মুখে চামচ দিয়ে কি কিডনির হাল বোঝা যায়? কীভাবে পরীক্ষা করতে হয়? জেনে নিন

মুখে চামচ দিয়ে কিডনির স্বাস্থ্য বোঝার পদ্ধতিটিও তেমনই একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া ধারণা। কিন্তু এই দাবি কতটা বৈজ্ঞানিক এবং কীভাবে এই পরীক্ষা করা হয়, তা জেনে নেওয়া যাক।

Published on: Nov 5, 2025, 09:10:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চার ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে এমন কিছু কৌশল বা 'হ্যাক' প্রচলিত হয়, যার মাধ্যমে খুব সহজে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য বোঝা যায় বলে দাবি করা হয়। মুখে চামচ দিয়ে কিডনির স্বাস্থ্য বোঝার পদ্ধতিটিও তেমনই একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া ধারণা। কিন্তু এই দাবি কতটা বৈজ্ঞানিক এবং কীভাবে এই পরীক্ষা করা হয়, তা জেনে নেওয়া যাক।

মুখে চামচ দিয়ে কি কিডনির হাল বোঝা যায়?
মুখে চামচ দিয়ে কি কিডনির হাল বোঝা যায়?

চামচ পরীক্ষাটি কীভাবে করা হয়?

ঘরে বসে এই 'চামচ পরীক্ষা'টি করার পদ্ধতিটি খুবই সরল:

১. উপকরণ: একটি পরিষ্কার স্টিলের চামচ নিন। ২. পদ্ধতি: চামচটির পেছনের অংশটি আপনার জিভের উপর আলতো করে ঘষুন, যাতে চামচের ওপর লালার (Saliva) একটি পাতলা স্তর তৈরি হয়। ৩. প্লাস্টিক ব্যাগে সংরক্ষণ: এই লালাযুক্ত চামচটি একটি পরিষ্কার প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে রাখুন। ৪. উষ্ণ স্থানে রাখা: ব্যাগটিকে এক মিনিট ধরে উষ্ণ কোনো স্থানে রাখুন (যেমন বাল্বের কাছাকাছি বা হালকা রোদে)। ৫. পর্যবেক্ষণ: এক মিনিট পর চামচটি বের করে তার গন্ধ এবং রং পর্যবেক্ষণ করুন।

চামচ পরীক্ষার মাধ্যমে কী বোঝার দাবি করা হয়?

প্রচলিত ধারণা অনুসারে, চামচের লালার গন্ধ এবং রং পরিবর্তন দেখে শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গের স্বাস্থ্য বোঝা যায়:

  • তীব্র বা মিষ্টি গন্ধ: যদি চামচ থেকে অস্বাভাবিক তীব্র বা মিষ্টি গন্ধ আসে, তবে তা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দিতে পারে।
  • অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ (মূত্রের মতো): যদি চামচের লালা থেকে অ্যামোনিয়া বা মূত্রের মতো তীব্র গন্ধ আসে, তবে এটি কিডনি বা মূত্রতন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এর কারণ হলো, কিডনি সঠিকভাবে বর্জ্য পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) শরীর থেকে বের করতে না পারলে সেই পদার্থ লালার মাধ্যমে নির্গত হতে পারে।
  • ফল-পচা গন্ধ (Fruity Smell): এটি অ্যাসিটোনের উপস্থিতির কারণে হতে পারে, যা কিটোঅ্যাসিডোসিসের (ডায়াবেটিসের গুরুতর জটিলতা) লক্ষণ।
  • ফ্যাকাশে বা হলুদ আস্তরণ: লালার রং অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে বা হলুদ দেখালে কিছু লিভারের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক সত্যতা ও সতর্কতা

যদিও এই পদ্ধতিটি ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রচলিত, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এই 'চামচ পরীক্ষা'-কে কিডনি বা অন্য কোনো অঙ্গের রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

  • গন্ধের উৎস: মুখে দুর্গন্ধ বা লালার গন্ধের পরিবর্তন অনেক সাধারণ কারণে হতে পারে, যেমন খারাপ মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য, কিছু খাবার খাওয়া (যেমন রসুন), ধূমপান, বা সাধারণ ডিহাইড্রেশন।
  • বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন: কিডনি বা লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের স্বাস্থ্য বোঝার জন্য একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা (Blood Tests), মূত্র পরীক্ষা (Urine Tests) এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ।

উপসংহার: এই চামচ পরীক্ষাটি নিছক একটি কৌতূহলোদ্দীপক ঘরোয়া টোটকা হতে পারে, কিন্তু এটিকে কোনোভাবেই চিকিৎসা রোগ নির্ণয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কিডনির স্বাস্থ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More