ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে কোন কোন খাবার খেতে নেই? তালিকা জেনে রাখুন

শরীরে এই অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে হাড়ের জয়েন্টে অসহ্য যন্ত্রণা, ফোলাভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে গেঁটে বাত বা 'গাউট' (Gout)-এর মতো সমস্যা দেখা দেয়।

Published on: Jan 16, 2026, 17:19:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় বর্তমানে বহু মানুষ ভুগছেন। শরীরে এই অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে হাড়ের জয়েন্টে অসহ্য যন্ত্রণা, ফোলাভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে গেঁটে বাত বা 'গাউট' (Gout)-এর মতো সমস্যা দেখা দেয়। মূলত আমাদের খাদ্যাভ্যাসে থাকা 'পিউরিন' (Purine) নামক উপাদান ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের চেয়েও বেশি জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে কোন কোন খাবার খেতে নেই? তালিকা জেনে রাখুন
ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে কোন কোন খাবার খেতে নেই? তালিকা জেনে রাখুন

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে কোন কোন খাবার আজই তালিকা থেকে বাদ দেবেন?

ইউরিক অ্যাসিডের লাগাম টানুন: কোন খাবারগুলো আপনার জন্য বিষ?

চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ পিউরিন যুক্ত খাবার রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিচে দেওয়া ৩ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি:

১. রেড মিট এবং অর্গান মিট

খাসির মাংস বা রেড মিট ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। এছাড়া পশুর কলিজা (Liver), মগজ বা কিডনি জাতীয় মাংসে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। এগুলো খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পায়ের আঙুল বা গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।

২. সামুদ্রিক মাছ ও কিছু বিশেষ মাছ

সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও ইউরিক অ্যাসিড থাকলে কিছু মাছ এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন—ইলিশ, চিংড়ি, সার্ডিন, ম্যাকেরেল এবং টুনা মাছ। এই মাছগুলোতে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকে। এর বদলে আপনি মাঝেমধ্যে ছোট নদীর মাছ বা রুই-কাতলা খেতে পারেন।

৩. চিনিযুক্ত পানীয় ও ফ্রুক্টোজ

সোডা, কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং প্যাকেটজাত ফলের রসে প্রচুর পরিমাণে 'ফ্রুক্টোজ' থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রুক্টোজ শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া কৃত্রিম চিনি দেওয়া মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা-কফি খাওয়াও এই রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

৪. নির্দিষ্ট কিছু সবজি ও ডাল

শাকসবজি সাধারণত উপকারী হলেও পালং শাক, পুঁই শাক, ফুলকপি এবং মাশরুমে মাঝারি মাত্রায় পিউরিন থাকে। এছাড়া মুসুর ডাল বা বিউলির ডাল অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ব্যথা বাড়তে পারে। তবে এগুলো পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

৫. অ্যালকোহল ও ধূমপান

বিয়ার বা অন্যান্য অ্যালকোহল শরীরে জলশূন্যতা তৈরি করে এবং ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। ফলে কিডনি এই অ্যাসিড শরীর থেকে বের করতে পারে না এবং তা হাড়ের সন্ধিস্থলে জমা হতে থাকে।

ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কী খাবেন?

  • প্রচুর জল: দিনে ৩-৪ লিটার জল পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায়।
  • ভিটামিন সি: লেবু, আমলকী বা টক জাতীয় ফল ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
  • কলা ও চেরি ফল: পটাশিয়াম সমৃদ্ধ কলা এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত চেরি ফল ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

ইউরিক অ্যাসিড কোনো সারাজীবনের রোগ নয়, বরং এটি একটি জীবনযাত্রার ভারসাম্যহীনতা। সঠিক ডায়েট এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারেন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More