Bitter gourd juice disadvantages: উপকারীর আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদ! অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে
Bitter gourd juice disadvantages: অনেকেই ডায়াবেটিস কমানোর চক্করে বা দ্রুত ওজন ঝরাতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে উচ্ছের রস খান বা রান্নায় অতিরিক্ত উচ্ছে ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
Bitter gourd juice disadvantages: উচ্ছে বা করলা (Bitter Gourd) আমাদের অনেকেরই প্রিয় তরকারি। বিশেষ করে গরমের দিনে দুপুরের পাতে উচ্ছে ভাজা, শুক্তো কিংবা উচ্ছের ঝোল শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বা ওজন কমাতে ওস্তাদ। কিন্তু আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান উভয়েই মনে করিয়ে দেয়—"অতিথি বেশি হলে যেমন ঘর নষ্ট হয়, তেমনি যেকোনো ভালো জিনিস অতিরিক্ত খেলেও হিতে বিপরীত হতে পারে।"

অনেকেই ডায়াবেটিস কমানোর চক্করে বা দ্রুত ওজন ঝরাতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে উচ্ছের রস খান বা রান্নায় অতিরিক্ত উচ্ছে ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে, জেনে নিন।
উচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে রয়েছে মমোcharডিন, চ্যারান্টিন এবং ইনসুলিনের মতো উপাদান, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যখনই কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া শুরু করেন, তখনই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করে।
১. রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া (Hypoglycemia):
উচ্ছের সবথেকে বড় গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত সুগারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাত্রায় উচ্ছে বা উচ্ছের রস খান, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। এর ফলে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপানো, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন।
২. লিভার বা যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি:
উচ্ছের মধ্যে ‘মোমোরচারিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় উচ্ছে খেলে এই উপাদানটি লিভারের এনজাইমগুলোর ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, যাকে চিকিৎসকরা লিভার টক্সিসিটি বা যকৃতের ক্ষতি বলে অভিহিত করেন।
৩. ডায়রিয়া ও পেটের তীব্র সমস্যা:
উচ্ছেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং ল্যাক্সেটিভ উপাদান থাকে। তবে অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে পাকস্থলীর কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা, বদহজম, গ্যাসের সমস্যা এবং বারবার পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল (Sensitive Stomach), তাঁদের অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
৪. গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি:
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উচ্ছে অতিরিক্ত খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উচ্ছের মধ্যে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান জরায়ুকে সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত শুরু হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে গর্ভপাতের (Miscarriage) মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়েটে উচ্ছে রাখার আগে অবশ্যই গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. পুরুষ ও মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব:
প্রাণীদের ওপর করা কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিমাণে উচ্ছের বীজ বা রস নিয়মিত খেলে তা প্রজনন হরমোনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি পুরুষদের শুক্রাণুর উৎপাদন এবং মহিলাদের ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যদিও মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবুও চিকিৎসকরা সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
তাহলে প্রতিদিন কতটা উচ্ছে খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন উচ্ছের তরকারি বা ভাজা খাওয়া একদম সাধারণ এবং নিরাপদ। তবে আপনি যদি প্রতিদিন উচ্ছের রস (Bitter Gourd Juice) খেতে চান, তবে তা যেন কোনোভাবেই ৩০ থেকে ৫০ মিলিলিটারের বেশি না হয়।
উচ্ছে নিঃসন্দেহে একটি ওষধি গুণসম্পন্ন সবজি, তবে তা অমৃতের মতো পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই শ্রেয়। নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই অতিরিক্ত উচ্ছে বা করলার রস খাওয়ার অন্ধ অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং যেকোনো পুষ্টিকর খাবারই পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করুন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


