পুরুষদের কীভাবে প্রস্রাব করার অভ্যাস ভালো? দাঁড়িয়ে নাকি বসে? সকলের জেনে রাখা উচিত

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কি কেবল অভ্যাসের বিষয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো শারীরিক ঝুঁকি? আর বসে প্রস্রাব করা কি সত্যিই বেশি উপকারী?

Published on: Jan 5, 2026, 12:39:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রস্রাব করার ভঙ্গি নিয়ে আমাদের সমাজে তেমন কোনো আলোচনা না হলেও, এটি পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দীর্ঘকাল ধরে পুরুষরা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেই অভ্যস্ত, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কি কেবল অভ্যাসের বিষয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো শারীরিক ঝুঁকি? আর বসে প্রস্রাব করা কি সত্যিই বেশি উপকারী?

পুরুষদের কীভাবে প্রস্রাব করার অভ্যাস ভালো? দাঁড়িয়ে নাকি বসে? সকলের জেনে রাখা উচিত
পুরুষদের কীভাবে প্রস্রাব করার অভ্যাস ভালো? দাঁড়িয়ে নাকি বসে? সকলের জেনে রাখা উচিত

২০২৬-এর স্বাস্থ্য সচেতনতার এই যুগে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা বনাম বসে প্রস্রাব করার ভালো-মন্দ দিকগুলো জেনে নিন।

দাঁড়িয়ে নাকি বসে— চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?

নেদারল্যান্ডের 'লাইডেন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার'-এর গবেষকদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ পুরুষের ক্ষেত্রে ভঙ্গিভেদে খুব বেশি পার্থক্য না হলেও, বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থায় বসে প্রস্রাব করা অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত এবং উপকারী। বিশেষ করে যাদের প্রস্টেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বসে প্রস্রাব করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

বসে প্রস্রাব করার ৫টি অভাবনীয় উপকারিতা

১. মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি হওয়া: বসে প্রস্রাব করলে তলপেটের পেশিগুলো শিথিল অবস্থায় থাকে। এর ফলে মূত্রথলি বা ব্লাডার সংকুচিত হতে সহজ হয় এবং জমে থাকা সমস্ত প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। দাঁড়িয়ে থাকলে তলপেট ও মেরুদণ্ডের পেশি শক্ত থাকে, যা অনেক সময় প্রস্রাব পুরোপুরি বের হতে বাধা দেয়।

২. প্রস্টেটের সুরক্ষা: বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা (BPH) দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বসে প্রস্রাব করলে মূত্রনালীর ওপর চাপ কম পড়ে, যা প্রস্টেটের রোগীদের প্রস্রাব ত্যাগের কষ্ট অনেকটা কমিয়ে দেয়।

৩. কিডনি ও মূত্রনালীর সংক্রমণ রোধ: মূত্রথলিতে যদি নিয়মিত প্রস্রাব জমে থাকে, তবে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। যা থেকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) বা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বসে প্রস্রাব করলে ব্লাডার পুরোপুরি পরিষ্কার হয় বলে এই ঝুঁকি কমে।

৪. পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে তার ছিটে চারপাশের মেঝে বা পোশাকে লাগার সম্ভাবনা থাকে, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। বসে প্রস্রাব করা অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন এবং এটি শৌচাগারের পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে।

৫. যৌন স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদে ব্লাডার পরিষ্কার থাকা এবং প্রস্টেটের ওপর চাপ কম পড়া পরোক্ষভাবে পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য এবং পেলভিক পেশির ক্ষমতা অটুট রাখতে সাহায্য করে।

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কি ক্ষতিকর?

সুস্থ ও কমবয়সী পুরুষদের জন্য দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা তাৎক্ষণিক কোনো বড় ক্ষতি না করলেও, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি অভ্যাসে পরিণত হলে মূত্রথলির কার্যক্ষমতা কিছুটা শিথিল হতে পারে। এছাড়া দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের বেগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হয় না, যা অনেকের ক্ষেত্রে অসস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ কথা

সুস্থ জীবনযাত্রার খাতিরে এবং ভবিষ্যতের প্রস্টেট জনিত জটিলতা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো— বাড়িতে বা নিরাপদ পরিবেশে বসে প্রস্রাব করার অভ্যাস গড়ে তোলা। এটি কেবল স্বাস্থ্যকর নয়, বরং বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও উন্নত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More