে দইয়ের নিজস্ব টক সোয়াদ উপভোগ করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে সেরা।
তবে যারা একদমই সাদা টক দই খেতে পারেন না, তারা স্বাদের বদল ঘটাতে কিছু প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে পারেন:
- মধুর ছোঁয়া: চিনির বদলে সামান্য খাঁটি মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। মধু প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের জন্য উপকারী।
- ফলের টুকরো: দইয়ের সাথে আপেল, বেদানা, কলা বা স্ট্রবেরির মতো মিষ্টি ফল ছোট ছোট করে কেটে মিশিয়ে ‘ফ্রুট সালাদ’ বানিয়ে খেতে পারেন। এতে দইয়ের টক ভাব কেটে যাবে এবং ফলের পুষ্টিও মিলবে।
- ভাজা জিরে গুঁড়ো: নুনের বদলে সামান্য জিরে গুঁড়ো বা গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে আরও বেশি সাহায্য করবে।
খাবারের স্বাদ বাড়াতে গিয়ে আমরা প্রায়শই তার আসল গুণাগুণ নষ্ট করে ফেলি। টক দই আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এক অমোঘ অস্ত্র, তাই একে চিনি বা নুনের ভেজাল দিয়ে দুর্বল করবেন না। আজ থেকেই সাদা টক দই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের পথে এগিয়ে যান।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


