Weekend Trip: বাজেট মাত্র ৫ হাজার টাকা? শীতে ঘুরে নিন এই ৫ স্বল্প পরিচিত জায়গা, প্রকৃতির রূপে ধাঁধিয়ে যাবে চোখ
দীঘা, পুরি, দার্জিলিং ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত যারা, তাঁদের জন্য রইল পাঁচ স্বল্প জানা জায়গার খোঁজ। যেখানে অন্তত ভিড়ে ঠেলাঠেলি করে ঘুরতে হবে না। ওড়িশা থেকে সিকিম, ঝাড়খণ্ড থেকে কালিম্পং, দেখে নিন কোথায় যেতে পারেন শীতের ছুটিতে।
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস মানেই ঘুরতে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। নেই রোদের ভ্রুকুটি, ঘামও হবে না! সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কী বা হতে পারে। বাড়ির বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্যও এর কোনো তুলনা হয় না। দীঘা, পুরি, দার্জিলিং ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত যারা, তাঁদের জন্য রইল পাঁচ স্বল্প জানা জায়গার খোঁজ। যেখানে অন্তত ভিড়ে ঠেলাঠেলি করে ঘুরতে হবে না। আরামে প্রিয়জনের সঙ্গে একটু সময় কাটাতে পারবেন। আর বাজেটও মাথা পিছু হাজার পাঁচেক হলেই চলবে। দেখে নিন কোথায় যাবেন-

দারিংবাড়ি, ওড়িশা:
পাশের রাজ্য ওড়িশাতেই ‘কাশ্মীর’ আছে জানতেন? ওড়িশার কান্ধামাল জেলার শৈলশহর দারিংবাড়ি। যাকে ভ্রমণার্থীরা ভালোবেসে নাম দিয়েছে ওড়িশার ‘কাশ্মীর’। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৯১৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে এটি। শীতে এখানকার তাপমাত্রা চলে যায় মাইনাসে। গরমেও তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করে ৩০ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে। বিকেলের পর থেকে বেশ মনোরম। দেখার জন্য রয়েছে রয়েছে লুদু জলপ্রপাত, মড়ুবান্দা জলপ্রপাত ও পুতুদি জলপ্রপাত। ঘুরে দেখে নিতে পারেন দুলুরি নদীও। দারিংবাড়ির সবচেয়ে কাছের রেল স্টেশন বেরহমপুর। কাছের এয়ারপোর্ট ভুবনেশ্বর। গাড়ি ধরে সময় লাগবে ৩-৪ ঘণ্টা। বাজেট হোটেল পাবেন। রয়েছে ফরেস্ট বাংলোও।
তারেভিড়, সিকিম:
সিকিমের গ্যাংটক, পেলিং নামগুলো মানুষ একডাকে চেনে। ভিড়ও হয় খুব। তাই চাইলে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ সিকিমের তারেভিড় থেকে। সাদাম গ্রামে অবস্থিত একটি উঁচু পাহাড়ের উপর একটি দীর্ঘ শৃঙ্গ এই তাড়েভিড়। দেখতে অনেকটা চিনের প্রাচীরের মতো। পাথরের পথের শেষে একটি ওয়াচ টাওয়ারও রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে উত্তরে তুষারময় পর্বতমালা, পূর্বে কালিম্পং শহর এবং দক্ষিণে তিস্তা ও রঙ্গিতের সঙ্গমস্থলের কিছু মনোরম দৃশ্য পাওয়া যায়। চোখে পড়ে সুদূর বিস্তৃত চা বাগান। এখানে থেকে ঘুরে নিতে পারবেন নামচি, রাবাংলা।
ডুবলাগড়ি, ওড়িশা:
সমুদ্রের হাওয়া খাওয়ার বাসনা মনে জাগলে চলে যান ডুবলাগড়ি বিচে। হাওড়া থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে বালাসোর স্টেশনে নেমে গাড়ি বা অটো ভাড়া করে আসতে হয়। বিচের উপরেই টেন্টে থাকার জায়গা রয়েছে। নির্জন, নিরিবিলি সমুদ্র সৈকতের পাশে ঝাউবনের জঙ্গলে থাকা, সারি সারি লাল কাঁকড়া দেখা, জোয়ারের সময় সমুদ্র স্নান করার মজা নিতে পারবেন সপরিবারে। ফাঁকা সমুদ্র থাকায় একান্তে পরিবারের সঙ্গেও কাটাতে পারবেন সময়। পাশেই বাগদা বিচ। হাতে সময় থাকলে সেখান থেকেও ঘুরে আসা যেতে পারে।
নেতারহাট, ঝাড়খণ্ড:
ঘুরে আসতে পারেন নেতারহাট থেকেও। সবুজ বন ও পাহাড়ে ঘেরা এই বনাঞ্চল অবস্থিত বাংলার পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। ছোট নাগপুরের ‘রানী’ও বলা হয় নেতারহাটকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই এলাকার উচ্চতা তিন হাজার ৬৯৬ ফুট। রাঁচি থেকে সড়ক পথে নেতারহাটের দূরত্ব মাত্র কয়েকঘণ্টার। আর সেই রাস্তা সারা জীবন আপনার চোখে গেঁথে থাকবে। দেখে নিতে পারেন আপার ঘাঘরি জলপ্রপাত, সাদনি জলপ্রপাত, কোয়েল ভিউ পয়েন্ট, সানরাইজ পয়েন্ট-সহ নানা জায়গা। বেতলা জাতীয় উদ্যানেও ঘুরে নেন পর্যটকরা নেটারহাটের সঙ্গেই।
ঝান্ডি, কালিম্পং:
কালিম্পং থেকে কাছেই ঝান্ডি। পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সাজানো একটা ছোট্ট গ্রাম। টাইগার হিল থেকে সুর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা অনেকের আছে। তবে ঝান্ডিদ্বারা থেকে দেখলেও তা সারাজীবন মনে থাকবে। চারপাশে ফার, বার্চ, ওক, সাইপ্রাসের বন। শান্ত, নিরিবিলি। গাড়ি করে কালিম্পং, লাভার সাইটসিং করতে পারেন এখান থেকে। এখানে দুটো দিন কাটিয়ে চলে যেতে পারেন দার্জিলিংয়ে। পাহাড়কে কাছ থেকে পাওয়ার যে স্বাদ আপনি এখানে পাবেন, তা সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। (ছবি-সংগৃহিত)












