এই ফলটিকে বলে 'প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা'! সঙ্গমের ইচ্ছা কমে গিয়ে থাকলে খেতে পারেন, যৌনশক্তি ফিরে আসবে
একটি ফল সঙ্গমের ইচ্ছা ফিরিয়ে আনতে পারে। বাড়িতে দিতে পারে লিবিডো বা যৌনচাহিদা। এই ফলটি কী জানেন?
বয়স বাড়লে অনেক পুরুষেরই যৌনশক্তি এবং সঙ্গমের ইচ্ছা কমতে থাকে। এর কারণ হরমোনের ভারসাম্যে বদল। এই অবস্থায় একটি ফল সঙ্গমের ইচ্ছা ফিরিয়ে আনতে পারে। বাড়িতে দিতে পারে লিবিডো বা যৌনচাহিদা। এই ফলটি কী জানেন? এটি হল তরমুজ। তবে এটি খাওয়ার আগে মনে রাখতে হবে কয়েকটি কথা।

গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, শরীরের ক্লান্তিও দূর করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, স্বাস্থ্য সচেতন মহলে তরমুজকে 'প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা' (Nature's Viagra) বলা হয়? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, তরমুজের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পুরুষের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং লিবিডো উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তরমুজ কি সত্যিই অ্যাফ্রোদিসিয়াক বা কামোদ্দীপক হিসেবে কাজ করে? এই বিষয়ে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জেনে নিনয
যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতিতে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ কেবল ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর একটি ফল নয়, বরং এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করার মাধ্যমে যৌন সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
১. সিট্রুলাইন (Citrulline): গোপন জাদুর কাঠি
তরমুজের যৌনক্ষমতা বাড়ানোর গুণের নেপথ্যে রয়েছে সিট্রুলাইন নামক এক প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড। যখন আমরা তরমুজ খাই, তখন শরীরের ভেতরে এই সিট্রুলাইন পরিবর্তিত হয়ে আর্জিনিন (Arginine) নামক অন্য একটি অ্যামিনো অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। এই আর্জিনিন শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) তৈরিতে সাহায্য করে।
নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীগুলোকে শিথিল বা প্রসারিত করে, যার ফলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ঠিক এই পদ্ধতিতেই ভায়াগ্রার মতো ওষুধগুলো কাজ করে থাকে। পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন পুরুষদের লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা (Erectile Dysfunction) সমাধানে সাহায্য করে।
২. লিবিডো বা যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি
তরমুজে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং লাইকোপিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি কেবল প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিই কমায় না, বরং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। চাপমুক্ত মন এবং উন্নত রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিকভাবেই যৌন ইচ্ছা বা লিবিডো বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৩. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও স্ট্যামিনা
যৌন সক্ষমতা সরাসরি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত। তরমুজে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। একটি সুস্থ হৃদপিণ্ড মানেই দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা বা স্ট্যামিনা বৃদ্ধি। নিয়মিত তরমুজ খেলে রক্তনালীর নমনীয়তা বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদী যৌন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৪. তরমুজের কোন অংশটি বেশি কার্যকর?
অনেকেই তরমুজের লাল অংশটুকু খেয়ে সাদা অংশটি ফেলে দেন। কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, সিট্রুলাইনের ঘনত্ব তরমুজের লাল অংশের চেয়ে খোসার ঠিক ভেতরের সাদা অংশে বেশি থাকে। তাই সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে হলে সামান্য সাদা অংশসহ তরমুজ খাওয়া ভালো।
এটি কি ওষুধের বিকল্প?
তরমুজ ভায়াগ্রার মতো কাজ করলেও এটি কোনো ওষুধের তাৎক্ষণিক বিকল্প নয়। ওষুধ যেমন দ্রুত কাজ করে, তরমুজ তেমনটা করে না। এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়, যা দীর্ঘমেয়াদে এবং নিয়মিত খেলে সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া এর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
তরমুজ অবশ্যই একটি শক্তিশালী অ্যাফ্রোদিসিয়াক খাবার। এটি সস্তা, সুস্বাদু এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। তবে মনে রাখবেন, কেবল তরমুজ খেলেই হবে না; এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান বর্জন করাও সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অপরিহার্য। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তরমুজ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


