গলা ও ঘাড়ের কোন লক্ষণগুলি ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়? জেনে নিন, কখন সাবধান হতেই হবে
গলা এবং ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা সাধারণ সমস্যা ভেবে লক্ষণগুলোকে অবহেলা করি। একটু সচেতনতা আর সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ অকাল মৃত্যু রুখে দিতে পারে।
ক্যানসার এমন একটি ব্যাধি যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তবে গলা এবং ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা সাধারণ সমস্যা ভেবে লক্ষণগুলোকে অবহেলা করি। একটু সচেতনতা আর সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ অকাল মৃত্যু রুখে দিতে পারে।

গলা ও ঘাড়ের ক্যানসারের সতর্ক সংকেত এবং কখন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া জরুরি, জেনে নিন।
অবহেলা নয়! গলা ও ঘাড়ের এই ৫টি লক্ষণ ক্যানসারের সংকেত হতে পারে
গলা বা ঘাড়ের ক্যানসার (Head and Neck Cancer) সাধারণত মুখগহ্বর, কণ্ঠনালি বা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে শুরু হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো:
১. গলায় দীর্ঘস্থায়ী পিণ্ড বা ফোলা ভাব (Painless Lump)
ঘাড়ের একপাশে বা গলার নিচে কোনো ফোলা ভাব যা ব্যথাহীন এবং দিন দিন বড় হচ্ছে, তা ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়। যদি কোনো পিণ্ড ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ দেখান।
২. স্বরভঙ্গ বা গলার স্বরের পরিবর্তন (Hoarseness)
আপনার গলার স্বর কি হঠাৎ বসে গেছে বা কর্কশ হয়ে গেছে? ঠান্ডা না লাগা সত্ত্বেও যদি দুই সপ্তাহের বেশি গলার স্বর পরিবর্তিত থাকে, তবে তা ল্যারিনজিয়াল বা কণ্ঠনালির ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. গিলতে অসুবিধা বা ব্যথা (Dysphagia)
খাবার খাওয়ার সময় গলার ভেতর আটকে যাওয়ার অনুভূতি বা কোনো কিছু গিলতে গেলে যদি কানে বা গলায় তীব্র ব্যথা হয়, তবে তা বিপজ্জনক। অনেক সময় গলার ভেতর ঘা বা টিউমার হলে এমন সমস্যা দেখা দেয়।
৪. মুখে বা গলার ভেতরে সাদা-লাল ছোপ
মুখের ভেতর বা গলার দেওয়ালে সাদা (Leukoplakia) অথবা লাল রঙের (Erythroplakia) কোনো ছোপ যা ঘষলে ওঠে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা ক্যানসারপূর্ব অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা তামাক বা সুপারি সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।
৫. অবিরাম কাশি ও কানে ব্যথা
যক্ষ্মা বা সাধারণ ইনফেকশন ছাড়াও ক্যানসারের কারণে দীর্ঘদিন কাশি হতে পারে। অনেক সময় গলার টিউমার কানের স্নায়ুর ওপর চাপ দেয়, ফলে গলায় সমস্যার পাশাপাশি কানেও ব্যথা অনুভূত হয়।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
- যদি ঘাড়ের ফোলা অংশটি শক্ত হয়ে যায় এবং নড়াচড়া না করে।
- কাশির সঙ্গে রক্ত বের হলে।
- হঠাৎ করে ওজন কমে গেলে এবং সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করলে।
- গলার ভেতরে কোনো পিণ্ড বা বাইরের কোনো ফোলা অংশ দ্রুত বৃদ্ধি পেলে।
প্রতিকার ও প্রতিরোধ
তামাকজাত দ্রব্য (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, খৈনি) বর্জন করাই এই ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাবার গ্রহণ করা জরুরি। মনে রাখবেন, শুরুতে ধরা পড়লে ঘাড় ও গলার ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
E-Paper











